শিরোনাম
◈ হাসিনা কলকাঠি নাড়ছেন, গুপ্তরা বাতাস দিচ্ছে: রিজভী ◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে

প্রকাশিত : ২৫ মে, ২০২৬, ০২:৪৫ দুপুর
আপডেট : ০২ আগস্ট, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মার্কিন পণ্যে বড় বিনিয়োগের ইঙ্গিত ভারতের, জানালেন রুবিও

ভারত আগামী পাঁচ বছরে ৫০০ বিলিয়ন (৫০ হাজার কোটি) মার্কিন ডলার মূল্যের মার্কিন পণ্য কেনার অঙ্গীকার করেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কারণে দুই দেশের সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তা প্রশমিত করতে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

গতকাল রোববার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এক বৈঠকের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের কৌশলগত জোট ‘কোয়াড’-এর বৈঠকে যোগ দিতে গত শনিবার নয়াদিল্লি পৌঁছান রুবিও।

advertisement

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এই চুক্তিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর এবং আমেরিকান কূটনীতিকদের ধন্যবাদ জানান। তিনি স্পষ্ট করেন, ভারতের এই ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ মূলত জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং কৃষি খাতে ব্যয় করা হবে।

তবে এই বিপুল অঙ্কের কেনাকাটার প্রতিশ্রুতি নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে কিছুটা মতপার্থক্য দেখা গিয়েছিল।

advertisement

গত ফেব্রুয়ারি মাসে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি ‘ফ্যাক্ট শিটে’ দাবি করা হয়, ভারত ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য কিনতে ‘অঙ্গীকারবদ্ধ’। পরবর্তীতে মার্কিন প্রশাসন সেই নথি সংশোধন করে জানায়, ভারত আরও বেশি আমেরিকান পণ্য কেনার ‘ইচ্ছা প্রকাশ’ করেছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল গত ৮ ফেব্রুয়ারি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, ৫০০ বিলিয়ন ডলারের এই হিসাবটি মূলত ভারতের বাণিজ্যিক ইচ্ছার প্রতিফলন, কোনো বাধ্যতামূলক চুক্তি বা আইনি বাধ্যবাধকতা নয়। তিনি বার্তা সংস্থা এএনআই-কে বলেছিলেন, ‘আমাদের কিনতেই হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে আমরা নির্দিষ্ট কিছু সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে চাই।’

advertisement

মন্ত্রী গোয়েল আরও জানান, যেকোনো কেনাকাটা পণ্যের দাম, গুণমান এবং চাহিদার ওপর নির্ভর করবে। ভারত প্রতি বছর ১০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য কিনতে বাধ্য—এমন জল্পনাও তিনি নাকচ করে দেন।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক নীতির কারণে দুই দেশের সম্পর্কে যে তিক্ততা তৈরি হয়েছিল, তা কাটাতেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ভারত সফর।

এর আগে ভারতের রপ্তানি পণ্যের ওপর ট্রাম্প প্রশাসন কঠোর শুল্ক আরোপ করেছিল। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্কসহ মোট ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপিয়েছিল ওয়াশিংটন।

তবে গত ২ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন সেই অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করে নেয়। এর ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর কার্যকর মার্কিন শুল্কের হার ৫০ শতাংশ থেকে কমে ১৮ শতাংশে নেমে এসেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মার্কিন শুল্ক হ্রাস এবং ভারতের এই বিশাল অঙ্কের পণ্য আমদানির ইচ্ছা প্রকাশের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বাণিজ্য দ্বন্দ্বের অবসান ঘটতে যাচ্ছে।

 

  • সর্বশেষ