মিজান লিটন : দেশের জাতীয় সম্পদ ইলিশ এই মা-ইলিশ রক্ষায় ২২ দিন জেলার পদ্মা-মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশসহ সব ধরণের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মেঘনা উপকূলীয় চাঁদপুর সদরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে জেলে,নৌকা নদী শূন্য। তবে নদীতে যাত্রী ও মালবাহী অন্যান্য নৌযান চলাচল করছে।
জেলেরা জানায়,নৌকাগুলো ডাঙ্গায় উঠিয়ে রেখেছে,জালগুলো মেরামত করে শুকিয়ে মজুদ করে রাখছি।
জেলেরা আরো জানায়,এবার ভরা মৌসুমেই ইলিশ পাওয়া যায়নি। ইলিশ সঠিকভাবে ডিম ছাড়তে পারলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
জেলে খালেক মিয়া বলেন, যারা প্রকৃত জেলে তারা কখোনেই মা ইলিশ ধরে না। মৌসুমে কিছু জেলে আছে তারা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মা ইলিশ ধরে। আমরা নিষেধাজ্ঞা মেনে এখন অবসরে আছি। সবাই এই আইন মেনে চলুক আমরা ও এটা চাই।
সরকার আমাদের দিকে নজর দিয়ে পাশে থাকুক।
হরিণা ফেরিঘাটের কয়েকজন মাছ ব্যবসায়ী বলেন, আমাদের আড়ৎগুলো অভিযানের শুরু থেকেই বন্ধ করে দিয়েছি। এই ২২ দিন আমরা অবসর সময় কাটাব, তবে সরকারি অভিযান বাস্তবায়ন করতে হলে নদীতে কোন নৌকা রাখা যাবে না। তিনি প্রশাসনের কাছে দাবী জানান যেনো কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা মানতে জেলেদের বাধ্য করা হয়।
সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, টাস্কফোর্স ইতোমধ্যে নদীতে অভিযান শুরু করেছে। জেলেরা এখন পর্যন্ত অভিযান অমান্য করে নদীতে নামছে না। বিশাল এই জলরাশিতে সকলের সহযোগিতা থাকলে মা ইলিশের প্রজনন রক্ষা হবে।
নৌ পুলিশের ইনচার্জ মোহাম্মদ আজমগীর হোসাইন বলেন,গত বেশ কয়েকদিন আমরা নদীতে ও জেলে পাড়ায় গিয়ে মা ইলিশ না ধরার জন্য জেলে ও এলাকার লোকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারপরেও আইন অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আমরা প্রতিনিয়তই নদীতে রয়েছি, তিনি আরো বলেন, সাগর থেকে নদীর মিঠা পানিতে আসা ইলিশ নিরাপদে ডিম ছাড়ার জন্য ৮অক্টোবর থেকে থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারের এই নিষেধাজ্ঞা। জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত পদ্মা-মেঘনার ৭০ কিলোমিটার হচ্ছে অভয়াশ্রম এলাকা। এই সময়ে আইন অমান্য করে কেউ ইলিশ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন ও মজুদ করলে তাদের বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।