শিরোনাম
◈ মি‌ডিয়ার বিরু‌দ্ধে এমন সিদ্ধান্ত কে‌নো? বিসিবির কোন নিরাপত্তা ব্যাহত হয়েছে, জানতে চান সাংবাদিকেরা  ◈ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্বাচনের ৩ দিন আগে শুল্ক চুক্তি করবে অন্তর্বর্তী সরকার ◈ রাজশাহীতে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে মায়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ◈ কুখ্যাত এপস্টেইন নথিতে বাংলাদেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ◈ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা কেন শঙ্কিত? ◈ জানুয়ারিতে রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড, এলো ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার ◈ কুৎসা রটিয়ে, বিভ্রান্তি ছড়িয়ে এবং ধাপ্পা দিয়ে জনগণের ভোট নেওয়া যায় না : মির্জা আব্বাস  ◈ প্রতারক চক্রের ফোনকলে সাড়া না দিতে নির্বাচন কমিশনের আহ্বান ◈ কিশোরগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে দালালচক্রের বিরুদ্ধে র‍্যাবের অভিযান, ২০ জনের কারাদণ্ড ◈ নোয়াখালীতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর

প্রকাশিত : ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৫:৪৩ বিকাল
আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নির্বাচনী প্রচারণার সামগ্রিক চিত্র খুবই ইতিবাচক: ড. ইউনূস

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে ইউরোপিয়ান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (ইউরোচ্যাম) চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ
আসন্ন সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠানোর ইইউ-এর সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপীয় চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (ইউরোচ্যাম)-এর চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন। 

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের এখানে উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমাদের গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে একটি বড় আস্থার প্রতীক।’ 

এ সময় তিনি আরও যোগ করেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণার সামগ্রিক চিত্র খুবই ইতিবাচক।’

বৈঠকে সরকারের এসডিজি সমন্বয়ক ও জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোরশেদও উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে দ্রুত ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) আলোচনা শুরুর আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক। তিনি বলেন, আগামী কয়েক বছরে বর্তমান শুল্কমুক্ত সুবিধার মেয়াদ শেষ হলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজারে বাণিজ্য সুবিধা সুরক্ষিত রাখা জরুরি।

আলোচনায় বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করা, বাংলাদেশ ও ইইউ’র মধ্যে নির্বিঘ্ন বাণিজ্য সম্পর্ক নিশ্চিত করা এবং দেশের ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে আরও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মতবিনিময় হয়।

এছাড়া আসন্ন নির্বাচন এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মোতায়েন নিয়েও আলোচনা হয়।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার সম্প্রতি জাপানের সঙ্গে একটি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্পন্ন করেছে, যার ফলে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩০০-এর বেশি পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে।

তিনি আরও জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে অনুরূপ আলোচনা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ, যাতে বিশেষ করে তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশের পণ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ইইউ বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা বজায় রাখা যায়।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘জাপানের সঙ্গে ইপিএ আমাদের জন্য নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। এটি আমাদের রপ্তানি পণ্যের জন্য নতুন আশার সঞ্চার করেছে। আমরা অবশ্যই ইইউ’র সঙ্গে একটি এফটিএ স্বাক্ষরের আশা করি, যাতে আমাদের বাজার আরও সম্প্রসারিত হয়।’ 

ইউরোচ্যাম চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ বলেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর ইইউতে বিদ্যমান বাণিজ্য সুবিধা হারানোর আশঙ্কা থাকায় বাংলাদেশের জরুরি ভিত্তিতে এফটিএ আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘একটি এফটিএ বাংলাদেশে আরও ইউরোপীয় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং উন্নত পশ্চিমা বাজারে রপ্তানি বাড়াবে।’

লোপেজ উল্লেখ করেন, ভারত ইতোমধ্যে ইইউ’র সঙ্গে এফটিএ স্বাক্ষরের পথে রয়েছে এবং ভিয়েতনামের সঙ্গে এমন একটি চুক্তি কার্যকর আছে, যার ফলে এই দুই মধ্যম আয়ের দেশ ইউরোপীয় বাজারে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার পাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি এফটিএ’র পক্ষে জোরালোভাবে কথা বলছি। আমি ইউরোপে গিয়ে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করব।’ 

ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের ধরন পরিবর্তিত হবে, তবে তা ২০২৯ সালের আগে নয়।

তিনি প্রায় ২০ কোটি জনসংখ্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি আনার বিষয়ে ইইউ’র গভীর আগ্রহের কথা তুলে ধরেন এবং ২০২৬ সালে একটি ইইউ-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম আয়োজনের প্রস্তুতির কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই প্রাথমিক রাজনৈতিক বার্তা, যাতে ইইউ কোম্পানিগুলো নিশ্চিত হয় যে তারা এখানে আসতে উৎসাহিত হবে এবং সমান সুযোগ পাবে।’ 

প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশে কারখানা স্থানান্তরের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন এবং বলেন, ‘প্রতিযোগিতামূলক ব্যয়ে দক্ষ শ্রমশক্তির বড় ভাণ্ডার থেকে ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলো লাভবান হতে পারে।’
‘আমরা একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে তুলছি। আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে বৈশ্বিক ব্যবসার জন্য একটি উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করা। আমরা বাংলাদেশে আরও ইউরোপীয় বিনিয়োগ চাই,’ বলেন তিনি।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়