আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজের এক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক স্বীকার করেছেন, ইরানকে পরাজিত করার প্রাথমিক লক্ষ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্র অনেক দূরে সরে গেছে। এখন এই যুদ্ধে কীভাবে বিজয় অর্জন করবে, তারও কোনো স্পষ্ট চিত্র দিতে পারছে না ওয়াশিংটন।
ইরানি বার্তা সংস্থা ইরনা-র বরাতে পার্স টুডে জানিয়েছে, স্কাই নিউজে প্রচারিত এক সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বৃহস্পতিবার মার্ক স্টোন বলেন, প্রায় এক মাসের সামরিক যুদ্ধ বিরতির পর আবারও পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়েছে। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রের কোনো ঘটনাই ইঙ্গিত দিচ্ছে না যে ওয়াশিংটন তার ঘোষিত লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারের মজুত কমে যাওয়ার খবরের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, দেশটির বড় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকারের প্রয়োজন মেটাতে উৎপাদনের গতি ও সক্ষমতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে বাড়ানোর চেষ্টা করছে। স্টোনের মতে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর যে ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি করছে, এই পরিস্থিতি তারই প্রতিফলন।
স্টোন স্পষ্ট করে বলেন, যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিজয়ের অর্থ ছিল ইরানকে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করা। কিন্তু এখন পরিষ্কার যে ওয়াশিংটন আর সেই লক্ষ্য অনুসরণ করছে না। অন্যদিকে, ইরানের কাছে বিজয়ের অর্থ এখন প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়া ও আত্মরক্ষা করা এবং তেহরানের কাছে সেই সক্ষমতা এখনও স্পষ্টভাবে রয়েছে।
স্কাই নিউজের এই বিশ্লেষক এরপর হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে গেছে- ওয়াশিংটনের এই দাবি বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, যুদ্ধের আগের সময়ের তুলনায় জ্বালানি পরিবহনের পরিমাণ কোনোভাবেই তুলনীয় নয়। এমনকি হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রায় কোনো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) এবং পরিশোধিত তেলজাত পণ্যও পরিবাহিত হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত ১৯৮২ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। তার মতে, এ কারণেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভেনেজুয়েলার সঙ্গে একটি তেল চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার জন্য এতটা চেষ্টা করছেন।
স্টোনের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর সময় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে যুদ্ধ চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু এখন যুদ্ধ শুরুর প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্র এখনও বিজয় অর্জন করতে পারেনি এবং যুদ্ধের সমাপ্তি কেমন হবে, তারও কোনো স্পষ্ট সংজ্ঞা দিতে পারছে না।