শিরোনাম
◈ ইরান যুদ্ধ ঠেকাতে মাঠে চীন-পাকিস্তান, ৫ দফা পরিকল্পনা প্রকাশ ◈ সংবিধান সংশোধনে বিশেষ সংসদীয় কমিটি হচ্ছে ◈ সংবিধান কি মনে করিয়ে দেয় এটা একাত্তরের পরাজয়ের দলিল? প্রশ্ন পার্থের ◈ গাজী আশরাফ লিপুর আনুষ্ঠানিকভাবে দা‌য়িত্ব শেষ হলো, এবার পা‌বেন সম্মাননা ◈ সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ক্যান্সার আক্রান্ত, চিকিৎসার আবেদন করেছেন তার আইনজীবী ◈ বিগত সরকারের দুর্নীতিতে স্থবির স্বাস্থ্যখাত, সেবা উন্নয়নে কাজ করছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ◈ জলবায়ু ট্রাস্টের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে : পরিবেশ মন্ত্রী ◈ সেবা না পেয়ে বেশ কিছু শিশু মারা গেছে, বাংলাদেশের হাসপাতালে আইসিইউ এবং ভেন্টিলেশন সেবা কতটা আছে?  ◈ জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে সুখবর ◈ স্কুল চলাকালীন যানজট নিরসনে বিকল্প খুঁজতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত : ৩১ মার্চ, ২০২৬, ১২:৩৬ দুপুর
আপডেট : ০১ এপ্রিল, ২০২৬, ০১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে নিজের স্ত্রীকে দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক!

‘অরক্ষিত’ অবস্থায় থাকা স্ত্রীকে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করেছেন সুইডিশ এক নাগরিক। সুইডেনের এক প্রসিকিউটর সোমবার ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন। তার তার বিরুদ্ধে গুরুতর দালালি, একাধিক ধর্ষণ এবং নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় ১২০ জন পুরুষ জড়িত বলে জানা গেছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় সুইডেনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এর সঙ্গে ফ্রান্সের গিজেল পেলিকোর ঘটনার তুলনা করেছেন। ফ্রান্সে গিজেল পেলিকোর স্বামী ডমিনিক পেলিকোকে ২০২৪ সালে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। তিনি স্বীকার করেন যে, তিনি তার স্ত্রীকে নিয়মিত মাদক খাইয়ে অচেতন অবস্থায় বহু পুরুষকে দিয়ে ধর্ষণ করাতেন।

ওদিকে ৬২ বছর বয়সী সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে তার স্ত্রী গত অক্টোবর মাসে উত্তর সুইডেনে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। ফলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি আটক রয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রীকে ‘যৌন কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে ও তা মেনে নিতে’ চাপ দিয়ে অর্থ উপার্জন করছিলেন।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিতেন, সাক্ষাতের ব্যবস্থা করতেন, পাহারার দায়িত্ব নিতেন এবং আরও গ্রাহক আকৃষ্ট করতে স্ত্রীকে অনলাইনে যৌন কর্মকাণ্ডে বাধ্য করতেন। এছাড়া তিনি সহিংসতা ও হুমকি ব্যবহার করেছেন, স্ত্রীর মাদকাসক্তির সুযোগ নিয়েছেন এবং তাকে মাদকও সরবরাহ করেছেন। প্রসিকিউটর এই ঘটনাকে ‘নির্মম শোষণ’ বলে উল্লেখ করেছেন।

সুইডেনে যৌনকর্ম বিক্রি করা আইনত বৈধ হলেও যৌনসেবা কেনা নিষিদ্ধ। একইসঙ্গে যৌনকর্ম পরিচালনা বা সহায়তা করাও বেআইনি। গুরুতর দালালির পাশাপাশি ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আটটি ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ঘটনায় একজন গ্রাহকের সঙ্গে ধর্ষণ এবং কয়েকটি ঘটনায় তাকে অনলাইনে নিজেকে দিয়ে যৌন কর্মকাণ্ড করাতে বাধ্য করা হয়।

প্রসিকিউটর ইডা আননারস্টেড এএফপি’কে বলেন, ওই নারী ‘কিছুটা হলেও’ যৌনসেবা দিতে সম্মত ছিলেন। তবে তিনি ছিলেন অরক্ষিত অবস্থায়। তবে ওই নারী নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি বা পরিস্থিতিতে যৌনসেবা দিতে আপত্তি জানিয়েছিলেন। আননারস্টেড বলেন, তার কিছু সীমা ছিল। যখন সে ‘না’ বলেছে এবং সেটিকে অগ্রাহ্য করে তাকে বাধ্য করা হয়েছে, সেই ঘটনাগুলোতেই ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এছাড়া অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চারটি ধর্ষণের চেষ্টা এবং চারটি হামলার অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি তার স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতেন। যার মধ্যে ‘দানবকে ছেড়ে দেওয়ার’ মতো কথাও ছিল। এসব ঘটনা ২০২২ সালের ১১ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবরের মধ্যে ঘটেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে ১৩ এপ্রিল।

আননারস্টেড জানান, তদন্তে প্রায় ১২০ জন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তারা যৌনসেবা কিনেছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২৬ জনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে অভিযোগ আনা হয়েছে এবং বাকিদের তদন্ত চলছে। ভুক্তভোগী নারীর আইনজীবী সিলভিয়া ইংগলফসডত্তির বলেন, তার মক্কেল ‘গুরুতর ও জঘন্য অপরাধের’ শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি এখন ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা করছেন।

সুইডেনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম এসভিটি জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি আগে হেলস অ্যাঞ্জেলস মোটরসাইকেল গোষ্ঠীর উচ্চপদস্থ সদস্য ছিলেন। এই ঘটনা সুইডেনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সুইডেনের লিঙ্গ সমতা বিষয়ক মন্ত্রী নিনা লারসন ফেব্রুয়ারিতে বলেন, পুরুষদের ‘নারীদের দেহ কেনাবেচা বন্ধ করতে হবে।’ তিনি এক্সে লিখেছেন, তথাকথিত ‘সুইডিশ পেলিকো কেস’ নিয়ে সংবাদগুলো ভয়াবহ এবং ঘৃণ্য।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়