শিরোনাম
◈ হাসিনা কলকাঠি নাড়ছেন, গুপ্তরা বাতাস দিচ্ছে: রিজভী ◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে

প্রকাশিত : ১৫ জুলাই, ২০২৬, ১০:২২ দুপুর
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ১৫ বছরের আবাসিক অনুমতি চালু করল কুয়েত

বিদেশি বিনিয়োগকারী, ব্যবসার মালিক এবং জ্যেষ্ঠ করপোরেট কর্মকর্তাদের জন্য ১৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদি আবাসিক অনুমতির যোগ্যতার শর্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে কুয়েত সরকার। নতুন এই নিয়ম কার্যকর হওয়ায় ভারতীয়সহ বিভিন্ন দেশের যোগ্য বিনিয়োগকারীরা এখন নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কুয়েতে দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের সুযোগ পাবেন।

কুয়েত সরকার জানিয়েছে, ২০১৩ সালের ১১৬ নম্বর আইনের আওতায় চালু হওয়া বিনিয়োগকারী আবাসিক অনুমতি কর্মসূচির মেয়াদ ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বাড়িয়ে ১৫ বছর করা হয়। তবে আবেদনকারীদের যোগ্যতার শর্ত নির্ধারণ না হওয়ায় এতদিন কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সেই শর্তগুলো প্রকাশ করা হয়েছে, ফলে কর্মসূচিটি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হলো।

advertisement

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কুয়েতে অনুমোদিত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের মালিক, ব্যবসায়িক অংশীদার, পরিচালক, জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এবং তাদের যোগ্য পরিবারের সদস্যরা এই আবাসিক অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারবেন। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান এবং বাবা-মাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

আবেদনকারীর অবশ্যই কমপক্ষে ছয় মাস মেয়াদসম্পন্ন বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে এবং তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড থাকা চলবে না।

advertisement

তবে শুধু ব্যক্তি নয়, সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানকেও একাধিক শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানটি কুয়েতে প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি অথবা বিদেশি কোম্পানির শাখা হতে হবে এবং কুয়েত প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বৈধ বিনিয়োগ লাইসেন্স থাকতে হবে। পাশাপাশি কুয়েতের স্থানীয় কর্মসংস্থান নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।

এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের ন্যূনতম বিনিয়োগের পরিমাণ হতে হবে ৫০ লাখ কুয়েতি দিনার, যা বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ১৪ কোটি ২০ লাখ ভারতীয় রুপির সমান। একই সঙ্গে কুয়েতের একটি ব্যাংকে কমপক্ষে ১০ লাখ কুয়েতি দিনার বা প্রায় ২ কোটি ৮৫ লাখ ভারতীয় রুপি পরিশোধিত মূলধন হিসেবে জমা থাকতে হবে।

advertisement

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই নীতিমালা বিশেষ করে ভারতীয় উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যারা কুয়েতে দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসা সম্প্রসারণ বা নতুন বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছেন।

প্রচলিত কর্মভিত্তিক ভিসার তুলনায় এই আবাসিক অনুমতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি কোনো নির্দিষ্ট চাকরির সঙ্গে যুক্ত নয়। ফলে বিনিয়োগকারী, ব্যবসার মালিক এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ ১৫ বছর কুয়েতে বসবাস করতে পারবেন। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ থাকায় পরিবারসহ স্থানান্তরের পথও সহজ হবে।

অভিবাসনবিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ফ্রাগোমেন বলেছে, দীর্ঘমেয়াদি আবাসিক অনুমতির মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য কুয়েতকে আরও আকর্ষণীয় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে একের পর এক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের ছয় সদস্য রাষ্ট্রে এক ভিসায় ভ্রমণের সুযোগ দিতে সমন্বিত পর্যটন ভিসা চালুর কাজও এগিয়ে চলছে। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই ভিসা ২০২৬ সালেই চালু হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে যোগ্যতার শর্ত নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ছিল, নতুন নিয়ম প্রকাশের মাধ্যমে তা দূর হয়েছে। ফলে কুয়েতে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসা, বিনিয়োগ এবং বসবাসে আগ্রহী বিদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য এখন একটি সুস্পষ্ট আইনি কাঠামো তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে দেশটিতে আরও বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

  • সর্বশেষ