শিরোনাম
◈ শ্রমশক্তি, জ্বালানি ও প্রযুক্তি সহযোগিতায় গুরুত্ব দিল বাংলাদেশ-কাজাখস্তান ◈ ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান, মিরপুরে সর্বোচ্চ মামলা ◈ তিন দিনেই উঠে গেল নতুন ২ কোটি টাকার রাস্তার পিচ, ক্ষোভে কাজ বন্ধ করল এলাকাবাসী ◈ তালিয়ান থেকে ট্রেনে বেইজিংয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, শুরু হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সফরের মূল পর্ব ◈ রাতভর নাটকীয়তার পর যেভাবে গ্রেফতার হলেন নাভানা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান শুভ্র, তার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ ◈ তৃতীয় টার্মিনালে বিদেশি আগ্রহ, আর্থিক ক্ষতিতে পড়বে বিমান ◈ ডোনাল্ড ট্রা‌ম্পের যুদ্ধ উন্মাদনা বন্ধে মার্কিন সিনেটে প্রস্তাব পাস: প্রেসি‌ডে‌ন্টের প্রতিক্রিয়া ◈ ইরান মোকাবিলায় আমেরিকার অপেক্ষা নয়, একাই পদক্ষেপ নেবে ইসরায়েল: বেন-গভীর ◈ ডিসেম্বরে চূড়ান্ত হতে পারে আইএমএফের নতুন ঋণ সমঝোতা ◈ পেলে ও ম্যারাডোনার চেয়ে মে‌সি আলাদা স্তরে, বল‌লেন সুইডে‌নের ইব্রাহিমোভিচ 

প্রকাশিত : ২৪ জুন, ২০২৬, ০৩:৩৫ দুপুর
আপডেট : ২৪ জুন, ২০২৬, ০৪:০৬ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সুপার এল নিনো: বিজ্ঞান যা বলছে, ইসলাম কী শিক্ষা দেয়

'এল নিনো' হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র। এটি তখন ঘটে যখন প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের (Equatorial Pacific) সমুদ্রের উপরিভাগের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি উষ্ণ বা গরম হয়ে যায়। সমুদ্রের পানি যখন অতিরিক্ত গরম হয়, তখন তা প্রসারিত হয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাও বাড়িয়ে দেয়।

এই উষ্ণ পানির কারণে বিশ্বব্যাপী বায়ুপ্রবাহ এবং আবহাওয়ার স্বাভাবিক গতিপথ ও ভারসাম্য ওলটপালট হয়ে যায়। আর যখন এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি স্বাভাবিক সীমার চেয়ে অনেক বেশি তীব্র এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়, তখন তাকে বিজ্ঞানীরা 'সুপার এল নিনো' (Super El Nino) বলে আখ্যায়িত করেন। এর ফলে পৃথিবীর কোথাও তীব্র খরা ও দাবদাহ দেখা দেয়, আবার কোথাও রেকর্ড পরিমাণ অতিবৃষ্টি ও বন্যা সৃষ্টি হয়।

কুরআন ও হাদিসের আলোকে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও আবহাওয়ার পরিবর্তন: পবিত্র কুরআন বা হাদিসে আধুনিক বিজ্ঞানের পরিভাষা যেমন 'এল নিনো' বা 'সুপার এল নিনো' শব্দগুলো হুবহু উল্লেখ নেই। তবে আবহাওয়ার চরমভাবাপন্নতা, তীব্র গরম, অনাবৃষ্টি, খরা এবং মানুষের কর্মের কারণে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা ও সতর্কবার্তা রয়েছে।
 
প্রকৃতির ভারসাম্য ও মানুষের কর্মের প্রভাব: পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, মানুষের নিজেদের কৃতকর্মের কারণেই জমিনে ও সমুদ্রে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ لِيُذِيقَهُم بَعْضَ الَّذِي عَمِلُوا لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ অর্থ: মানুষের কৃতকর্মের দরুন স্থলে ও জলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে আল্লাহ তাদেরকে তাদের কোনো কোনো কাজের শাস্তি আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে। (সুরা আর-রূম, আয়াত: ৪১)
 
বিজ্ঞানীরাও স্বীকার করছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই পরিবেশের এই ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে এবং এল নিনোর মতো প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াগুলো এখন আরও বেশি ভয়াবহ ও ‘সুপার এল নিনো’তে রূপ নিচ্ছে।
 
বিশ্বজুড়ে তীব্র দাবদাহ ও গরমের উৎস: সুপার এল নিনোর কারণে বিশ্বজুড়ে যে রেকর্ড ভাঙা দাবদাহ বা তাপপ্রবাহ চলছে, তার একটি আধ্যাত্মিক কারণ ও সতর্কবার্তা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। রসুলুল্লাহ (সা.) এই তীব্র গরমকে জাহান্নামের নিঃশ্বাসের সঙ্গে তুলনা করেছেন, যা মানুষকে পরকালের ভয়াবহতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। হাদিসে এসেছে,
 
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা ঠান্ডা করে জোহরের সালাত আদায় করো। কেননা গরমের তীব্রতা জাহান্নামের উত্তাপের অংশ। জাহান্নাম তার রবের কাছে অভিযোগ করে বলেছিল, হে রব! আমার এক অংশ অন্য অংশকে গ্রাস করে ফেলছে। তখন আল্লাহ তাকে দু’টি নিঃশ্বাস ফেলার অনুমতি দিলেন, একটি নিঃশ্বাস শীতকালে এবং অপরটি গ্রীষ্মকালে। তোমরা যে তীব্র গরম এবং তীব্র শীত অনুভব করো, তা এরই কারণে।’ (সহীহ বুখারী, হাদিস নং: ৫৩৬; সহীহ মুসলিম, হাদিস নং: ৬১৭)
 
বিশ্বব্যাপী বৃষ্টিপাত নিয়ন্ত্রণ ও খরার ঝুঁকি: সুপার এল নিনোর প্রভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে অনাবৃষ্টি ও খরার যে আশঙ্কা করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ আল্লাহর ইচ্ছাধীন। মেঘ ও বৃষ্টিপাত যে আল্লাহর বিশেষ রহমত এবং তিনি চাইলে যে কোনো সময় তা বন্ধ করে দিতে পারেন, সে বিষয়ে কুরআনে বলা হয়েছে,
 
أَفَرَأَيْتُمُ الْمَاءَ الَّذِي تَشْرَبُونَ * أَأَنتُمْ أَنزَلْتُمُوهُ مِنَ الْمُزْنِ أَمْ نَحْنُ الْمُنزِلُونَ * لَوْ نَشَاءُ جَعَلْنَاهُ أُجَاجًا فَلَوْلَا تَشْكُرُونَ অর্থ: তোমরা যে পানি পান করো, সে সম্পর্কে তোমরা ভেবে দেখেছ কি? তোমরাই কি তা মেঘ থেকে নামিয়ে আনো, না আমি বর্ষণ করি? আমি চাইলে তা লোনা (পানের অযোগ্য) করে দিতে পারি। তবুও কেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো না? (সুরা আল-ওয়াকিয়াহ, আয়াত: ৬৮-৭০)
 
হাদিস শরিফে এসেছে, মানুষের গুনাহ ও আল্লাহর হুকুম অমান্য করার কারণেও প্রাকৃতিকভাবে বৃষ্টিপাত বন্ধ হয়ে খরা দেখা দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন কোনো জাতি জাকাত দেওয়া বন্ধ করে দেয়, তখন আসমান থেকে বৃষ্টিপাত বন্ধ করে দেওয়া হয়। যদি ভূখণ্ডে চতুষ্পদ জন্তু না থাকত, তবে মোটেও বৃষ্টিপাত হতো না। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং: ৪০১৯)

বিজ্ঞানের গবেষণায় 'সুপার এল নিনো' প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির একটি ভৌগোলিক প্রক্রিয়া হলেও, ইসলামের গভীর দৃষ্টিতে এটি মহান আল্লাহর অসীম ক্ষমতা ও মহাবিশ্বের ওপর তাঁর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের এক জীবন্ত নিদর্শন। মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা বা বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার এই সতর্কবার্তা মূলত পবিত্র কুরআনের সেই শাশ্বত সত্যকেই মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃতির কোনো ব্যবস্থাপনাই মানুষের নিয়ন্ত্রণে নেই; বরং সবকিছুই এক সুনির্দিষ্ট নিয়মে আবর্তিত হচ্ছে। আর এ সবকিছু নিয়ন্ত্রক একমাত্র মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। 
 
একই সঙ্গে, মানুষের সীমাহীন ভোগবিলাস আর পরিবেশের ওপর নির্মম অত্যাচারের ফলে বৈশ্বিক জলবায়ু যেভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে, সুপার এল নিনো তারই একটি দৃশ্যমান কুফল। এই ধরনের প্রাকৃতিক সংকটকালে একজন মুমিনের প্রধান দায়িত্ব আতঙ্কিত না হয়ে আল্লাহর দরবারে বেশি বেশি ইস্তিগফার করা, নিজেদের পাপাচার ত্যাগ করে সৎ পথে ফিরে আসা, অনাবৃষ্টির চরম মুহূর্তে সুন্নাহ সম্মত উপায়ে ইস্তিসকার নামাজ আদায় করা। পাশাপাশি, আল্লাহর সৃষ্টি এই পৃথিবীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করা ও পরিবেশের প্রতি যত্নশীল হওয়া প্রতিটি মুসলমানের ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব। উৎস: সময়নিউজটিভি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়