শিরোনাম
◈ মেট্রোরেলের ২৭ বেয়ারিং প্যাডে ক্রিটিক্যাল ত্রুটি, ৪৬ পিলারে ফাটল ◈ ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল পাস: রুমিন ফারহানার বক্তব্য ঘিরে সংসদে হট্টগোল ◈ একবার তথ্য দিলেই সরকারি সেবায় বারবার জমা দিতে হবে না, ‘ওয়ান্স-অনলি’ নীতি চালুর উদ্যোগ ◈ যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডে নতুন অনিশ্চয়তা, ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে ভিসা নম্বর শেষ হওয়ার শঙ্কা ◈ এবার শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা ◈ মাঠে সারের হাহাকার, ডিলারশিপে লাখ টাকার বাণিজ্য; কৃষকদের ‘খাদ্যযোদ্ধা’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি সংসদে ◈ সংসদে উত্তেজনা: পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে তর্ক-বিতর্ক, বিচার বিভাগ নিয়েও উদ্বেগ ◈ জাল কাগজে ৩ কোটি টাকার কাপড়ভর্তি কনটেইনার বের করে নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২ ◈ আর্জেন্টিনার নতুন অ‌ধিনায়ক রো‌মে‌রো ◈ জু‌নিয়র নারী এশিয়া কাপ হ‌কি‌তে বাংলাদেশের গোল উৎসব, হংকংয়ের জালে ৬ গোল 

প্রকাশিত : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১০ রাত
আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৪ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডে নতুন অনিশ্চয়তা, ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে ভিসা নম্বর শেষ হওয়ার শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের জন্য সেপ্টেম্বর মাসে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। কর্মসংস্থানভিত্তিক কয়েকটি শ্রেণিতে ভিসা নম্বর শেষ হয়ে গেলে ৩০ সেপ্টেম্বরের আগেই চূড়ান্ত অনুমোদন আটকে যেতে পারে। এর মধ্যেই ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন পাবলিক চার্জ নীতি। এতে গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের আর্থিক ও পারিবারিক পরিস্থিতি আরও বিস্তৃতভাবে মূল্যায়নের সুযোগ পাবেন অভিবাসন কর্মকর্তারা।

নিউজউইকের প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট সতর্ক করেছে যে, চলতি অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই কর্মসংস্থানভিত্তিক কয়েকটি গ্রিন কার্ড শ্রেণিতে ভিসা নম্বর শেষ হয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ এবং আবেদন অনুমোদনের উপযোগী হওয়ার পরও শুধু ভিসা নম্বর না থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আটকে যেতে পারে।

ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্টের সেপ্টেম্বরের সরকারি ভিসা বুলেটিনের তথ্যমতে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ভারতীয় নাগরিকদের ইবি-১ শ্রেণি। এই শ্রেণিতে ভারতীয় আবেদনকারীদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০২২ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অবশিষ্ট ভিসা নম্বর শেষ হয়ে গেলে ৩০ সেপ্টেম্বরের আগেই শ্রেণিটি অনুপলব্ধ ঘোষণা করা হতে পারে।

সরকারি ভিসা বুলেটিনে আরও সতর্ক করা হয়েছে, অতিরিক্ত চাহিদার কারণে ইবি-২ এবং সংরক্ষিত নয় এমন ইবি-৫ শ্রেণির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তারিখ পিছিয়ে যেতে পারে। ভিসার ব্যবহার নির্ধারিত বার্ষিক সীমার কাছাকাছি পৌঁছালে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই এসব শ্রেণি সাময়িকভাবে অনুপলব্ধ ঘোষণা করা হতে পারে।

ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্টের পৃথক ঘোষণার তথ্যমতে, ভারতীয় আবেদনকারীদের জন্য নির্ধারিত ইবি-২ এবং সংরক্ষিত নয় এমন ইবি-৫ ভিসার বার্ষিক সীমা ইতিমধ্যে পূর্ণ হয়েছে। ফলে ২০২৬ অর্থবছরের বাকি সময়ে এসব শ্রেণিতে ভারতীয় আবেদনকারীদের আর অভিবাসী ভিসা দেওয়া যাবে না। অন্যান্য দেশের আবেদনকারীদের জন্য শ্রেণি দুটি এখনো চালু থাকলেও চাহিদা বেড়ে গেলে তাঁরাও বিলম্ব অথবা নতুন বিধিনিষেধের মুখে পড়তে পারেন।

ভিসার একটি শ্রেণি অনুপলব্ধ হয়ে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে অনুমোদিত অভিবাসন আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে আই-৪৮৫ ফরমের মাধ্যমে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করা হলে মামলাটি নতুন ভিসা নম্বর পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষমাণ রাখা হতে পারে।

কনস্যুলার প্রক্রিয়ায় থাকা আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ধাপ সম্পন্ন হলেও সংশ্লিষ্ট শ্রেণিতে ভিসা নম্বর না থাকলে অভিবাসী ভিসা ইস্যু করা যাবে না। ভিসা নম্বর পুনরায় পাওয়া গেলে আবেদনটির পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

নিউজউইককে অভিবাসন আইনজীবী নন্দিনী নায়ার বলেন, অধিকাংশ আবেদনকারীর মামলা প্রত্যাখ্যান বা বাতিল হবে না। তবে অনুমোদনের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসেও ভিসা নম্বরের অভাবে আবেদন অপেক্ষমাণ হয়ে যেতে পারে। বহু বছর, এমনকি কয়েক দশক ধরে অপেক্ষা করা আবেদনকারীদের জন্য এটি বিশেষভাবে হতাশাজনক।

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ অর্থবছর শেষ হবে ৩০ সেপ্টেম্বর। নতুন অর্থবছর শুরু হবে ১ অক্টোবর। তখন কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসী ভিসার নতুন বার্ষিক বরাদ্দ পাওয়া যাবে। তবে নতুন অর্থবছর শুরু হলেই সব আবেদন সচল হবে বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তারিখ আগের অবস্থানে ফিরে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আবেদনকারীর অগ্রাধিকার তারিখ, ভিসার চাহিদা, নতুন বরাদ্দ এবং সেই নম্বর ব্যবহারের গতির ওপর পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করবে।

এদিকে গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে ১৮ সেপ্টেম্বর। ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির চূড়ান্ত বিধির তথ্যমতে, ওই দিন থেকে নতুন পাবলিক চার্জ নীতি কার্যকর হবে। ১৮ সেপ্টেম্বর বা তার পরে ডাকযোগে পাঠানো অথবা অনলাইনে জমা দেওয়া আই-৪৮৫ আবেদন নতুন নিয়মে মূল্যায়ন করা হবে।

নতুন নীতির অধীনে কর্মকর্তারা আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, সম্পদ, আর্থিক সামর্থ্য, শিক্ষা ও দক্ষতাসহ সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করতে পারবেন। ১৮ সেপ্টেম্বর বা তার পরে গ্রহণ করা আয়ভিত্তিক সরকারি সুবিধাও পর্যালোচনায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তবে এর আগে গ্রহণ করা সুবিধা আগের সীমিত নীতির অধীন বিবেচনা করা হবে।

নিউজউইকের প্রতিবেদনে অভিবাসন আইনজীবী নন্দিনী নায়ার বলেন, কোনো সরকারি সুবিধা গ্রহণ করলেই গ্রিন কার্ড আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাখ্যাত হবে না। তবে নতুন নীতিতে আবেদনকারীর আর্থিক অবস্থা ও অতীতে সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি আরও বিস্তৃতভাবে মূল্যায়নের সুযোগ পাবেন ইউএসসিআইএস কর্মকর্তারা।

পরিবার ও কর্মসংস্থানভিত্তিক অনেক আবেদনকারী, ডাইভারসিটি ভিসাপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং ধর্মীয় কর্মী এই নীতির আওতায় পড়তে পারেন। তবে শরণার্থী, আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তি, মানবপাচার ও নির্দিষ্ট অপরাধের শিকার, নারী নির্যাতনবিরোধী আইনের অধীনে স্বতন্ত্র আবেদনকারী এবং বিশেষ অভিবাসী কিশোরসহ কয়েকটি শ্রেণি পাবলিক চার্জ বিধান থেকে অব্যাহতি পাবে।

  • সর্বশেষ