শিরোনাম
◈ বাংলাদেশকে নিয়ে গঠিত সামুদ্রিক জোটের কমান্ডারের নাম ঘোষণা করল সৌদি আরব ◈ বাংলাদেশসহ ১৪ দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোটের নেতৃত্বে সৌদির আল-শেহরি ◈ কালিয়াকৈরে মেয়ে থেকে ছেলে হলেন এসএসসি পরীক্ষার্থী ◈ আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের কথা বললেও বাস্তবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করেছে: মির্জা ফখরুল ◈ দুই জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ ◈ গাজীপুরে পৌর আ.লীগের সাবেক সভাপতি গ্রেপ্তার ◈ রফতানিমুখী শিল্পে বড় প্রণোদনা: ১০ নতুন খাতে বন্ড ছাড়াই কাঁচামাল আমদানি, বাতিল হলো ৩০% মূল্য সংযোজনের শর্ত ◈ এআই দিয়ে প্রথমবার তৈরি হলো নতুন ভাইরাস, চিকিৎসায় সম্ভাবনার পাশাপাশি বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ ◈ দ্য ডিপ্লোম্যাটের বিশ্লেষণ: শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাড়ছে কূটনৈতিক টানাপোড়েন, নতুন মোড়ে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক ◈ অধ্যাপক ইউনূসের চেয়ে হাজারগুণ ভালো দেশ চালাচ্ছেন তারেক রহমান: কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী

প্রকাশিত : ০৩ মে, ২০২৬, ০৮:৩৬ সকাল
আপডেট : ০৭ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হুদায়বিয়ার সন্ধি: ইসলামের এক অবিস্মরণীয় বিজয়

ইসলামের সুদীর্ঘ ইতিহাসে ষষ্ঠ হিজরিতে সম্পাদিত হুদায়বিয়ার সন্ধি এক অবিস্মরণীয় ও সুদূরপ্রসারী ঘটনা। বাহ্যিক দৃষ্টিতে এ সন্ধি মুসলিমদের জন্য কিছুটা সংকুচিত বা প্রতিকূল মনে হলেও মহান আল্লাহ একে ‘ফাতহুম মুবিন’ বা সুস্পষ্ট বিজয় হিসাবে অভিহিত করেছেন। নবীজির দূরদর্শিতা ও ধৈর্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসাবে এ চুক্তি ইসলামের প্রসারে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল।

মদিনায় হিজরতের ছয় বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (সা.) স্বপ্নে সাহাবিদের নিয়ে কাবা তাওয়াফ করতে দেখেন। একে ঐশী ইঙ্গিত হিসাবে গ্রহণ করে তিনি চৌদ্দশ সাহাবি সঙ্গে নিয়ে মক্কার উদ্দেশে রওয়ানা হন। যুদ্ধের কোনো অভিপ্রায় না থাকলেও কুরাইশরা মক্কায় প্রবেশে বাধা প্রদান করে। নবীজি (সা.) সংঘাত এড়াতে হুদায়বিয়া নামক স্থানে অবস্থান নেন এবং শান্তির দূত হিসাবে হজরত উসমান (রা.)কে মক্কায় পাঠান। তার ফিরতে বিলম্ব হওয়ায় এবং হত্যার গুজব রটে যাওয়ায় রাসূলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের কাছ থেকে মরণপণ যুদ্ধের শপথ নেন, যা ইতিহাসে ‘বায়আতুর রিদওয়ান’ নামে খ্যাত। এতে আল্লাহতায়ালা মুমিনদের প্রতি তাঁর সন্তুষ্টি ঘোষণা করেন।

পরবর্তী সময়ে কুরাইশ প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর একটি সন্ধিপত্র স্বাক্ষরিত হয়। এর প্রধান শর্তগুলো ছিল-মুসলিমরা সে বছর ওমরাহ না করেই ফিরে যাবে, পরবর্তী বছর মাত্র তিন দিনের জন্য মক্কায় আসতে পারবে এবং আগামী দশ বছর উভয়পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ থাকবে। তবে সবচেয়ে বিতর্কিত শর্তটি ছিল-মক্কা থেকে কেউ মদিনায় গেলে তাকে ফেরত দিতে হবে, কিন্তু মদিনা থেকে কেউ মক্কায় ফিরলে তাকে ফেরত দেওয়া হবে না।

এই অসম শর্তগুলো সাহাবিদের মনে কষ্টের উদ্রেক করলেও রাসূলুল্লাহ (সা.) এর অন্তরালে এক মহাবিজয় প্রত্যক্ষ করেছিলেন। সন্ধির ফলাফল ছিল বিস্ময়কর-

শান্তির সুফল : যুদ্ধবিরতির ফলে মুসলিম ও মুশরিকদের মধ্যে মেলামেশার সুযোগ সৃষ্টি হয়। মুসলিমদের উন্নত আখলাক ও আদর্শ দেখে মানুষ দলে দলে ইসলামে দীক্ষিত হতে থাকে।

শক্তির সংহতকরণ : ইমাম জুহরি (রহ.)-এর মতে, হুদায়বিয়ার পরবর্তী দুবছরে যত মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছিল, তা আগের সব সময়ের ইসলাম গ্রহণকারীর সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

মক্কা বিজয়ের পথ : এ সন্ধিই মূলত কুরাইশদের রাজনৈতিক দাপট চূর্ণ করে দেয় এবং মাত্র দুই বছরের মাথায় মক্কা বিজয়ের পটভূমি তৈরি করে।

হুদায়বিয়ার সন্ধি প্রমাণ করে যে, কৌশলগত ধৈর্য ও আপস অনেক সময় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের চেয়েও শক্তিশালী হাতিয়ার হিসাবে কাজ করে। সাময়িক ছাড় দিলেও সত্যের আদর্শে অটল থাকলে চূড়ান্ত বিজয় যে সুনিশ্চিত, হুদায়বিয়া তার চিরন্তন স্মারক। মহান রাব্বুল আলামিনের সেই ঘোষণা-‘নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি’, এই সন্ধির মাধ্যমেই সার্থক রূপ লাভ করেছিল।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়