আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে মাথায় রেখে নিজেদের নৌ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনছে চীন। ইউক্রেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোতে অ্যান্টি-শিপ ড্রোনের বিধ্বংসী প্রভাব বিশ্লেষণ করে পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA) তাদের নৌবাহিনীকে ঢেলে সাজাচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন এমন কিছু নতুন নেভাল ডিফেন্স সিস্টেম বা নৌ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করেছে যা সমুদ্রের উপরিভাগ এবং তলদেশ—উভয় ক্ষেত্রেই ড্রোন আক্রমণ মোকাবিলা করতে সক্ষম। এর মধ্যে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় সারফেস ভেসেল (USV) এবং আকাশপথের ড্রোন যা সমুদ্রের বিশাল এলাকায় নজরদারি ও পাল্টা হামলা চালাতে পারে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই পদক্ষেপ কেবল আত্মরক্ষা নয়, বরং দক্ষিণ চীন সাগর এবং তাইওয়ান প্রণালীতে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখার একটি রণকৌশল। নতুন এই ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ড্রোন ‘ঝাঁক’ (Swarm) নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, যা শত্রুপক্ষের শক্তিশালী রাডার বা মিসাইল সিস্টেমকেও ফাঁকি দিতে সক্ষম।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সমুদ্র যুদ্ধের প্রথাগত ধারণা বদলে দিচ্ছে। যেখানে আগে বড় বড় যুদ্ধজাহাজই ছিল শক্তির মূল উৎস, এখন সেখানে সস্তা কিন্তু কার্যকর ড্রোন প্রযুক্তি বড় জাহাজের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। চীনের এই নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূলত সাশ্রয়ী মূল্যে বিশাল শক্তি প্রদর্শনের একটি নতুন মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: ইনকিলাব