শিরোনাম
◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে ◈ আফগান লিগে নাম লেখালেন তাসকিন ◈ ইউপি নির্বাচনে ইসির নতুন বিধান, জামানত বাড়ল পাঁচ গুণ ◈ বিদ্যুতায়নে বছরে কোটি কোটি ডলারের জ্বালানি আমদানি ব্যয় কমানোর সুযোগ বাংলাদেশের : আইইএর প্রতিবেদন ◈ ১১টি বোয়িং বিমান কেনার চুক্তি চূড়ান্তের পথে, এয়ারবাস নিয়ে ফ্রান্সের চাপ ◈ ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ, বাতিল ১০৩ অনাপত্তি সনদ ◈ ঢাকার আশপাশের বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নে বাংলাদেশকে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি ◈ জ্বালানি তেলের পর এবার বাড়ল লঞ্চ ভাড়া, কিলোমিটারে সর্বোচ্চ ২৩ পয়সা ◈ জ্যাকসের ঝড়ে লঙ্কা বিধ্বস্ত

প্রকাশিত : ০২ জুন, ২০২৬, ১০:২৭ দুপুর
আপডেট : ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ০২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দানবীয় নৌবহর গড়ে তুলছে চীন, বছরে তৈরি হচ্ছে ১০টি যুদ্ধজাহাজ

দক্ষিণ চীন সাগরে নতুন একটি আধুনিক যুদ্ধজাহাজ যুক্ত করার মাধ্যমে বিশ্ব রাজনীতি ও সামরিক অঙ্গনে বড় ধরনের তোলপাড় সৃষ্টি করেছে চীন। সম্প্রতি পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভি বা ‘পিএলএ নেভি’ তাদের বহরে যুক্ত করেছে সর্বাধুনিক ‘টাইপ ০৫২ডি’ শ্রেণির ডেস্ট্রয়ার ‘তংচুয়ান’।

এই যুদ্ধজাহাজটি যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে চীন এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করল। বর্তমানে চীনের নৌবাহিনীতে এই ‘টাইপ ০৫২ডি’ শ্রেণির ৩৫টি ডেস্ট্রয়ার সক্রিয় রয়েছে। এর পাশাপাশি রয়েছে আরও ১০টি ‘টাইপ ০৫৫’ শ্রেণির বিশালাকার ডেস্ট্রয়ার। ফলে চীনের বহরে এখন সর্বাধুনিক প্রজন্মের যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াল ৪৫টিতে। ২০২৬ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত চীন মোট ৫টি ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ কমিশন বা আনুষ্ঠানিকভাবে বহরে যুক্ত করেছে, যার মধ্যে ‘তংচুয়ান’ এই শ্রেণির তৃতীয় জাহাজ।

advertisement

এক দশকেই অভাবনীয় রূপান্তর: পশ্চিমাদের কপালে ভাঁজ

মাত্র এক দশক আগেও চীনের নৌবাহিনীর চিত্র এমন ছিল না। ২০১৪ সালের মার্চ মাসে চীন প্রথম ‘টাইপ ০৫২ডি’ শ্রেণির ডেস্ট্রয়ার ‘কুনমিং’ বহরে শামিল করে। এরপর ২০২০ সালের জানুয়ারিতে যুক্ত হয় প্রথম ‘টাইপ ০৫৫’ শ্রেণির ডেস্ট্রয়ার ‘নানচ্যাং’।

advertisement

গত কয়েক বছর ধরে চীনের শিপইয়ার্ডগুলো অত্যন্ত দ্রুতগতিতে যুদ্ধজাহাজ তৈরি করছে। বছরে গড়ে ৬ থেকে ১০টি পর্যন্ত ডেস্ট্রয়ার নির্মাণ করছে তারা। এর সিংহভাগই তৈরি হয়েছে চীনের ‘জিয়াংনান শিপইয়ার্ড’-এ, আর বাকি কিছু অংশ তৈরি হয়েছে ‘দালিয়ার শিপইয়ার্ড’-এ। চীনের এই অবিশ্বাস্য গতি দেখে রীতিমতো ঘুম উড়েছে পশ্চিমা সামরিক বিশ্লেষকদের।

কেন এই ‘টাইপ ০৫২ডি’ এত দানবীয় ও শক্তিশালী?

advertisement

চীনা নৌবাহিনীর ইতিহাসে ‘টাইপ ০৫২ডি’ শ্রেণিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধজাহাজ প্রোগ্রাম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রযুক্তিগত দিক থেকে এটি বৈশ্বিক মানদণ্ডে শীর্ষস্থানীয়।

আগের সংস্করণগুলোর চেয়ে এর সবচেয়ে বড় উন্নয়ন হলো এর ‘ভার্টিক্যাল লঞ্চ সিস্টেম’ বা ‘ভিএলএস’। এতে রয়েছে ৬৪টি সেল। এর মাধ্যমে জাহাজটি থেকে দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ‘এইচএইচকিউ-৯’, জাহাজ-বিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘ওয়াইজে-১৮’, স্থলভাগে আক্রমণের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘ওয়াইজে-১০০’, জাহাজ-বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ওয়াইজে-২০’ এবং সাবমেরিন-বিধ্বংসী রকেট টর্পেডো নিক্ষেপ করা যায়।

এই যুদ্ধজাহাজে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যন্ত শক্তিশালী ‘টাইপ ৩৪৬এ’ রাডার ব্যবস্থা। এটি নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তু ট্র্যাক করতে পারে এবং শত্রুপক্ষের ইলেকট্রনিক যুদ্ধকৌশল নস্যাৎ করতে সক্ষম। এমনকি আধুনিক ‘স্টিলথ’ বা রাডার-ফাঁকি দেওয়া যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তকরণেও এটি অত্যন্ত কার্যকর।

ন্যাটো জোটের ‘লিংক ১৬’ প্রযুক্তির মতোই এতে আধুনিক ট্যাকটিক্যাল ডাটা-লিংক ব্যবস্থা রয়েছে। এর ফলে সাগরে থাকা অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন, যুদ্ধবিমান এবং স্থল ঘাঁটির সাথে মুহূর্তের মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রের সব তথ্য ও লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান শেয়ার করা যায়।

লক্ষ্য: ‘ব্লু ওয়াটার’ নেভি ও বৈশ্বিক অবরোধ ভাঙা

এই বিপুল সংখ্যক আধুনিক যুদ্ধজাহাজ যুক্ত করার মূল উদ্দেশ্য হলো চীনের নৌবাহিনীকে উপকূলীয় অঞ্চল (গ্রিন ওয়াটার) থেকে বের করে গভীর সমুদ্রের (ব্লু ওয়াটার) এক অপরাজেয় শক্তিতে পরিণত করা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমা দেশগুলো যেন দূর সমুদ্রে চীনকে অবরুদ্ধ বা ‘ব্লকেড’ করতে না পারে, সেই কৌশল থেকেই চীন নিজেদের বিমানবাহী রণতরী (এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার) বহরের পাহারাদার হিসেবে এই ডেস্ট্রয়ারগুলোকে প্রস্তুত করছে। প্রশিক্ষণের আধুনিকায়ন, লজিস্টিকস এবং রক্ষণাবেক্ষণ সহজ করার জন্য চীন এই নির্দিষ্ট শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ ব্যাপকভাবে তৈরি করে নিজেদের পুরো রণকৌশলকে এক সুতোয় গেঁথে ফেলেছে। আর চীনের এই মহাসামুদ্রিক প্রস্তুতিই এখন কাঁপন ধরাচ্ছে পশ্চিমা বিশ্বে।

তথ্যসূত্র: মিলেটারি ওয়াচ ম্যাগাজিন

  • সর্বশেষ