শিরোনাম
◈ ৩০ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত এডিপি অনুমোদন ◈ এলপিজি আমদানিকারকদের জন্য সহজ হলো ঋণ সুবিধা ◈ জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানি শুরু ◈ নিজেকে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করলেন ট্রাম্প ◈ গণভোট প্রচারণার দায়িত্ব বিএনপির নয়: মির্জা ফখরুল (ভিডিও) ◈ পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও ছিল তাদের, যে কারণে খুন হন বনশ্রীর সেই শিক্ষার্থী ◈ তারেক রহমানের নির্দেশে যেসব ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী সরে দাঁড়ালেন ◈ ফিলিং স্টেশন-দোকানে ঝুলছে ‘গ্যাস নেই’, চরম বিপাকে গ্রাহকরা ◈ ৬৬টি আন্তর্জা‌তিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট সরে যাওয়ার কারণে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলা‌দেশ ◈ বিক্ষোভ ছড়িয়ে ক্ষমতায় আসতে চান ইরানের যে নির্বাসিত নেতা

প্রকাশিত : ১২ জানুয়ারী, ২০২৬, ০১:২৯ দুপুর
আপডেট : ১২ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৩:০৬ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও ছিল তাদের, যে কারণে খুন হন বনশ্রীর সেই শিক্ষার্থী

র‍্যাব এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে মিলনের সুসম্পর্ক ছিল। পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও ছিল তাদের। তবে শেষ পর্যন্ত না যাওয়ায় এই হত্যা করেছে মিলন।

রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীতে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার লিলিকে হত্যার মামলার প্রধান আসামি হোটেল কর্মচারী মিলন মল্লিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার সকালে র‍্যাব এক বার্তায় মিলনকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছে। পরে তাঁকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে এই হত্যার কারণ জেনেছে র‍্যাব।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামি মো. মিলন মল্লিক জানায়– ভুক্তভোগীর সাথে তার সুসম্পর্ক ছিল। লিলি তাকে বিভিন্ন সময় আকার ইঙ্গিতে প্রেমের সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ করত এবং তার পরিবার বাসা থেকে গ্রামের বাড়িতে গেলে সে তার সাথে পালিয়ে যাবে বলে জানায়।

মিলন র‍্যাবকে জানায়, সেই পরিকল্পনা অনুসারে ঘটনার দিন দুপুরে মিলন লিলিকে নিয়ে পালিয়ে যেতে প্রস্তাব দেয়। কিন্তু লিলি জানায়, রেস্তোরাঁ মালিকের মেয়ে হয়ে রেস্তোঁরা কর্মচারীর সাথে সে যাবে না এবং সে বলে–‘বামন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়াও’।

র‍্যাব জানায়, তখন মিলনের এই প্রস্তাবে সহযোগিতা না করার জন্য সে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য আরও জিজ্ঞাসা বদে ও পরবর্তী তদন্তে বেরিয়ে আসবে।

এরআগে শনিবার দুপুরে দক্ষিণ বনশ্রীর ‘প্রীতম ভিলা’ নামের একটি বাসায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত লিলি (১৭) স্থানীয় রেডিয়েন্ট স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল। সে হবিগঞ্জ জেলার লাখাই থানার বামৈন গ্রামের সজীব মিয়ার মেয়ে।

ওই হত্যার ঘটনায় রোববার সকালে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়। খিলগাঁও থানা পুলিশ জানায়, খিলগাঁও থানার হত্যা মামলায় নিহতের পরিবারের হোটেল কর্মচারী মিলনকে প্রধান আসামি করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ শনিবার বিকেলের দিকে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। লিলি আক্তার নামের ওই তরুণীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। ঠিক কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রহস্য উদঘাটনে আমরা কাজ করছি।’

নিহতের বড় বোন সোভা হোটেলের কর্মচারী মিলনের ওপর সন্দেহের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘আমাদের একটি খাবারের হোটেল আছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে হোটেলের কর্মচারী মিলন খাবার নেওয়ার জন্য আমাদের বাসায় আসে। এত রাতে বাসায় আসা নিয়ে লিলি তাঁর সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ায়। শনিবার দুপুরেও মিলন খাবার নিতে বাসায় এসেছিল। তবে তাঁর আচরণ একটু অন্যরকম মনে হয়েছে।’

সোভা আরও বলেন, ‘দুপুর দেড়টার দিকে আমি জিমের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হই। যাওয়ার সময় লিলিকে দরজা লক করে দিতে বলি। তখন ওই কর্মচারী মিলনও বাসা থেকে বের হয়েছিল। কিন্তু সে রাস্তা পার হয়ে চলে গিয়েছিল কি না, তা আমি দেখিনি।’

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সোভা বলেন, ‘আমি বাসা থেকে ফেরার পর ধাক্কা দিয়ে দেখি দরজা খোলা। ভেতরে সবকিছু এলোমেলো। আমার বোনকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখি। প্রথমে ভেবেছিলাম সে হয়তো কোনোভাবে আঘাত পেয়েছে। বাড়িওয়ালাকে ডাকলে তাঁরা হাসপাতালে নিতে সহযোগিতা করেননি। পরে এক বন্ধুর মাধ্যমে লিলিকে বনশ্রীর ফরাজী হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে হিজাব খুলে দেখি তাঁর গলায় রশি পেঁচানো এবং গলা কাটা।’ সূত্র: ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়