শিরোনাম
◈ দুই জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ ◈ গাজীপুরে পৌর আ.লীগের সাবেক সভাপতি গ্রেপ্তার ◈ রফতানিমুখী শিল্পে বড় প্রণোদনা: ১০ নতুন খাতে বন্ড ছাড়াই কাঁচামাল আমদানি, বাতিল হলো ৩০% মূল্য সংযোজনের শর্ত ◈ এআই দিয়ে প্রথমবার তৈরি হলো নতুন ভাইরাস, চিকিৎসায় সম্ভাবনার পাশাপাশি বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ ◈ দ্য ডিপ্লোম্যাটের বিশ্লেষণ: শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাড়ছে কূটনৈতিক টানাপোড়েন, নতুন মোড়ে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক ◈ অধ্যাপক ইউনূসের চেয়ে হাজারগুণ ভালো দেশ চালাচ্ছেন তারেক রহমান: কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী ◈ দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে হিসেবে আলোচনায় যারা ◈ ডোভালের বদলে আইবি প্রধান, হাসিনাকে ঘিরে বদলাচ্ছে দিল্লির কৌশল ◈ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই বাসের সংঘর্ষ, নিহত ৮ ◈ পাঁচ বছর ধরে সেঞ্চুরি নেই, এবার বাংলাদেশের বিপক্ষে আশাবাদী অ‌স্ট্রেলিয়ান লাবুশেন

প্রকাশিত : ১০ জুন, ২০২৬, ১০:১৬ দুপুর
আপডেট : ০৬ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তে সাহায্য করে যে দুই শব্দের দোয়া

আমাদের জীবনটা আসলে অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি মোড়েই আমাদের কোনো না কোনো বেছে নেওয়ার মুখোমুখি হতে হয়।

কখনো সিদ্ধান্তটা হয় ক্যারিয়ার নিয়ে—এই চাকরিটা কি আমি নেব, নাকি আরও ভালো কিছুর জন্য অপেক্ষা করব? কখনো সিদ্ধান্তটা হয় জীবনসঙ্গী নির্বাচন নিয়ে—এই মানুষটাকে কি জীবনসাথী হিসেবে গ্রহণ করা ঠিক হবে, নাকি ‘না’ বলে দেওয়া উচিত?

অনেকে এমন পরিস্থিতিতে ‘ইস্তিখারা’ (আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনার নামাজ) করার পরেও মনের ভেতর পুরোপুরি সুনিশ্চিত হতে পারেন না। এই মানসিক অস্থিরতা ও সিদ্ধান্তহীনতা দূর করতে নবীজি (সা.) একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু শক্তিশালী একটি দোয়া শিখিয়েছেন।

জীবনের দোলাচলে নবীজির উপহার

হজরত আলি ইবনে আবি তালিব (রা.) বলেন, নবীজি তাঁকে লক্ষ্য করে বলেছেন, “তুমি বলো: ‘আল্লাহুম্মাহদিনী ওয়া সাদ্দিদনী’ (হে আল্লাহ, আমাকে সত্য পথ দেখান এবং সঠিকতায় অবিচল রাখুন)।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৭২৫)

জীবনের প্রতিটি কঠিন ও ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ মুহূর্তে আল্লাহর নবীজির শেখানো দোয়াটিই ছিল তাঁর মনের স্থিরতা ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মূল চাবিকাঠি।

নবীজি আলিকে চাওয়ার জন্য দীর্ঘ কোনো তালিকা দেননি। বরং মাত্র দুটি শব্দের একটি ছোট্ট বাক্য শিখিয়ে দিয়েছেন, যা জীবনের সব ধরনের চাহিদাকে নিজের ভেতর ধারণ করে।

পরবর্তী জীবনে আলি (রা.) একজন মহান নেতা, বিচক্ষণ বিচারক এবং একজন আদর্শ পারিবারিক অভিভাবক হিসেবে অগণিত জটিল ও সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাঁকে নতে হয়েছে। জীবনের প্রতিটি কঠিন ও ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ মুহূর্তে আল্লাহর নবীজির শেখানো দোয়াটিই ছিল তাঁর মনের স্থিরতা ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মূল চাবিকাঠি।

দোয়াটির গভীর তাৎপর্য

দোয়াটি শেখানোর সময় নবীজি একটি চমৎকার উপমা দিয়ে আলি (রা.)-কে এর অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, “যখন তুমি ‘হেদায়েত’ (সঠিক পথ) প্রার্থনা করবে, তখন মনে মনে আল্লাহর প্রদর্শিত সরল-সঠিক পথের কথা চিন্তা করবে। আর যখন ‘সাদাদ’ (অবিচলতা বা সোজা থাকা) প্রার্থনা করবে, তখন ধনুক থেকে নিখুঁতভাবে ছুটে যাওয়া তীরের কথা স্মরণ করবে, যা কোনোদিকে না বেঁকে সরাসরি লক্ষ্যে আঘাত করে।” (ইবনে হাজার আসকালানি, ফাতহুল বারি শারহ সহিহ আল-বুখারি, ১১/৯৬, দারুল মাআরিফা, বৈরুত, ১৩৭৯ হিজরি)

যে কোনো মানুষ তাঁর প্রাত্যহিক জীবনে ছোট কিংবা বড়—যে কোনো সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হলেই মনে মনে বা উচ্চস্বরে এই দোয়াটি বারবার পাঠ করতে পারেন।

আমলটি কখন, কতবার করবেন

হাদিসে এই দোয়াটি পড়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা বা সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি। যে কোনো মানুষ তাঁর প্রাত্যহিক জীবনে ছোট কিংবা বড়—যে কোনো সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হলেই মনে মনে বা উচ্চস্বরে এই দোয়াটি বারবার পাঠ করতে পারেন।

নিয়মিত করার জন্য বিশেষ সময়গুলো বেছে নেওয়া যেতে পারে, যে সময়গুলোতে দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে:

রাতের শেষ তৃতীয়াংশে: যখন মহান আল্লাহ–তাআলা প্রথম আসমানে নেমে আসেন এবং বান্দার ডাক শোনার জন্য আহ্বান করেন।

আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে: এই মধ্যবর্তী সময়ের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।

ফরজ নামাজের শেষ বৈঠকে: সালাম ফেরানোর আগে যখন মন পুরোপুরি আল্লাহর দিকে নিবিষ্ট থাকে।

সেজদারত অবস্থায়: বান্দা যখন আল্লাহর সবচেয়ে নিকটে চলে যায়।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়