শিরোনাম
◈ বৃহস্পতিবার রাত থেকে ২৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকতে পারে ডেসকোর প্রি-পেইড মিটার রিচার্জ, প্রযোজ্য যাদের জন্য ◈ ডিসেম্বরে পোশাকশ্রমিকদের বর্ধিত মজুরি চূড়ান্ত হবে, জানুয়ারিতে পাবেন বাড়তি বেতন ◈ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে চাপে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাত, ঝুঁকিতে ফ্লাইট ও প্রবাসী যাত্রী পরিবহন ◈ বিশ্বকা‌পে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে টিকিটের আবেদন ৮৪ লাখ, আসন মাত্র ৩৪ হাজার ◈ সাভারে ফের পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগ ◈ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় জয় ডেমোক্র্যাটদের, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারাল ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি ◈ মিরপুর বেড়িবাঁধে বাস-অটোরিকশার মু‌খোমু‌খি সংঘর্ষ, ৪ জ‌নের মৃত‌্যু ◈ স্থানীয় সরকার নির্বাচন ইস‌্যু‌তে ম‌তের অ‌মিল, জোটে থেকেই জামায়াতকে চাপে রাখতে চায় এনসিপি ◈ এশিয়া কাপের জন্য প্রাথমিক দল ঘোষণা কর‌লো বি‌সি‌বি ◈ আতলেতিকোর মাঠে বায়ার্ন মিউনি‌খের দুই গোলের জয়

প্রকাশিত : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৮ দুপুর
আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:৪২ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

গৌতম আদানিকে পেছনে ফেলে এশিয়ার শীর্ষ ধনী জ্যাং ইমিং

এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছেন চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের প্রতিষ্ঠাতা জ্যাং ইমিং। ভারতের ধনকুবের গৌতম আদানিকে পেছনে ফেলে এই অবস্থানে উঠে এসেছেন তিনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বাইটড্যান্সের মূল্যায়ন বাড়ার কারণেই মূলত তার সম্পদ দ্রুত বেড়েছে।

ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্স অনুযায়ী, ৪৩ বছর বয়সি জ্যাং ইমিংয়ের মোট সম্পদের পরিমাণ এখন ১০৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি। ২০১৯ সালের মার্চে তার সম্পদ ছিল প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ছয় বছরের কিছু বেশি সময়ে তার সম্পদ আট গুণেরও বেশি বেড়েছে।

টিকটকের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত জ্যাংয়ের এই উত্থান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, কয়েক বছর ধরে বাইটড্যান্সকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে কঠোর নিয়ন্ত্রক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে।

কে এই জ্যাং ইমিং?

Advertisement

জ্যাং ইমিং ২০১২ সালে বেইজিংয়ের একটি চার কক্ষের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বাইটড্যান্স প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রথম বড় সাফল্য ছিল টুটিয়াও, একটি অ্যালগরিদম-নির্ভর সংবাদ ও তথ্য প্ল্যাটফর্ম। পরে বাইটড্যান্স চীনে ডুইন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে টিকটক চালু করে।

২০২১ সালে তিনি বাইটড্যান্সের সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তবে রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এখনও কোম্পানিটির ৫০ শতাংশের বেশি ভোটাধিকার তার হাতে রয়েছে।

যেভাবে বাইটড্যান্সের উত্থান

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করার পর জ্যাং একজন প্রকৌশলী হিসেবে ট্রাভেল পোর্টাল কুক্সানে কাজ করেন। এরপর কিছুদিন মাইক্রোসফটে কাজ করার পর ৯৯ফ্যাং ডটকম নামে একটি রিয়েল এস্টেট সার্চ স্টার্টআপ চালু করেন।

স্মার্টফোনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে—এই পরিবর্তন তিনি খুব তাড়াতাড়ি বুঝতে পেরেছিলেন। ২০১২ সালে তাই বাইটড্যান্স প্রতিষ্ঠা করেন। তার মূল ধারণা ছিল, ব্যবহারকারীর সার্চ বা সামাজিক যোগাযোগের ওপর নির্ভর না করে মেশিন লার্নিংয়ের মাধ্যমে প্রত্যেক ব্যবহারকারীর জন্য আলাদা কনটেন্ট সাজানো।

এই প্রযুক্তিই টুটিয়াওকে চীনের অন্যতম জনপ্রিয় মোবাইল অ্যাপে পরিণত করে।

২০১৬ সালে চীনে ডুইন চালু করে বাইটড্যান্স। পরের বছর আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য আসে টিকটক। প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলারে 

Musical.ly কিনে সেটিকে টিকটকের সঙ্গে একীভূত করার পর প্ল্যাটফর্মটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। বর্তমানে টিকটকের সক্রিয় ব্যবহারকারী এক বিলিয়নেরও বেশি।

এআই-তে বড় বিনিয়োগ

বাইটড্যান্স এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দিকে জোরালোভাবে এগোচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি দৌবাও এআই চ্যাটবট-এর পাশাপাশি বড় আকারের ভিডিও ও মাল্টিমোডাল এআই মডেল তৈরি করছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওমডিয়ার প্রধান বিশ্লেষক লিয়ান জে সু ব্লুমবার্গকে বলেন, জ্যাং সঠিকভাবে পরিস্থিতি সামলেছেন এবং এআই খাতে বিনিয়োগ আরও বাড়িয়েছেন।

তবে চীনের অভ্যন্তরে এআই খাতে তীব্র প্রতিযোগিতাকেই বাইটড্যান্সের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিতর্ক ও নিয়ন্ত্রক চাপ

জ্যাং ইমিংয়ের উত্থানের পাশাপাশি বাইটড্যান্সকে বড় ধরনের নিয়ন্ত্রক চ্যালেঞ্জেরও মুখোমুখি হতে হয়েছে।

২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রযুক্তি দ্বন্দ্বের মধ্যে টিকটক যুক্তরাষ্ট্রে নিষেধাজ্ঞা ও মালিকানা পরিবর্তনের চাপের মুখে পড়ে। জাতীয় নিরাপত্তা ও ব্যবহারকারীর তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল এর অন্যতম কারণ।

চীনেও ইন্টারনেট কোম্পানিগুলোর একচেটিয়া ব্যবসা এবং অ্যালগরিদম ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কঠোর নজরদারি ও বিধিনিষেধ আরোপ করে।

সূত্র: যুগান্তর 

  • সর্বশেষ