আন্তর্জাতিক ডেস্ক : লেবাননের হিজবুল্লাহর মহাসচিব শেখ নাঈম কাসেম বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আঞ্চলিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে বাধা দূর করার চেষ্টা করলেও তারা তাদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাতে ইরান বিজয়ী হয়েছে।
ইরনা জানিয়েছে, মঙ্গলবার এক বক্তব্যে শেখ নাঈম কাসেম বলেন, লেবানন, গাজা, ইরান, ইরাক ও ইয়েমেনের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলি হামলার উদ্দেশ্য ছিল প্রতিরোধ আন্দোলনকে দমন করা এবং এই অঞ্চলে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা। -- পার্সটুডে
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে লেবাননে হামলার লক্ষ্য ছিল প্রতিরোধ শক্তিকে শেষ করে দেওয়া। কিন্তু আমরা তাদের মোকাবিলা করেছি এবং এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে বাধ্য করেছি, যেখানে তারা প্রতিরোধের অস্তিত্ব স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে।
শেখ নাঈম কাসেম আরও বলেন, লেবাননে ব্যাপক ও ভয়াবহ হামলা বন্ধ হওয়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সমঝোতায় ইরানের ভূমিকা ছিল। তিনি দাবি করেন, ওই সমঝোতার প্রথম ধারাতেই লেবাননের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল এবং হামলা বন্ধ ও ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
হিজবুল্লাহ প্রধান বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে লেবাননের সরাসরি আলোচনা লেবানের জন্য অপমান, হতাশা ও ছাড় দেওয়ার বাইরে কিছু বয়ে আনবে না। ইসরাইল রাজনৈতিক কিছু অর্জন করলেও প্রতিরোধের উপস্থিতিতে মাঠপর্যায়ে সাফল্য অর্জন করতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের সরকারব্যবস্থা পরিবর্তন এবং দেশটির বিপ্লবী, প্রতিরোধমূলক ও ইসলামি অবস্থান শেষ করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে। ইরান তার সেনাবাহিনী, বিপ্লবী গার্ড, জনগণ ও শক্তিশালী নেতৃত্বের মাধ্যমে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে।
শেখ নাঈম কাসেম বলেন, যতদিন দখলদারিত্ব থাকবে, ততদিন প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে। যারা ইসরাইলি প্রকল্পের অংশ হবে, তাদের মোকাবিলা করা হবে। তিনি ঐক্যবদ্ধ ও অখণ্ড লেবাননের প্রতি প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং দেশের ভূখণ্ড নিয়ে কোনো আপস না করার কথা জানান।
তিনি আরও বলেন, ইসরাইলের সামনে একমাত্র পথ হলো সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, এবং শেষ পর্যন্ত তাদের সরে যেতেই হবে। গাজা ও ফিলিস্তিনকে ভুলে যাওয়া হবে না এবং এই আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে।