সাইনাস হলো চোখের চারপাশ— গাল, কপাল ও নাকের পেছনে ছড়িয়ে থাকা কয়েকটি ফাঁকা অংশ, যার সঙ্গে সরাসরি যোগ রয়েছে নাসাপথের। এটি মূলত নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসে সাহায্য করে। সাইনাসের কাজ একদিকে যেমন মিউকাস তৈরি করে নিঃশ্বাস নেওয়ার জায়গাটিকে আর্দ্র রাখে, ঠিক তেমনই শ্বাসের মাধ্যমে নাকের ভেতরে প্রবিষ্ট হাওয়াকে পরিশ্রুত করতেও সাহায্য করে থাকে। সমস্যা হয় তখন, যখন নানা কারণে ওই সাইনাস বা ফাঁকা প্রকোষ্ঠগুলো ফুলে ওঠে। তখনই নাক বুজে যাওয়া, মাথার যন্ত্রণা ও কপাল-চোখ ব্যথা হয়ে থাকা এবং ক্লান্তিবোধের মতো সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। আর এটি সাধারণত শীতকালে বেড়ে যায়।
এ বিষয়ে বাঁচার কয়েকটি উপায় বলেছেন নাক-কান-গলার চিকিৎসক চৈতন্য রাও। তিনি বলেন, শীতকালে সাইনাসের সমস্যা বেড়ে যাওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়া এবং ধুলোবালি সাইনাসাইটিস অনেকখানি বেড়ে যায়। যাদের এ সমস্যা হয়, তাদের কয়েকটি ঘরোয়া সমাধান মানতে হবে বলেছেন জানিয়েছেন এ চিকিৎসক।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, সাইনাসাইটিস কীভাবে ঘরোয়া উপায়ে দূর করবেন—
গরম পানির ভাপ
গরম পানির ভাট সাইনাসের জন্য সবচেয়ে কার্যকর ঘরোয়া উপায়। একটি বড় পাত্রে গরম পানি নিয়ে মাথায় তোয়ালে দিয়ে ঢেকে ১০-১৫ মিনিট ভাপ দিন। এতে নাকের অভ্যন্তরে জমে থাকা মিউকাস পাতলা হয়ে বেরিয়ে আসবে এবং বন্ধ নাক খুলে যাবে। আর হালকা গরম পানিতে সামান্য লবণ মিশিয়ে নাক পরিষ্কার করার পদ্ধতিকে বলা হয় পানি নেতি। এ পদ্ধতিতে একটি নাসারন্ধ্র দিয়ে পানি প্রবেশ করিয়ে অন্যটি দিয়ে বার করে দিতে হয়। এর জন্য এক বিশেষ ধরনের পাত্রও পাওয়া যায়, যাকে বলা হয় নেতিপট বা নেতি পাত্র। এ পদ্ধতিতে নাক ও সাইনাসে থাকা ব্যাক্টেরিয়া, মিউকাস বা শ্লেষ্মা, ধুলোবালি এবং অ্যালার্জেন বের হয়ে যায়। এর ফলে মাথাব্যথা ও নাক বুজে যাওয়ার মতো সমস্যা দূর করে। এ ছাড়া পরিষ্কার কাপড় হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে নাক, গাল ও কপালে চেপে ধরুন। এ পদ্ধতিটি সাইনাসের ব্লকেজ দূর করতে অত্যন্ত কার্যকরী।
মসলাদার খাবার
সাইনাসের সমস্যা থাকলে সাধারণত খাবারে আদা, রসুন, গোলমরিচ ও পেঁয়াজ বেশি করে ব্যবহার করুন। এ ধরনের মসলায় কিছু প্রাকৃতিক ও জোরালো ধরনের প্রদাহ নাশক উপাদান থাকে, যা সাইনাসের মতো সমস্যা দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
শোবার ধরন
ঘুমানোর সময় কীভাবে ঘুমাচ্ছেন, তাও প্রভাব ফেলে সাইনাসের ব্যথায়। যদি সাইনাসের সমস্যা থাকে, তবে মাথার নিচে বাড়তি একটি বালিশ রাখুন। সাইনাসের সমস্যায় নাক বুজে গেলে শ্বাস নিতে অসুবিধা হয়। মাথা একটু উঁচুতে থাকলে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
শরীর আর্দ্র রাখা
শীতেও প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা উচিত। সম্ভব হলে প্রতিবার গরম পানি পান করুন। গরম স্যুপ, আদা-চা বা তুলসী দেওয়া চা-ও পান করুন। এতে সাইনাসের ব্যথা কমাতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। উষ্ণ ও তরল খাবার নাক এবং সাইনাসে জমা শ্লেষ্মাকে তরল রাখতে সাহায্য করে। ফলে সাইনাসে চাপ কম পড়ে যায়।
রুম হিটার
ঘরে যদি রুম হিটার ব্যবহার করে থাকেন, তবে বাতাস খুব শুষ্ক হয়ে যায়। এর থেকেও সাইনাসের সমস্যা বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে ঘরে রুম হিটারের সঙ্গে একটি হিউমিডি ফায়ারও ব্যবহার করুন এবং অবশ্যই ঘরে যাতে বাতাস চলাচল করে সেদিকে খেয়াল রাখুন।
সূত্র: যুগান্তর