শিরোনাম
◈ কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলিত হয়ে নিহত ১৭, ১৩ নারী ও ১ শিশু ◈ ভোটার তালিকা হালনাগাদ ২০২৬: খসড়া প্রকাশ ৫ নভেম্বর, চূড়ান্ত তালিকা ২৫ নভেম্বর ◈ সৌদি আরবের আইনে সাজা হলে সরকারের কিছু করার থাকে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ◈ মাদকের আস্তানায় অস্ত্র হাতে অভিযান নিয়ে যা বললেন ইশরাক ◈ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা বাড়াবে সরকার, কর্মসংস্থান ও যাতায়াত সুবিধা নিয়েও উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রী ◈ সৌদির রিয়াদগামী সব ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করল বিমান, ২১ অক্টোবর থেকে চালু হতে পারে দাম্মাম রুট ◈ ‘সিন্ডিকেট হচ্ছে ভাই’, সার সংকটে দিশেহারা গাইবান্ধার চরের কৃষকরা ◈ মাদক আস্তানায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রী ‘ইশরাকের অ্যাকশন’, আটক ৬ (ভিডিও) ◈ হামের থাবায় বাংলাদেশ, টিকাদানের ঘাটতি নিয়ে বিশ্বকে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা ◈ সুন্দরবনের জলজ প্রাণীর দেহে প্লাস্টিক, মাছ খেয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে মানুষ

প্রকাশিত : ০৫ মে, ২০২৬, ০৬:৩৪ বিকাল
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

১০ হাজার কো‌টি টাকা খেলাপি ঋণ রেখে বি‌শ্বের বি‌ভিন্ন দে‌শে মারা যাচ্ছেন সিকদার পরিবারের সদস্যরা 

ডেস্ক রি‌পোর্ট : মাত্র পাঁচ বছর আগেও দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী একটি নাম ছিল ‘সিকদার পরিবার’। এ পরিবারের কর্তা ও সিকদার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা জয়নুল হক সিকদারের প্রভাব ছিল ক্ষমতার অন্দরমহলেও। কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানে পরিবারটির ক্ষমতা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব ভেঙে পড়েছে। দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ রেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সিকদার পরিবারের সদস্যরা মৃত্যুবরণ করছেন।

সিকদার পরিবারের পতনের শুরু ২০২১ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে মারা যান জয়নুল হক সিকদার। কভিডে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন। তার মৃত্যুর পর সন্তানদের বিবাদ ঠেকাতে গ্রুপটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছিলেন স্ত্রী মনোয়ারা সিকদার। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে গতকাল আরব আমিরাতের দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন এ দম্পতির সন্তান ও সিকদার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রন হক সিকদার। দেশটির একটি হাসপাতালে বর্তমানে রনের ভাই রিক হক সিকদারও চিকিৎসাধীন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

হাজার হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণের চাপ, অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একাধিক মামলা ও পাওনাদারদের তোপের মুখে থাকা সিকদার পরিবারের কোনো সদস্যই এখন আর দেশে নেই। তাদের ব্যবহৃত ফোন নাম্বারগুলোও বন্ধ। গতকাল রন হক সিকদারের মৃত্যুর ঘটনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর জন্য এ পরিবারের কোনো সদস্যকে পাওয়া যায়নি। সিকদার গ্রুপের অফিসে ফোন দিয়েও কারো সাড়া মেলেনি।

এ বিষয়ে ন্যাশনাল ব্যাংকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সোমবার বলেন, দুবাই থেকে ফোন করে রন হক সিকদারের মৃত্যুর বিষয়টি আমাদের ব্যাংকের কয়েকজনকে জানানো হয়েছে। আর ফেব্রুয়ারিতে মনোয়ারা সিকদার যুক্তরাষ্ট্রে মারা গেলেও আমরা বেশ কিছুদিন পরে সেই খবর শুনেছি। মৃত্যুর প্রায় দেড় মাস পর মনোয়ারা সিকদারের লাশ দেশে এনে অনেকটা নীরবে-নিভৃতে দাফন করা হয়েছে। এ পরিবারের কোনো সদস্যই এখন আর দেশে নেই। বিদেশেও তারা ছন্নছাড়া জীবনযাপন করছেন।’

Advertisement

দেশের ব্যাংকসহ আর্থিক খাতে সিকদার পরিবারের উত্থান ঘটে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার (ক্ষমতাচ্যুত) ক্ষমতায় আসার পর। কথিত আছে, প্রয়াত জয়নুল হক সিকদারকে অভিভাবকতুল্য বিবেচনা করতেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজনৈতিক এ প্রভাবকে ব্যবহার করে বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসিতে একক কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে সিকদার পরিবার। ২০০৯ সাল-পরবর্তী সময় থেকে মৃত্যুর দিন পর্যন্ত ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলেন জয়নুল হক সিকদার। ওই সময়ে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে, নাতিসহ অন্তত ছয়জনকে সদস্য করেছিলেন। এক পরিবারের হাতে নিয়ন্ত্রিত হওয়া ন্যাশনাল ব্যাংকে অনিয়ম-দুর্নীতি ও কমিশনের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে দেশের প্রথম প্রজন্মের এ ব্যাংকের আর্থিক কাঠামো ভেঙে পড়ে। গত বছর ন্যাশনাল ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার প্রায় ৭৬ শতাংশে গিয়ে ঠেকে। ২০২৪ সাল শেষে ব্যাংকটির ক্রমপুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ হাজার ৩২৯ কোটি টাকায়। ২০২৫ সালেও ব্যাংকটি প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার নিট লোকসান দিয়েছে। সিকদার পরিবারের লুণ্ঠনের শিকার এ ব্যাংকটি গ্রাহকদের আমানতের অর্থও ফেরত দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তারল্য সহায়তা নিয়ে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে ব্যাংকটি।

জয়নুল হক সিকদার মারা যাওয়ার পর ২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ‘সিকদার গ্রুপের ঋণ ৬ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা’ শিরোনামে বণিক বার্তায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের সূত্রে বলা হয়, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে সিকদার গ্রুপের ১à§