মনিরুল ইসলাম: রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনকে (বিটিভি) আধুনিক, নিরপেক্ষ ও জনআস্থার প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে ব্যাপক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নানা সমালোচনার মুখে থাকা প্রতিষ্ঠানটিকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে সরকারের এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বিটিভিকে শুধু একটি রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম হিসেবে নয়, বরং একটি বিশ্বাসযোগ্য সংবাদ ও বিনোদন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। অতীতে বিভিন্ন সরকারের সময়ে বিটিভি দলীয় প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি দর্শকদের আস্থা কমেছে এবং জনপ্রিয়তাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার নিয়ে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হলেও বিটিভিতে এখন পর্যন্ত তেমন দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান সরকার নীরবে কাঠামোগত সংস্কারের দিকে এগোচ্ছে এবং বিটিভিকেও সেই প্রক্রিয়ার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিটিভির কনটেন্ট, প্রযুক্তি, ব্যবস্থাপনা ও সম্পাদকীয় নীতিমালায় আধুনিকায়ন আনার কথা ভাবা হচ্ছে। একই সঙ্গে সংবাদ পরিবেশনায় নিরপেক্ষতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘পুরোনো একটি প্রতিষ্ঠানকে নতুনভাবে দাঁড় করানো চ্যালেঞ্জিং হলেও এটি একটি সম্ভাবনাময় কাজ। বিটিভিকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে ইতোমধ্যে প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে।’
গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, এ উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বিটিভি শুধু তার হারানো অবস্থান ফিরে পাবে না, বরং দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ও আধুনিক সম্প্রচারমাধ্যম হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
তবে এই রূপান্তরের পথে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কাঠামোগত সংস্কার, দক্ষ জনবল তৈরি, প্রযুক্তির আধুনিকায়ন এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সম্পাদকীয় পরিবেশ নিশ্চিত করা—এসব বিষয়ই হবে উদ্যোগটির সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
এদিকে সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সমর্থনের আহ্বান জানানো হয়েছে।