শিরোনাম
◈ হাসিনা কলকাঠি নাড়ছেন, গুপ্তরা বাতাস দিচ্ছে: রিজভী ◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে

প্রকাশিত : ০৬ মে, ২০২৬, ১০:৫১ দুপুর
আপডেট : ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ০২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সর্দি সারাতে কি ভিটামিন সি সত্যিই কাজ করে? জানালেন বিশেষজ্ঞরা

সর্দি হলেই কমলালেবু, লেবুর শরবত বা ভিটামিন সি ট্যাবলেট খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। বহুদিন ধরে বিশ্বাস করা হয়, ভিটামিন সি সর্দি দ্রুত সারিয়ে তোলে।

তবে আধুনিক গবেষণা বলছে, বিষয়টি এতটা সহজ নয়। ভিটামিন সি সরাসরি ওষুধ নয়, বরং শরীরকে সহায়তা করে।

advertisement

সর্দি সাধারণত ভাইরাসজনিত, বিশেষ করে রাইনোভাইরাসের কারণে হয়। একবার ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করলে ভিটামিন সি তা ধ্বংস করতে পারে না। শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ ব্যবস্থাই সময় নিয়ে সংক্রমণ দূর করে। তাই ভিটামিন সি সর্দি সারায়—এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়।

তবে ভিটামিন সি একেবারেই অপ্রয়োজনীয় নয়। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে এবং শ্বেত রক্তকণিকার কাজকে উন্নত করে। ফলে শরীর ভাইরাসের বিরুদ্ধে ভালোভাবে লড়তে পারে।

advertisement

পাশাপাশি এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে, যা সর্দির উপসর্গ কিছুটা হালকা করতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ভিটামিন সি গ্রহণ করলে সর্দির সময়কাল সামান্য কমতে পারে এবং উপসর্গের তীব্রতাও কিছুটা হ্রাস পায়। তবে সবার ক্ষেত্রে একই ফল পাওয়া যায় না।

advertisement

সর্দি প্রতিরোধে ভিটামিন সি খুব কার্যকর—এমন শক্ত প্রমাণ নেই। তবে যারা কঠোর শারীরিক পরিশ্রম করেন বা খুব ঠান্ডা পরিবেশে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে কিছুটা উপকার দেখা গেছে।

ভিটামিন সি পাওয়ার জন্য ফল ও সবজি সবচেয়ে ভালো উৎস। যেমন কমলালেবু, লেবু, আমলকি, পেয়ারা, ক্যাপসিকাম ও সবুজ শাকসবজি। প্রয়োজন হলে সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেতে পারে, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে।

অতিরিক্ত ভিটামিন সি গ্রহণ করলে পেটের সমস্যা, ডায়রিয়া এমনকি দীর্ঘমেয়াদে কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়তে পারে। সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দৈনিক ৭৫–৯০ মিলিগ্রামই যথেষ্ট, যা খাবার থেকেই পাওয়া সম্ভব।

সর্দি হলে সবচেয়ে কার্যকর হলো বিশ্রাম, পর্যাপ্ত পানি পান, গরম ভাপ নেওয়া এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন। পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার, বিশেষ করে ফল ও সবজি, উপসর্গ কমাতে সহায়ক।

সব মিলিয়ে, ভিটামিন সি কোনো জাদুকরী সমাধান নয়, তবে শরীরের প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এটিকে চিকিৎসা নয়, বরং সহায়ক হিসেবে দেখা উচিত। সুস্থ থাকতে সুষম খাদ্য, বিশ্রাম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সবচেয়ে জরুরি।

  • সর্বশেষ