পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিরাজোতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে তমিজ উদ্দিন নামের এক বয়স্ক বাংলাদেশি আটকের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবারের এই ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর প্রতিবাদ ও আটককে ফিরিয়ে আনার দাবিতে ভারতের জলপাইগুড়ির এক নাগরিককে ধরে এনে আটকে রেখেছেন স্থানীয় লোকজন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিবি ৫৬ নম্বর ব্যাটালিয়ন (নীলফামারী ব্যাটালিয়ন)-এর অধিনায়ক বা কমান্ডিং অফিসার (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাইফুর হাসান মাহমুদ বলেন, সীমান্তের বাংলাদেশি নাগরিককে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্থানীয়রা আমাদেরকে জানায়নি। তবে এক ভারতীয় নাগরিককে নিয়ে আসলে বিএসএফ বিষয়টি আমাদেরকে জানায়। পরে আমরা স্থানীয়দের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানায় এক বাংলাদেশী বৃদ্ধকে গত বুধবার বিএসএফ ধরে নিয়ে যায়। এ ঘটনার বিপরীতে এক ভারতীয় নাগরীককে ধরে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে বিএসএফ জানিয়েছে বাংলাদেশী নাগরিককে সীমান্তের কাঁটাতার কাঁটার অপরাধে ধরে নিয়ে আসা হয়। পরে তাঁকে পুলিশে হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। বিজিবি জানায় ওই সীমান্ত গ্রামে বর্তমানে স্থানীয়দের কাছেই রয়েছে ভারতীয় নাগরিক দীপংকর । পুলিশ, বিজিবি, গ্রাম পুলিশ, স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি, বিএনপি নেতা কর্মী, স্থানীয় সাধারণ মানুষ ওই গ্রামে অবস্থান করছেন। দীপঙ্কর গোপকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার আহ্বান জানালে স্থানীয়রা তমিজ উদ্দিনকে ফিরিয়ে দেবার দাবি জানান। ভারতে আটকে থাকা বৃদ্ধ তমিজ উদ্দীনকে ফিরিয়ে দিলেই তারা দীপঙ্কর গোপকে পুলিশের হাতে তুলে দেবেন। সরকারের অনেক বাহিনী এবং স্থানীয় অধিবাসীরা দীপঙ্কর গোপের নিরাপত্তায় সজাগ রয়েছেন। তিনি ভালো আছেন।
জানা গেছে, গত বুধবার সকালে সাতমেরা ইউনিয়নের বিরাজোত এলাকার বাসিন্দা ৭৮ বছর বয়সী তমিজ উদ্দিন সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় গরুর ঘাস খাওয়াতে যান। এ সময় তাঁর একটি গরু দলছুট হয়ে ভারতের ভূখণ্ডে চলে গেলে, সেটি ফিরিয়ে আনতে গিয়ে তিনি নিজেও সীমান্ত পার হয়ে ওপারে পড়েন। পরিবারের দাবি, বয়স্ক ও কানে কম শোনা তমিজ উদ্দিনকে এরপর বিএসএফ ধরে নিয়ে যায়। ঘটনার পর বিষয়টি বিজিবির অমরখানা বিওপির সদস্যদের জানানো হলেও তিন দিনেও তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি।
এদিকে বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত না দেওয়ায় শনিবার সকালে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিরাজোত সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেন। আটক হওয়া ওই ব্যক্তির নাম দীপঙ্কর গোপ। তিনি ভারতের জলপাইগুড়ির চাউলহাটি-তসরপাড়া এলাকার মিশ্রিলাল গোপের ছেলে এবং পেশায় চা-বাগানের শ্রমিক।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, দীপঙ্কর সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকে একটি আখখেতে আখ খাওয়ার সময় তাঁকে ধরে গ্রামে নিয়ে আসা হয়। তমিজ উদ্দিনকে অক্ষত অবস্থায় ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত এই ভারতীয় নাগরিককে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্থানীয়রা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শনিবার বিকেলে মাগুরমারী সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও তাতে কোনো সমাধান আসেনি। তমিজ উদ্দিনের ছেলে আজাহার আলী হতাশা প্রকাশ করে জানান, তাঁর বাবা বয়স্ক ও অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা ধরে নিয়ে গেছে। বাবাকে ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত আটক ভারতীয় নাগরিককেও ছাড়া হবে না বলে জানান তিনি। উৎস: বিডি-প্রতিদিন।