ভারতীয় পাটের চেয়ে বাংলাদেশের পাটের গুণগত মান অনেক উন্নত। বাংলাদেশের স্রোতযুক্ত পানিতে পাট পচানোর কারণে এর মান ভালো হয়। এ মন্তব্য করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। দেশটির পশ্চিমবঙ্গে এক অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ভারতীয় পাটের চেয়ে বাংলাদেশের পাটের গুণগত মান অনেক উন্নত। আমি যতটুকু জানি, ওখানে পানির স্রোত অনেক বেশি। স্রোতওয়ালা পানিতে যদি পাট পচানো যায়, তাহলে সেই পাটের গুণগত মান অনেক উন্নত হয়।
বুধবার (১৫ জুলাই) পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে সেন্ট্রাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর জুট অ্যান্ড অ্যালাইড ফাইবারস পরিদর্শনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, পাটের মান পরিদর্শন এবং কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
পরিদর্শনের সময় কৃষকরা পাটের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার অভিযোগ জানালে মন্ত্রী তাদের উপযুক্ত দাম নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, আমি যতটুকু জানি, বাংলাদেশে পানির স্রোত বেশি। স্রোতযুক্ত পানিতে পাট পচানো হলে তার গুণগত মান অনেক উন্নত হয়।
একসময় গঙ্গার তীরজুড়ে ভারতের শত শত পাটকল গড়ে উঠলেও বর্তমানে অধিকাংশই বন্ধ বা রুগ্ণ শিল্পে পরিণত হয়েছে। দেশভাগের পর উন্নত মানের কাঁচা পাটের বড় অংশ বাংলাদেশে থেকে যায়, আর অধিকাংশ পাটকল ভারতের অংশে পড়ে—যা শিল্পটির ভারসাম্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একই গাঙ্গেয় বদ্বীপ অঞ্চলের অংশ হলেও বাংলাদেশের স্রোতযুক্ত পানি, অনুকূল জলবায়ু, উর্বর পলিমাটি এবং পাট প্রক্রিয়াজাতকরণের পদ্ধতির কারণে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পাটকে তুলনামূলকভাবে বেশি মানসম্মত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তিনি আরও জানান, চমকপ্রদ খবর হলো, এবার পশ্চিমবঙ্গই হয়ে উঠবে সমগ্র পূর্ব ভারতের বীজ উৎপাদনের মূল হাব ৷ আগে অন্ধ্রপ্রদেশ বা পঞ্জাব থেকে পাট, ভুট্টা ও আলুর বীজ আনতে হতো ৷ এখন এই রাজ্যেই হাইব্রিড বীজ উৎপাদিত হবে ৷ চুঁচুড়া রাইস রিসার্চ স্টেশনটিকেও সেন্টার অব এক্সেলেন্স হিসেবে গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী।