নোয়াখালী সদরের মামুন। সৌদি আরবের রিয়াদে একটি কোম্পানির লরি চালান। গত দুই মাস আগে ৫ বছরের প্রবাস জীবনে প্রথম দেশে আসেন। গত ১১ অক্টোবর তার রিয়াদে ফিরতি ফ্লাইট ছিল। কিন্তু সেটি বাতিল হয়ে যায়। তারপর ১২ তারিখও ফ্লাইটের টিকিট করেছিলেন। সেটিও বাতিল হয়ে যায়। মাত্র ৫ দিন ভিসার মেয়াদ থাকায় টেনশনে পড়ে যান মামুন। অবশেষে আজ ১৫ অক্টোবর মদিনার ফ্লাইটের টিকিট পান। যুদ্ধ আতঙ্ক থাকলেও তিনি যে শেষ পর্যন্ত সৌদি আরব যেতে পারছেন তাতেই খুশি তিনি।
মামুনের সঙ্গে কথা হয় বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালে। তিনি বলেন, ভিসার মেয়াদ শেষ। যেতেও পারছি না। অনেক টেনশনে ছিলাম। অবশেষে মদিনা হয়ে যেতে পারছি।
মামুন বলেন, অনেক হয়রানি হতে হলো। এখন মদিনাতে আরেক হয়রানি অপেক্ষা করছে। মদিনা থেকে রিয়াদ যেতে বাসে সময় লাগবে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা। সেখানেও হয়রানির সঙ্গে খরচও আছে। আমাদের করার কিছু নেই। যেতেই হবে। এ কারণে অতিরিক্ত টাকা খরচ, ঝুঁকি সব মেনেই যাচ্ছি। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।
এ রকম হয়রানির শিকার মানিকগঞ্জের পারভেজ। তিনি বলেন, আমরা অনেক হয়রানি হলাম। একের পর এক ফ্লাইট বাতিল। মনে হচ্ছিল যেতেই পারবে না। কিন্তু মদিনা হয়ে যেতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমার ভিসার মেয়াদ ৭ দিনের মতো আছে। কিন্তু এখনই যাচ্ছি, কারণ আবারও যদি সমস্যা হয়। আমরা জানি আতঙ্ক আছে, কিন্তু করার কিছু নাই। যেতেই হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের আলামিন বলেন, রিয়াদ, দাম্মাম সব ফ্লাইট বাতিল। কবে চালু হবে কেউ জানে না। ভিসার মেয়াদও শেষ। এখন আমরা কী করবো! বাধ্য হয়ে মদিনা হয়ে যাচ্ছি। মদিনায় যাওয়ার পর সেখান থেকে রিয়াদ যাবো। সেখানেও ১৪ ঘণ্টা লাগবে। সরাসরি হলে এই ঝামেলা থাকতো না। কিন্তু আমরা কি করবো বলেন, আমাদের জীবন বাঁচাতে এটা ছাড়া কোনও নেই।
সরেজমিন বিমানবন্দর ঘুরে দেখা যায়, মদিনা হয়েই প্রবাসীরা রিয়াদ যাচ্ছেন। যাদের ভিসার মেয়াদ শেষের পথে মূলত তারাই টিকিট চেঞ্জ করে নিয়ে যাচ্ছেন। মদিনার বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট ৩ টা ৫৫ তে। এ কারণে ১২টার মধ্যেই যাত্রীরা উপস্থিত হন। ফ্লাইট যাওয়ার কথায় তাদের মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ থেকে হাসিমুখ দেখা যায়।
যাত্রীরা জানান, গ্রাম থেকে টিকিট পরিবর্তন করতে বার বার আসা, মদিনা থেকে রিয়াদ যেতে খরচ। সবমিলিয়ে অতিরিক্ত ২০ থেকে ২৫ হাজার লাগছে। তারপরও ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় যেতে পারায় তাদের চোখেমুখে দুশ্চিন্তার ছাপ কেটে আনন্দের ঝলক লক্ষ্য করা যায়।
প্রসঙ্গত, গত ১০ অক্টোবর রিয়াদ বিমানবন্দর হুথিদের আক্রমণের শিকার হয়। এরপর দাম্মাম বিমানবন্দরেও আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্র। এতে করে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বুধবার (১৪ অক্টোবর) পর্যন্ত ১০০ ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায়। আটকা পড়েন ১৫ হাজারের বেশি প্রবাসী।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন