শিরোনাম
◈ স্থানীয় সরকারে মঈন খান: অভিজ্ঞ নেতৃত্বের সামনে বড় পরীক্ষা ◈ ছাত্র অবস্থায় এমপি, দুই দশক পর প্রতিমন্ত্রী শামীম লিংকন ◈ দুই প্রতিমন্ত্রী এক মন্ত্রণালয়ে ◈ ফাঁস দিয়ে মৃত্যুর মিছিল, ৬ মাসে ১০০ জনের মৃত্যু ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়  ◈ প্রথমবার পূর্ণমন্ত্রী হওয়া রশিদুজ্জামান মিল্লাতের রাজনৈতিক উত্থান যেভাবে ◈ মন্ত্রিসভায় রদবদলের প্রজ্ঞাপন জারি: কে কোন মন্ত্রণালয়ে ◈ শনিবার টানা ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় ◈ শ‌নিবার শুরু দ্বিতীয় টেস্ট, জিত‌লে ইতিহাস গড়বে  বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য হোয়াইটওয়াশ এড়ানো ◈ শনিবার সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাবেন রাষ্ট্রপতি ◈ তিন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলে এবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

প্রকাশিত : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৫ রাত
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০২:২৫ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

রাষ্ট্রপতি হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে তাসনিম জারার আবেগঘন পোস্ট

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ গ্রহণের পর তাকে নিয়ে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণ করেছেন চিকিৎসক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ডা. তাসনিম জারা। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক আদর্শ, ব্যক্তিগত সততা ও জ্ঞানচর্চার প্রশংসা করেন।

পোস্টে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সঙ্গে তোলা একটি ছবিও জুড়ে দিয়েছেন।

ডা. তাসনিম জারা পোস্টটি হুবহু তুলে দেওয়া হলো:

‘আজ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্যার রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন।’

‘২০১৮ সালে আমার প্রথম ভোট দেওয়ার সুযোগ হয়। সে বছর নির্বাচনের আগে উনি আমার মতো তরুণ ভোটারদের উদ্দেশে ভিডিও করেছিলেন। শুরু করেছিলেন এভাবে, "আপনারা যারা এবারে প্রথম ভোট দেবেন, তাদেরকে আমি কিছু বলতে চাই।"

মানুষটা সুবক্তা। রাজনীতিতে আসার আগে শিক্ষক ছিলেন, কথা শুনলে সেটা বোঝা যেত। সবাই বলছিল ভোট চুরি হবে। উনি বলেছিলেন, কেন্দ্রে গিয়ে দেখিয়ে দিন "আপনারাই দেশের মালিক", "ইউ ম্যাটার"।

ওনার কথা মনে করেই খিলগাঁওয়ে আমাদের কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছিলাম। সকালেই বুঝতে পারি কত বড় কারচুপি হচ্ছে।

এত কিছুর পরও উনি নিজের আসনে জিতেছিলেন। কিন্তু সংসদে যান নাই। কারচুপির ভোটে গড়া সংসদে তিনি বসতে চান নাই।

ক্ষমতার চেয়ার পেয়েও শুধু নীতির জন্য তা দুরে ঠেলে দিতে সবাই পারেন না। বরং ক্ষমতার চেয়ার পেতে সকল নীতি বিকিয়ে দেন। উনি এখানে অনন্য।

যে আওয়ামী লীগ সরকার তাঁকে শেষ করে দিতে চেয়েছিল, বার বার তাকে জেলে পাঠিয়েছে, তারা পনেরো বছরেও তাঁর নামে দুর্নীতির একটা মামলা দাঁড় করাতে পারেন নাই। কোনোদিন মনে হয় নাই মানুষটা টাকা বানানোর জন্য রাজনীতিতে এসেছেন।

রাজনীতিতে আসার পর অনেক প্রবীণ মানুষের পরামর্শ চেয়েছি, রাজনীতির ভেতরের এবং বাইরের। স্যারের সাথে যতবার কথা হয়েছে, ওনার রাজনৈতিক জীবনের শিক্ষা নিয়ে জানতে চেয়েছি। অকপটে সব বলেছেন। কোন বইগুলো পড়া দরকার, নাম বলে দিয়েছেন। নিজের বই দিয়ে দিয়েছেন।

আমাদের রাজনীতির অঙ্গনে এমন মানুষ বেশি পাবেন না, যিনি আপনার সাথে বই নিয়ে কথা বলবেন, বা আপনাকে বই পড়তে দেবেন। কোন মানুষটা রাজনীতিকে কী মনে করেন, এই ছোট জিনিসগুলোতেই সেটা ধরা পড়ে। আজ তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে বসলেন।

আমাদের রাজনীতির সবচেয়ে বিপজ্জনক মুহূর্ত হচ্ছে ক্ষমতার পালাবদলের সময়। এই পদটা সেই মুহূর্তগুলোর বড় বড় সংকটের কেন্দ্রে ছিল। আবার এই পদটাই কোনো কোনো সময়ে দেশকে স্থিতিশীলতা দিয়েছে। পার্থক্যটা তৈরি হয়েছে চেয়ারে বসা মানুষটার চরিত্র কেমন, তার উপর।

আমার বিশ্বাস ওনার কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি পদটার সম্মান, মর্যাদা আর রাষ্ট্রে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। মানুষটাকে যতটুকু জেনেছি, আশা রাখতে চাই।’

সবশেষে মির্জা ফখরুলকে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে দেখার প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘আজ থেকে তিনি আর তার দলের কেউ না। বাংলাদেশের।’

 

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়