ভারতের রাজধানী দিল্লিতে প্রস্তাবিত বিক্ষোভ ঘিরে সীমান্তবর্তী প্রবেশপথগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। বিভিন্ন চেকপোস্টে ব্যারিকেড বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি ও যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এতে দিল্লিতে প্রবেশের পথে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা। সবচেয়ে ব্যস্ত প্রবেশপথগুলোর একটি চিল্লা সীমান্তেও দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভের আগে দিল্লির বিভিন্ন সীমান্তে পুলিশ সদস্যদের জ্যাকেট ও হেলমেট পরে ব্যারিকেডের কাছে অবস্থান করতে দেখা যায়। যানবাহন থামিয়ে চালক ও যাত্রীদের গন্তব্য এবং দিল্লিতে প্রবেশের কারণ জানতে চাওয়া হয়। তল্লাশির কারণে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সময় লাগায় কর্মজীবী মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণির যাত্রীকে দুর্ভোগে পড়তে হয়।
নয়ডা থেকে পূর্ব দিল্লির ময়ূর বিহারে প্রবেশের পথে চিল্লা সীমান্তে একাধিক ব্যারিকেড বসানো হয়। সেখানে নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত নোটিশও দেখা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণত যে পথ অতিক্রম করতে প্রায় দুই মিনিট লাগে, তল্লাশির কারণে সেটি পার হতে কোনো কোনো যাত্রীর প্রায় ১৫ মিনিট সময় লাগছিল।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েন কর্মস্থলে যাওয়া যাত্রীরাও। নয়ডা থেকে দিল্লির কনট প্লেসে যাচ্ছিলেন রাহুল নামের এক যাত্রী। তাঁকে থামিয়ে দিল্লিতে যাওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, তাঁর অফিস খোলা রয়েছে এবং কাজে না গেলে ওই দিনের মজুরি হারাতে হবে।
ব্যাকপ্যাক নিয়ে হেঁটে যাওয়া কয়েকজন তরুণকেও জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তাঁদের একজন অঙ্কুশ জানান, তাঁরা শিক্ষার্থী এবং কবাডি খেলেন। অন্যদিকে, দিল্লির দ্বারকার দিকে যাওয়া এক যাত্রী নিরাপত্তা তল্লাশির প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করলেও এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে বলে জানান।
অন্য রাজ্য থেকে আসা বাসেও তল্লাশি চালানো হয়। পুলিশ বাসে উঠে যাত্রীদের পরিচয় ও গন্তব্য সম্পর্কে জানতে চায় এবং লাগেজ রাখার জায়গা পরীক্ষা করে। কয়েকটি যানবাহন থামানোয় যাত্রীদের কেউ কেউ মাঝপথে নেমে বিকল্প পরিবহনের ব্যবস্থা করতে বাধ্য হন।
হিরেন্দর নামের এক যাত্রী জানান, তাঁর বাস থামিয়ে যাত্রীদের নামতে বলা হয়। বাসটি তাঁদের দিল্লির দল্লুপুরায় নামানোর কথা থাকলেও তল্লাশির পর তাঁদের নেমে যেতে হয়। পরে গন্তব্যে পৌঁছাতে তাঁকে অটোরিকশার ব্যবস্থা করতে হয়।
চিল্লা সীমান্ত ছাড়াও গাজীপুর সীমান্ত ও দিল্লি-নয়ডা ডাইরেক্ট (ডিএনডি) ফ্লাইওয়েতে যানবাহন পরীক্ষা করা হয়। এক পর্যায়ে কৃষক সংগঠনের পোস্টার লাগানো একটি ব্যক্তিগত গাড়িও থামানো হয়। চালক চিকিৎসাজনিত জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে যাওয়ার কথা জানান। পরে পুলিশ তাঁর চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে গাড়িটিকে যাওয়ার অনুমতি দেয়।
দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভের প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে এসব নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিক্ষোভে অংশ নিতে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং রাজধানীতে প্রবেশের পথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সীমান্তগুলোতে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া