শিরোনাম
◈ তৃতীয় দফায় মিসাইল ছুড়ল ইরান, ইসরায়েলজুড়ে বাজলো সাইরেন ◈ জ্বালানি সংকট সামাল দিতে দ্বিগুণ দামে এলএনজি কিনল সরকার ◈ উপসাগরে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা: ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে রাশিয়া  ◈ জ্বালানি, রপ্তানি ও রেমিট্যান্স—যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে অর্থনৈতিক ঝুঁকি ◈ ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা পাচ্ছেন খালেদা জিয়া ◈ জ্বালানি তেল পাচার রোধে বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির নিরাপত্তা জোরদার ◈ আমার ফ্ল্যাট থেকে কয়েক কদম দূরেই ‘যমুনা’, যেখানে ঘটেছে অসংখ্য নাটকীয় ঘটনা: শফিকুল আলম ◈ ঈদকে সামনে রেখে এলিফ্যান্ট রোড ও নিউমার্কেটে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় ◈ ইরান–সংঘাত থামাতে কিছু দেশের মধ্যস্থতার চেষ্টা: পেজেশকিয়ান ◈ জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে আতঙ্ক, যে বার্তা দিলেন জ্বালানিমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত : ০৭ মার্চ, ২০২৬, ১২:৩১ রাত
আপডেট : ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০৮:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভবিষ্যদ্বাণী ঘিরে নতুন বিতর্ক: জিয়াং ও বাবা ভাঙ্গার কথায় কী আছে

মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে নিজের কিছু ভবিষ্যদ্বাণীর জন্য আলোচনায় এসেছেন ইউটিউব চ্যানেল ‘প্রেডিক্টিভ হিস্ট্রির’ সঞ্চালক অধ্যাপক জুয়েকিন জিয়াং। প্রথম দুটি মিলে যাওয়া এই অধ্যাপকের তৃতীয় ভবিষ্যদ্বাণী হলো, চলমান যুদ্ধে ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হেরে যাবে। এদিকে বুলগেরিয়ার অন্ধ রহস্যময় ভবিষ্যৎদ্রষ্টা বাবা ভাঙ্গার একাধিক ভবিষ্যদ্বাণীকে ঘিরে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। তার একটি ভবিষ্যৎবাণীতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে বিশ্বের বিভিন্ন মহাদেশ জুড়ে বড় ধরনের যুদ্ধ ও বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন ঘটতে পারে।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়, চীনা বংশোদ্ভূত এই কানাডীয় শিক্ষাবিদ ২০২৪ সালে একটি অনলাইন লেকচারের সময় এসব ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, যেটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

তার ভবিষ্যদ্বাণীর প্রথমটি ছিল, ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ক্ষমতায় ফিরবেন; দ্বিতীয়টি ছিল তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াবেন।

তার এই দুটি ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হয়েছে, তাই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা তাকে ‘চীনা জ্যোতিষী’ বলে ডাকতে শুরু করেছেন।

কে এই জিয়াং জুয়েকিন?

বেইজিংয়ে দর্শন ও ইতিহাস পড়ান এই অধ্যাপক। ইয়েল কলেজ থেকে স্নাতক করা এই শিক্ষক কর্মজীবনের বেশির ভাগ সময় কাটিয়েছেন চীনে শিক্ষা সংস্কার এবং পাঠ্যক্রম প্রণয়নের কাজে।

এর বাইরে জিয়াং তার ইউটিউব প্রজেক্ট ‘প্রেডিক্টিভ হিস্ট্রির’ মাধ্যমে অনলাইনে বড় একটি অনুসারী তৈরি করেছেন।

নিজের লেকচারগুলোতে তিনি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, ভূ-রাজনৈতিক প্রণোদনা এবং গেম থিওরি বিশ্লেষণের মাধ্যমে বৈশ্বিক ঘটনাবলীর আভাস দেওয়ার চেষ্টা করেন।

তার পদ্ধতিটি মূলত আইজ্যাক আসিমভের ‘ফাউন্ডেশন’ উপন্যাসের কাল্পনিক ‘সাইকোহিস্ট্রি’ দ্বারা অনুপ্রাণিত, যেখানে দীর্ঘমেয়াদি ঐতিহাসিক ধরন ব্যবহার করে ভবিষ্যতের আভাস দেওয়া হয়।

২০২৪ সালের মে মাসে রেকর্ড করা ওই লেকচারে জিয়াং যুক্তি দিয়েছিলেন, ট্রাম্প যদি ক্ষমতায় ফিরে আসেন, তবে ভূ-রাজনৈতিক চাপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

তিনি বলেছিলেন, এ ধরনের সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিপর্যয়কর হতে পারে।

যুক্তি হিসেবে তিনি বলেন, ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান এবং জনসংখ্যা যেকোনো দীর্ঘস্থায়ী দখলদারিত্বকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলবে।

এদিকে সংবাদমাধ্যম মিরোর বুলগেরিয়ার অন্ধ রহস্যময় ভবিষ্যৎদ্রষ্টা বাবা ভাঙ্গাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। 

‘বালকানের নস্ত্রাদামুস’ নামে পরিচিত বাবা ভাঙ্গা অতীতে প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যুসহ বেশ কিছু ঘটনার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়। যদিও ২০২৬ সাল নিয়ে তার ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর সত্যতা এখনও যাচাই করা যায়নি।

কিছু ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে সংঘাত শুরু হতে পারে এবং তা একাধিক মহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে চীন তাইওয়ানকে নিজের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি সংঘাতের সম্ভাবনাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া ২০২৬ সালে বড় ধরনের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা বা আর্থিক বিপর্যয়ের কথাও বলা হয়েছে। এর ফলে বাজার ধস, উচ্চ মূল্যস্ফীতি বা মুদ্রার মূল্য পতনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

আরেকটি ভবিষ্যদ্বাণীতে রাশিয়ায় নতুন এক নেতার উত্থানের কথা বলা হয়েছে, যা বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়েও সতর্ক করেছিলেন বাবা ভাঙ্গা। তার ভবিষ্যৎবাণীতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমিকম্প, সুনামি, টর্নেডো এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মতো বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটতে পারে।

এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানুষের জীবন ও শিল্পক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে বলেও তিনি উল্লেখ করেছিলেন। এতে অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ভবিষ্যতে মানুষের জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআইয়ের প্রভাব আরও বেড়ে যেতে পারে।

বাবা ভাঙ্গার আরেকটি বিতর্কিত ভবিষ্যদ্বাণীতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের নভেম্বরে মানুষের সঙ্গে ভিনগ্রহের বুদ্ধিমান প্রাণীর প্রথম যোগাযোগ ঘটতে পারে। তার মতে, সে সময় একটি বড় মহাকাশযান পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে পারে। উৎস: যুগান্তর।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়