শিরোনাম
◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে ◈ আফগান লিগে নাম লেখালেন তাসকিন

প্রকাশিত : ০৮ জুলাই, ২০২৬, ০৮:৩৬ সকাল
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নিয়মিত মাছ খেলেই কমতে পারে কিডনি রোগের ঝুঁকি

নিয়মিত মাছ খাওয়ার অভ্যাস করুন। বিশেষ করে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ চর্বিযুক্ত মাছ খান। এতে ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (সিকেডি) বা দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে এবং কিডনির কার্যক্ষমতা সচল রাখতে অত্যন্ত কার্যকর। কিডনি আমাদের শরীর থেকে ক্ষতিকর বর্জ্য ছেঁকে বের করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। এ প্রক্রিয়াকে সহজ করতে মাছ একটি চমৎকার সুপারফুড হিসেবে কাজ করে থাকে।

সাধারণত চর্বিযুক্ত মাছ খেলে হৃদযন্ত্র ভালো থাকে— এমন কথা অনেকেই জানেন। কিন্তু এই মাছ যে কিডনির সুস্থতাও রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে, সে কথা হয়তো অনেকেই জানে না। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ স্যামন, ম্যাকারেল, ট্রাউট ও টুনার মতো মাছ নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস কিডনির কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে, প্রদাহ কমাতে এবং ক্রনিক কিডনি ডিজিজের ঝুঁকি হ্রাসে ইতিবাচক ভূমিকা নিতে পারে।

advertisement

সপ্তাহে অন্তত দুবার চর্বিযুক্ত মাছ খাওয়ার চেষ্টা অভ্যাস করুন। তবে মাছ রান্নার ধরনও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গ্রিল, বেক, স্টিম বা এয়ার-ফ্রাই করে খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়। অতিরিক্ত তেলে ভাজা, বেশি লবণ কিংবা প্রসেসড সস ব্যবহার করা এড়িয়ে চলাই ভালো।

কিডনি শুধু শরীরের বর্জ্য ছেঁকে বের করে দেয় না। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, শরীরে পানি ও খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখা, রক্ত তৈরিতে সহায়তা এবং শরীরের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিপাকীয় কাজেও ভূমিকা রাখে। কিডনি ঠিকভাবে কাজ না করলে শরীরে বিষাক্ত বর্জ্য জমতে শুরু করে, যা ধীরে ধীরে প্রাণঘাতী জটিলতার কারণ হতে পারে।

advertisement

আর চর্বিযুক্ত মাছের সবচেয়ে বড় পুষ্টিগুণ হলো— এতে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এটি শরীরের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। আর এই দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহই কিডনির ক্ষতি বাড়ানোর অন্যতম কারণ। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত মাছ খান, তাদের কিডনির স্বাস্থ্য সাধারণত তুলনামূলক ভালো থাকে। যদিও শুধু মাছ খেলেই কিডনি রোগপ্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবে এটি একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

চর্বিযুক্ত মাছে রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান, যা সামগ্রিক সুস্থতায় ভূমিকা নেয়। এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি-১২, সেলেনিয়াম, পাশাপাশি মাছের ধরন অনুযায়ী পটাশিয়াম ও ফসফরাস। এসব পুষ্টি উপাদান রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা, হাড়, স্নায়ু ও কোষের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়ক।

advertisement

যদিও পুষ্টিবিদরা বলছেন, কোনো একক খাবার কিডনি রোগপ্রতিরোধ করতে পারে না। তবে মাছ, শাকসবজি, ফল, গোটা শস্য ও স্বাস্থ্যকর চর্বিসমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস কিডনি ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। বিশেষ করে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো ঝুঁকির কারণগুলো নিয়ন্ত্রণে থাকলে কিডনি রোগের সম্ভাবনাও কমে।

তবে আর যাই করুন না কেন, খাদ্যতালিকায় সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত। কারণ কিছু মাছে ফসফরাস ও পটাশিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে এবং অনেক রোগীর ক্ষেত্রে প্রোটিন গ্রহণও সীমিত রাখতে হয়।

  • সর্বশেষ