শিরোনাম
◈ ঢাকা-চট্টগ্রামসহ চার রুটে লংমার্চ, সর্বাত্মক সফলতার আহ্বান জামায়াতের ◈ প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ প্রিন্স সালমানের ◈ কৃষিতে ঋণ বিতরণে ব্যাংকের বাধ্যবাধকতা বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক ◈ হাম উপসর্গে বাড়ছে মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেল আরও ৭ জনের ◈ জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে আরও সময় লাগবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ মেয়ের বিয়ের বাজারের টাকা হারিয়ে ফেললেন বাবা, পেয়ে ফিরিয়ে দিলেন পুলিশ ◈ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ: প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবি ◈ বিবাহিত দম্পতির ফ্ল্যাটে ‘লিভ ইন সন্দেহে’ বিশ্ববিদ্যালয় ৪ ছাত্রের হামলাচেষ্টা ◈ ছয় মাসে কূটনৈতিক মোড় ঘুরিয়েছে সরকার: মাহদী আমিন ◈ পে-স্কেল নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত শিগগিরই, বাস্তবায়ন এ বছরেই: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত : ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:১৮ বিকাল
আপডেট : ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:১১ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মৃত ব্যক্তি কি স্বজনদের কথা শুনতে পান?— শায়খ আহমাদুল্লাহর ব্যাখ্যা

মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মানুষের দুনিয়াবি জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে এবং শুরু হয় পরকালীন জীবনের প্রথম ধাপ—আলমে বরজখ বা কবরের জগত। এই পর্যায়ে একজন মৃত মানুষের শ্রবণ ও অনুভূতির ক্ষমতা কতটুকু থাকে, জীবিতদের কথা তিনি শুনতে পান কি না, কিংবা প্রিয়জনের কান্না, গোসল, কাফন ও দাফনের সময় আশপাশের ঘটনাগুলো তিনি অনুভব করেন কি না—এসব প্রশ্ন নিয়ে মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের ধারণা প্রচলিত রয়েছে।

এ বিষয়ে হাদিসে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা পাওয়া যায়। তবে মৃত ব্যক্তির শ্রবণক্ষমতা নিয়ে সব পরিস্থিতির জন্য একই ধরনের বক্তব্য পাওয়া যায় না।

বিশিষ্ট ইসলামী স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেলে বিষয়টি নিয়ে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে বিস্তারিত তাত্ত্বিক আলোচনা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মৃত্যুর পর মৃত ব্যক্তির শ্রবণ বা অনুভূতির বিষয়টি নিয়ে অনুমাননির্ভর কিংবা মনগড়া কোনো ধারণা গ্রহণ করা ঠিক নয়। বরং এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যেসব সুনির্দিষ্ট হাদিস রয়েছে, সেগুলোই আমাদের মূল ভিত্তি।

সাধারণভাবে অনেকের ধারণা, একজন মানুষ মৃত্যুবরণ করার পরও তার চারপাশে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা তিনি অনুভব করতে পারেন। বিশেষ করে গোসল দেওয়ার সময়, কাফন পরানোর সময় কিংবা আত্মীয়-স্বজনের কান্না ও কথাবার্তা তিনি শুনতে পান—এমন ধারণাও সমাজে প্রচলিত রয়েছে।

তবে শায়খ আহমাদুল্লাহ তার আলোচনায় বলেন, ‘কোনো মানুষ মারা যাওয়ার পর তাকে গোসল দেওয়ার সময়, কাফন পরানোর সময় কিংবা তার আত্মীয়-স্বজনের কান্নাকাটি ও কথাবার্তা মৃত ব্যক্তি পুরোপুরি শুনতে পান বা অনুভব করেন—এমন কথা কোনো হাদিসে সরাসরি বর্ণিত হয়নি। অর্থাৎ, দাফনের পূর্ব পর্যন্ত এ ধরনের অনুভবী শক্তির কথা শরিয়ত দ্বারা প্রমাণিত নয়।’

কবরস্থ হওয়ার পর জুতার শব্দ শোনা

হাদিসের ভাষ্য হলো, মৃত ব্যক্তির শোনার ক্ষমতা মূলত শুরু হয় তাকে কবরস্থ করার পর থেকে। এ প্রসঙ্গে আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত সহিহ বোখারির একটি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন, কোনো ব্যক্তিকে যখন কবরে রাখা হয় এবং দাফন শেষে তার আত্মীয়-স্বজনরা যখন ফিরে যেতে থাকে, তখন মৃত ব্যক্তি তাদের পায়ের জুতার আওয়াজ পর্যন্ত শুনতে পান।’

আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, দাফনের পর মৃত ব্যক্তির এক ধরনের শ্রবণ বা অনুভবের ক্ষমতা থাকে। অর্থাৎ, কবরস্থ হওয়ার পর আশপাশে মানুষের চলাচল কিংবা তাকে দেখতে ও জিয়ারত করতে কেউ এলে সেই উপস্থিতি কোনো না কোনোভাবে অনুভব করতে পারেন।

সালামের জবাব ও পরিচিতদের সান্নিধ্য

কবরের জগতে মৃত ব্যক্তির শ্রবণক্ষমতা শুধু জুতার শব্দ শোনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ—এমনটিও নয়। কেউ কবরের কাছে গিয়ে মৃত ব্যক্তিকে সালাম দিলে তিনি সেই সালাম শুনে উত্তর দিতে পারেন—এমন বর্ণনাও হাদিসে পাওয়া যায়।

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকে জানা যায়, দুনিয়ায় পরিচিত কোনো ব্যক্তি যদি মৃত ব্যক্তির কবরের পাশে গিয়ে সালাম পেশ করে বা জিয়ারত করে, তবে মৃত ব্যক্তি সেটি অনুভব করতে পারেন।

শায়খ আহমাদুল্লাহ ব্যাখ্যা করেন যে, এ অবস্থায় আল্লাহ তাআলা মৃত ব্যক্তির মধ্যে এক ধরনের রুহ বা অনুভবের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেন, যার মাধ্যমে তিনি জিয়ারতকারীর সালামের জবাব দিতে সক্ষম হন।

বরজখী জীবনের বিশেষ অনুভব

মৃত্যুর পর এ ধরনের শ্রবণ ও অনুভূতির বিষয়টি মূলত সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জগতের বা ‘বারজাখী’ জীবনের অংশ। এটি দুনিয়ার মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ বা অনুভূতির সঙ্গে তুলনা করার বিষয় নয়; বরং এটি বরজখী জীবনের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত।

শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, আল্লাহ তাআলা মৃত ব্যক্তিকে একটি বিশেষ রুহ বা অনুভবী শক্তি দিয়ে থাকেন, যার মাধ্যমে তিনি কবরের শাস্তি কিংবা নেয়ামত অনুভব করতে পারেন। এটি কেবল মহান আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন যে এই প্রক্রিয়ার প্রকৃত স্বরূপ কী।

তবে, দাফনের পরের এই নির্দিষ্ট বিষয়গুলো ছাড়া অন্য কোনো সময় মৃত ব্যক্তির শোনার বিষয়ে হাদিসে বিস্তারিত কিছু পাওয়া যায় না।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়