শিরোনাম
◈ বিদ্যুতায়নে বছরে কোটি কোটি ডলারের জ্বালানি আমদানি ব্যয় কমানোর সুযোগ বাংলাদেশের : আইইএর প্রতিবেদন ◈ ১১টি বোয়িং বিমান কেনার চুক্তি চূড়ান্তের পথে, এয়ারবাস নিয়ে ফ্রান্সের চাপ ◈ ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ, বাতিল ১০৩ অনাপত্তি সনদ ◈ ঢাকার আশপাশের বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নে বাংলাদেশকে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি ◈ জ্বালানি তেলের পর এবার বাড়ল লঞ্চ ভাড়া, কিলোমিটারে সর্বোচ্চ ২৩ পয়সা ◈ জ্যাকসের ঝড়ে লঙ্কা বিধ্বস্ত ◈ মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে জুবাইদা রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ ◈ বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ হতে পারে, মূল্যস্ফীতি বাড়ার পূর্বাভাস এডিবির ◈ সাইক্লিংয়ে বাংলাদেশের হতাশা : একজন অসুস্থ আ‌রেকজন ব‌্যর্থ ◈ ম্যানহাটনে বোমা আতঙ্ক, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হোটেলের আশপাশে কড়া নিরাপত্তা (ভিডিও)

প্রকাশিত : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:২৫ বিকাল
আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:২৫ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

স্বপ্ন দেখার ঘুম যত বেশি, ৮৩ রোগের ঝুঁকি তত কম: গবেষণা

রাতে ঘুমিয়ে পড়ার পর কখনো কখনো আমরা এমন স্বপ্ন দেখি, যা ঘুম ভাঙার পরও বেশ কিছুক্ষণ মনে থাকে। এই স্বপ্ন দেখার সময়টুকুই ঘুমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ-র‌্যাপিড আই মুভমেন্ট। নতুন এক গবেষণা বলছে, ঘুমের এই পর্যায় যতবেশি সময় ধরে হয়, দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিও তত কম থাকতে পারে।

‘পিএলওএস মেডিসিন’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় যুক্তরাজ্যের ৯৫ হাজার ৫৫৯ জন প্রাপ্তবয়স্কের ঘুম ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, র্যাপিড আই মুভমেন্ট ঘুমের পরিমাণ বেশি থাকা ৮৩টি রোগের কম ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। একইভাবে গভীর ঘুমের পরিমাণ বেশি থাকার সঙ্গেও সাতটি রোগের ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

advertisement

র‌্যাপিড আই মুভমেন্ট ঘুম কেন গুরুত্বপূর্ণ?

র্যাপিড আই মুভমেন্ট ঘুম হলো ঘুমের এমন একটি পর্যায়, যখন মস্তিষ্ক তুলনামূলকভাবে বেশি সক্রিয় থাকে এবং সাধারণত স্পষ্ট স্বপ্ন দেখা যায়। এই সময় চোখ দ্রুত নড়াচড়া করে, যদিও শরীরের অধিকাংশ পেশি শিথিল থাকে।

advertisement

গবেষণায় র্যাপিড আই মুভমেন্ট ঘুমের পরিমাণ বেশি থাকা সঙ্গে হার্ট ফেইলিওর, উচ্চ রক্তচাপ, অ্যারিথমিয়া ও পারকিনসনিজম, মাল্টিপল স্কেলেরোসিসসহ বিভিন্ন রোগের কম ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। 

অন্যদিকে গভীর ঘুম বেশি হওয়ার সঙ্গে টাইপ-২, ডায়াবেটিস, গুরুতর বিষণ্নতা, স্লিপ অ্যাপনিয়া ও পারকিনসন রোগসহ সাতটি রোগের কম ঝুঁকির সম্পর্ক দেখা গেছে।

advertisement

কতক্ষণ ঘুমালেন, সেটাই কি গুরত্বপূর্ণ?

অনেকে মনে করেন, রাতে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমালেই ঘুমের প্রয়োজন মিটে যায়। কিন্তু গবেষণাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, বিষয়টি এতটা সরল নয়। ঘুমের মোট সময়ের পাশাপাশি ঘুমের গুণমান, বিভিন্ন পর্যায়ে কাটানো সময় এবং ঘুমের নিয়মিততাও গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় ঘুমানোর সঙ্গেও ৫০টির বেশি রোগের কম ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, বেশি ঘুমালেই এসব রোগ থেকে সরাসরি সুরক্ষা পাওয়া যাবে।

কীভাবে ঘুমের তথ্য সংগ্রহ করা হলো?

গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ঘুমের তথ্য শুধু তাদের নিজেদের দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করে নেওয়া হয়নি। তাদের এক সপ্তাহ ধরে কবজিতে পরিধানযোগ্য বিশেষ যন্ত্র পরানো হয়েছিল। এর মধ্যে তাদের শারীরিক কার্যকলাপ ও ঘুমের ধরন পর্যবেক্ষণ করা হয়।

অংশগ্রহণকারীদের গড় বয়স ছিল ৫৬ দশমিক ২ বছর। তাদের গড়ে ৮ দশমিক ৯ বছর পর্যবেক্ষণে রেখে বিভিন্ন রোগ নির্ণয় ও মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করেন গবেষকরা।

হালকা ঘুম বা রাতে জেগে থাকার প্রভাব

গবেষণায় ঘুমের অন্যান্য বৈশিষ্ট্যও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। হালকা ঘুমের পরিমাণ বেশি থাকার সঙ্গে কিছু রোগের উচ্চ ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া যায়। আবার কিছু রোগের ক্ষেত্রে ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্কও দেখা গেছে।

ঘুমিয়ে পড়ার পর দীর্ঘ সময় জেগে থাকার সঙ্গেও ছয়টি রোগের বেশি ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যালকোহলের অপব্যবহার, মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব বিস্তারকারী পদার্থের ওপর নির্ভরশীলতা এবং অস্টিওআর্থারাইটিস।

এছাড়া অনিয়মিত ঘুমের ধরনের সঙ্গে পেটে ব্যথা, উদ্বেগ ও গুরুতর বিষণ্নতার উচ্চ সম্পর্কও দেখা গেছে।

ঘুমের সময়ে শরীরে কী ঘটে?

ঘুমের সময় শরীর শুধু বিশ্রাম নেয় না। এ সময় মস্তিষ্ক ও শরীরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া চলতে থাকে। স্মৃতি সংরক্ষণ ও সুসংহত করা, মস্তিষ্ক থেকে বিপাকীয় বর্জ্য অপসারণ, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ এবং অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখার মতো কাজে ঘুম ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি

গবেষণায় ঘুমের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে রোগের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেলেও, এটি প্রমাণ করে না যে কম র্যাপিড আই মুভমেন্ট ঘুম বা গভীর ঘুম সরাসরি কোনো রোগের কারণ। 

এর পেছনে ‘রিভার্স কজেশন’-এর মতো বিষয়ও থাকতে পারে। অর্থাৎ কোনো রোগের কারণে ঘুমের ধরন পরিবর্তিত হতে পারে। যেমন বিষণ্নতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঘুমের সমস্যা হওয়া বেশ সাধারণ।

তাই গবেষণার ফলাফলকে ঘুম ও স্বাস্থ্যের সম্পর্ক বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যেতে পারে, সরাসরি কারণ-ফলাফল হিসেবে নয়।

  • সর্বশেষ