শিরোনাম
◈ বাংলাদেশ ব্যাংক-এর নতুন নির্দেশ: খেলাপি ঋণ ও ঝুঁকি শনাক্তে তদারকি জোরদার ◈ দুই যুদ্ধ এক সুতোয়: ইউক্রেন-ইরান সংঘাতে বাড়ছে বৈশ্বিক ঝুঁকি—গার্ডিয়ান ◈ চাই‌নিজ তাই‌পে‌কে হা‌রি‌য়ে এশিয়ান গেমস হকির বাছাইপর্ব শুরু কর‌লো বাংলাদেশ ◈ সরকারি-বেসরকারি অফিস চলবে অফিস ৯টা–৪টা, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ দোকানপাট- শপিংমল: মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত ◈ মার্চ মাসে রপ্তানি ঘাটতি ২০ শতাংশ ◈ ফুটপাত হকারমুক্ত করতে ঢাকায় ৮ নৈশ মার্কেট চালুর পরিকল্পনা ডিএসসিসির ◈ বিসিবি থে‌কে আরও এক পরিচালক পদত্যাগ করলেন ◈ হরমুজ সংকটে তেল-গ্যাস বাজার অস্থির, বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে: জাতিসংঘ ◈ মূল্যস্ফীতির চাপ, বিনিয়োগে স্থবিরতা—কঠিন বাস্তবতায় আসছে নতুন বাজেট ◈ বিকল্প রুটে জ্বালানি আমদানি, সৌদি আরব থেকে আসছে ১ লাখ টন তেল

প্রকাশিত : ১২ জানুয়ারী, ২০২৬, ১২:২৭ দুপুর
আপডেট : ২৬ মার্চ, ২০২৬, ১০:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ফিলিং স্টেশন-দোকানে ঝুলছে ‘গ্যাস নেই’, চরম বিপাকে গ্রাহকরা

দেশের বাজারে চাহিদার অর্ধেকও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) মিলছে না। তীব্র সংকটের পাশাপাশি থামছে না দাম নিয়ে নৈরাজ্য। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ঋণপত্র (এলসি) খোলার জটিলতায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। আবার কিছু কোম্পানি আমদানি বাড়াতে চাইলেও সময়মতো সরকারি অনুমতি না পাওয়ায় তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন এই সংকট।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রেতাদের অনেক দোকানেই ঝুলছে-‘এলপি গ্যাস নেই’ লেখা নোটিশ।

গ্যাসের তীব্র সংকটের মধ্যেই বাজারে চলছে লাগামহীন দাম বাড়ানোর প্রবণতা। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত দামের প্রায় দ্বিগুণ দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। তাও সব জায়গায় মিলছে না।

ভোক্তাদের অভিযোগ, এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরেও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ কেউ ফোন দিয়েও কোনো সাড়া পাচ্ছেন না।

সরকারি দামে ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৩০০ টাকা হলেও বাজারে এখন ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকা হচ্ছে। অথচ এই বাড়তি দাম নিয়ন্ত্রণে দেখার কেউ নেই। অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, সিলিন্ডার থাকলেও সব বোতল খালি। তাই বাধ্য হয়েই দোকানে ‘গ্যাস নেই’ বোর্ড টানাতে হচ্ছে। সংকটের প্রভাব পড়েছে শুধু বাসা-বাড়ির রান্নাবান্নায় নয়, এলপিজি বা অটোগ্যাসনির্ভর পরিবহন খাতেও। কোথাও অটোগ্যাস স্টেশন বন্ধ, আবার কোথাও দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে গ্যাস নেয়ার জন্য। অনেক চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুরেও গ্যাস পাচ্ছেন না। অটোগ্যাস ব্যবহারকারীরা জানান, দাম বাড়ার পর থেকেই এই সংকট চলছে। কোনো স্টেশনে গেলে লাইন দিয়ে আটকে রাখা হচ্ছে, আবার অনেক জায়গায় জানিয়ে দেয়া হচ্ছে-গ্যাস নেই, স্টেশন বন্ধ। ব্যবসায়ী সমিতির তথ্যমতে, দেশে মাসিক এলপিজির চাহিদা এক লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ মেট্রিক টন। অথচ বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে চাহিদার মাত্র ৪০ শতাংশ।

সাড়ে ৫ কোটি সিলিন্ডারের বিপরীতে মাসে রিফিল হচ্ছে মাত্র সোয়া কোটি। অন্যদিকে যানবাহনে যেখানে মাসিক চাহিদা প্রায় ১৫ হাজার মেট্রিক টন, সেখানে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৪ থেকে ৫ হাজার মেট্রিক টন। খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে জাহাজ সংকট, ঋণপত্র খোলার জটিলতায় একাধিক কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ এবং আমদানি বাড়াতে আবেদন করেও সময়মতো জ্বালানি বিভাগের অনুমতি না পাওয়া-সব মিলিয়েই এই নজিরবিহীন সংকট তৈরি হয়েছে। এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সহ-সভাপতি হুমায়ুন রশীদ বলেন, দেশে মোট ২৮টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত এলপিজি কোম্পানি রয়েছে। এর মধ্যে নিয়মিত আমদানি করতে পারতো সাত থেকে আটটি কোম্পানি।

বাকি ২০টির বেশি কোম্পানি বিভিন্ন জটিলতায় আমদানি করতে পারেনি। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই এ খাতে একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক সহযোগিতা করলে সব কোম্পানি আমদানি করতে পারবে এবং তখন এলপিজিতে উদ্বৃত্ত তৈরি হবে। তবে তীব্র এই সংকটের প্রেক্ষাপটে সরকারের নীতিগত কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আমদানিকারকরা। তাদের আশা, এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে আগামী সপ্তাহ থেকেই ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়