আমেরিকা এবং ইসরায়েলের সাথে তীব্র ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের বিমান বাহিনীকে ঢেলে সাজাতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে রাশিয়া। চলতি বছরের শেষ নাগাদ তেহরানের কাছে ৩০টি অত্যাধুনিক ‘সু-৩৫’ (Su-35) ফাইটার জেট হস্তান্তর করতে যাচ্ছে মস্কো। রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ২০টি যুদ্ধবিমানের উৎপাদন সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি ১০টি যুদ্ধবিমান ডিসেম্বরের মধ্যে তৈরি হয়ে যাবে বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, শীতল যুদ্ধ বা স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘটার পর এটিই ইরানের সবচেয়ে বড় সামরিক অস্ত্র চুক্তি। ইরান রাশিয়ার কাছ থেকে মোট ৪৮টি অত্যন্ত শক্তিশালী ‘সু-৩৫’ যুদ্ধবিমানের অর্ডার দিয়েছে। ইরানের বিমানঘাঁটিগুলোর প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন শেষ হলেই এই বিমানগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে।
শুধু সু-৩৫-ই নয়, ইরান সম্প্রতি রাশিয়ার কাছ থেকে ১২টি ব্যবহৃত ‘সু-৩০এসএম২’ দূরপাল্লার ফাইটার জেটের অর্ডার দিয়েছে, যা ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে সরবরাহ করা হবে। এছাড়া দীর্ঘ মেয়াদে রাশিয়ার পঞ্চম প্রজন্মের ‘সু-৫৭’ স্টিলথ ফাইটার জেট কেনার বিষয়েও আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত সামরিক ভারসাম্য এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাশিয়া ও ইরানের এই ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাশিয়ার এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের বিমান বাহিনীর শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
ভিয়েতনাম যুদ্ধের আমলের পুরোনো এফ-৪ এবং এফ-৫ বিমান দিয়ে যেখানে ইরান সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও তাদের মিত্রদের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়েছে, সেখানে প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার যুদ্ধ ব্যাসার্ধের সু-৩৫ যুক্ত হলে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় ইরানের সামরিক প্রভাব কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।