শিরোনাম
◈ ট্রাম্পকে ইরানের নেতাদের ‘হত্যা’র আহ্বান মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের ◈ সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ আজ ◈ ৫০ বছর আগের চুক্তিতে বাংলাদেশের ট্রানজিট চায় নেপাল ◈ ‘নেপালকে বাংলাদেশ হতে দেব না’: প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি ◈ কাশ্মীর সীমান্তে একাধিক পাকিস্তানি ড্রোন শনাক্ত: সর্বোচ্চ সতর্কতায় ভারতীয় বাহিনী ◈ চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ থামছেই না: বাড়ছে আতঙ্ক, ঝুঁকিতে যাত্রীরা ◈ এবার বাংলাদেশের ওপর নজরদারি বাড়াতে নতুন নৌঘাঁটি বানাচ্ছে ভারত ◈ ভিয়েতনামে ২০ বছরের মধ্যে আসিয়ানের সবচেয়ে বড় তেলের মজুত সন্ধান! ◈ কাউন্সিল হ্যা বললে ২য় বিয়েতে স্ত্রীর অনুমতি লাগবে না: হাইকোর্ট (ভিডিও) ◈ এক-দুই দিনের মধ্যে ২০-২৫ আসনে প্রার্থী ঘোষণা দেবে এনসিপি

প্রকাশিত : ১২ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:৪৮ সকাল
আপডেট : ১২ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ থামছেই না: বাড়ছে আতঙ্ক, ঝুঁকিতে যাত্রীরা

ট্রেনে পাথর ছোড়ার ঘটনা থামছেই না, গত এক বছরে এ ধরনের ঘটনায় অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন; সম্প্রতি (গত ৭ জানুয়ারি) কুমিল্লায় সুবর্ণ এক্সপ্রেসে পাথর লেগে চার যাত্রী আহত হয়েছেন, যা এই সমস্যার পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করে এই ঘটনাগুলো প্রায়ই ঘটে, যেখানে চলন্ত ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়, ফলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ও আঘাতের ঝুঁকি বাড়ে। অন্য যে কোনো গণপরিবহনের তুলনায় নিরাপদ হওয়ায় বেশির ভাগ মানুষের পছন্দ ট্রেনে ভ্রমণ। কিন্তু ট্রেনের যাত্রীদের আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে আচমকা চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ। কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কাজ করলেও সহসাই রোধ করা যাচ্ছে না ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা।

রেল সূত্রে জানা যায়, গত পাঁচ বছরে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ২ হাজার ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ফলে দরজা জানালা ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাথরের আঘাতে যাত্রীদের অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন। এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত ঘটেছে।

ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় ২০১৩ সালে চট্টগ্রামে প্রীতি দাশ নামের এক প্রকৌশলী নিহত হওয়ার পর, এ নিয়ে বেশ আলোচনা হয়। নিহত হয় রেলেরই এক (টিটি) পরিদর্শক। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর ট্রেন সুবর্ণ এক্সপ্রেস কুমিল্লার গোমতী ব্রিজ এলাকায় আসলে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে ট্রেনের জানালার গ্লাস ভেঙে চার যাত্রী আহত হয়।

ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়াচ্ছে যাত্রীদের মধ্যে জানতে চাইলে নিয়মিত ট্রেনে যাতায়াত করা কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। মাঝে মধ্যেই ছুটিতে বন্ধুরা মিলে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে বেরিয়ে পড়ি। আরামদায়ক ও নিরাপদ হওয়ায় বেশির ভাগ সময়ই যাওয়া-আসা করা হয় ট্রেনেই। তবে বিভিন্ন সময় দেখি ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় অনেক যাত্রী আহত-নিহত হন। এসব ঘটনা আমাদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক তৈরি করছে।

এদিকে রেলওয়ে আইনের ১২৭ ধারা অনুযায়ী, ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করা হলে সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। তাছাড়া পাথর নিক্ষেপে যদি কারও মৃত্যু হয় তাহলে ৩০২ ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।

রেল সূত্রে আরো জানা যায়, বাংলাদেশে রেলপথের মোট দৈর্ঘ্য ২ হাজার ৯২৯ দশমিক ৫৯ কিলোমিটার। সারা দেশে চলাচলকারী যাত্রীবাহী ট্রেনের সংখ্যা ৩৩২টি এবং সর্বমোট স্টেশন রয়েছে ৪৬০টি। রেলের দুই বিভাগের ২০ জেলার মধ্যে ৭০ থেকে ৭২টি স্থানকে পাথর নিক্ষেপের স্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থান থেকেই পাথর নিক্ষেপের ঘটনাগুলো ঘটছে।

রেল পুলিশের মাঠে কাজ করা এক কর্মকর্তা বলেন, ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা সাধারণত নিরিবিলি এলাকাগুলোতে হয়ে থাকে। দেখা গেছে রেললাইনের আশপাশে যেসব বাড়ি ঘর আছে সেখান থেকে কেউ একজন রেললাইনের পাথর নিয়ে নিক্ষেপ করে দিল। অনেক সময় দুষ্টুমির ছলে অনেকে এ কাজ করে থাকে। একটা ট্রেন ৭০ কিলোমিটার গতিতে চলছে ঐ সময় কেউ একজন পাথর নিক্ষেপ করলে তাকে আর ধরার মতো নজরদারি থাকে না।

পাথর নিক্ষেপের বিষয়ে কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে রেল বিভাগ জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, উপমহাদেশে ১৮৫৩ সালে ট্রেন চালুর পর থেকেই পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে। উন্নত দেশেও এই অপকর্মটি হচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে সমস্যাটি ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ট্রেনের গার্ড, কর্মচারী, যাত্রীও আহত হচ্ছেন। অনেকে চোখ হারিয়েছেন। মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পাথর নিক্ষেপ বন্ধে সচেতনতা তৈরির জন্য আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। পাথর নিক্ষেপ দেখার দায়িত্ব আমাদের আরএনবি, রেল নিরাপত্তা বাহিনী এবং পুলিশের। লিফলেট দিয়ে এবং পাথর নিক্ষেপের স্পট চিহ্নিত করে প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করে ঐ সব এলাকায় দেখানো হচ্ছে এবং মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। তবে প্রচার-প্রচারণা করার কারণে আগে থেকে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা কিছুটা কমেছে। তবে এখন কিছু মাদকাসক্ত আছে যারা এই কাজ করে থাকে। আগে পাথর নিক্ষেপ প্রতিদিনই ঘটতো কোনো না কোনো ট্রেনে। তবে বর্তমানে এটি কিছুটা কমেছে। সূত্র: ইত্তেফাক 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়