শিরোনাম
◈ মাদক আস্তানায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রী ‘ইশরাকের অ্যাকশন’, আটক ৬ (ভিডিও) ◈ হামের থাবায় বাংলাদেশ, টিকাদানের ঘাটতি নিয়ে বিশ্বকে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা ◈ সুন্দরবনের জলজ প্রাণীর দেহে প্লাস্টিক, মাছ খেয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে মানুষ ◈ দুই সপ্তাহের মধ্যে আজিমপুর কোয়ার্টার পরিচ্ছন্ন করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ◈ সৌদিতে কূটনৈতিক তৎপরতায় শ্রীলঙ্কানের মৃত্যুদণ্ড বাতিল, দুই বাংলাদেশির বেলায় কী হলো? ◈ একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু, স্বজনদের দাবি রাতে খেয়েছিলেন নুডলস ◈ শিশু হাসপাতালে চিকিৎসকের কক্ষে ধূমপান, দেখেই বরখাস্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর (ভিডিও) ◈ ড্যাপের নতুন সংশোধনীতে বুড়িগঙ্গার তীরে ভারী শিল্পের অনুমোদন, বন্যাপ্রবাহ এলাকায় আবাসন প্রকল্পের সুযোগ ◈ যুক্তরাষ্ট্রে ভিসার মেয়াদ পেরিয়ে অবস্থান করলে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, ফৌজদারি মামলার হুঁশিয়ারি মার্কিন দূতাবাসের ◈ ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থী-তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর, পরিচ্ছন্নতায় জোর দিতে নির্দেশনা

প্রকাশিত : ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:৩২ বিকাল
আপডেট : ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:১৬ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে কবে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি?

কয়েক মাসের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে লাভজনক ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বুঝে নেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড। গত ৮ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) ঢাকার বিনিয়োগ ভবনের মিলনায়তনে এ বিষয়ে উভয়ের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী ১৫ বছরের জন্য এনসিটি পরিচালনা করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড। পাশাপাশি টার্মিনাল আধুনিকায়ন, যন্ত্রপাতি হালনাগাদ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে দুবাইভিত্তিক এই টার্মিনাল অপারেটর ১৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে সই হওয়া চুক্তির শর্তে কী কী বিষয় উল্লেখ রয়েছে তা এখনও প্রকাশ পায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চুক্তি হওয়ার পর টার্মিনালটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে বন্দর সংশ্লিষ্টরা।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও এনসিটি নিয়ে চুক্তির প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারী, শ্রমিক সংগঠন, বাম রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও এনসিটি টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে না দিতে বন্দরে কর্মবিরতি, সড়ক অবরোধ, বন্দর ভবন ঘেরাও এমনকি বন্দর অচল করে দেওয়ার মতো কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতৃত্বে অন্য কয়েকটি সংগঠন মিলে টানা ৯ দিন বন্দর অচল করে রেখেছিল। ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

Advertisement

আন্দোলনের মধ্যে গত ৮ অক্টোবর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এনসিটি পরিচালনার চুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়। ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান এইচ ই ইসা কারিম এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান চুক্তিতে সই করেন।

জানা গেছে, চুক্তির মেয়াদ প্রথমে ১৫ বছর ধরা হলেও পরবর্তী সময়ে সহজ শর্তে নবায়নের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি টার্মিনাল আধুনিকায়ন, যন্ত্রপাতি হালনাগাদ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে দুবাইভিত্তিক এই টার্মিনাল অপারেটর ১৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে বন্দরকে এককালীন পাঁচ কোটি ডলার দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বছরে ন্যূনতম ১২ লাখ ৩০ হাজার টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে চুক্তিতে। তবে গত অর্থবছরে দেশীয় অপারেটররা এই টার্মিনালে ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে।

এদিকে, এনসিটির সঙ্গে করা চুক্তি বাতিলের দাবিতে গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে বন্দরের ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারের সামনে গণঅনশন কর্মসূচি পালন করেছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।

সংগঠনের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, ‘এনসিটি নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করতে হবে। সরকারকে আমরা ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত আলোচনার সময় দিলাম। এর মধ্যে কোনও উদ্যোগ নেওয়া না হলে ১৯ অক্টোবর থেকে আমরা আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করবো।’  

তিনি আরও বলেন, ‘এনসিটির চুক্তিতে কী আছে তা আমরা জানি না। দেশের জনগণও জানে না। আমরা চাই সরকার অবিলম্বে এই চুক্তি বাতিল করুক।’

এনসিটির সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ডের চুক্তি প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি আমিরুল হক বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করতে সাধারণ ব্যবসায়ীদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। ব্যবসায়ী নেতারা বন্দর চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখাও করতে পারেন না। তিনিও কখনও কোনও প্রতিষ্ঠানে যান না। প্রাইভেট সেক্টরে গেলে সেই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা না হোক, অন্তত দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের দেখা হয়তো আমরা পাবো। এটা পেলেই আমরা খুশি। কারণ আমরা চাই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত। এটা পেলেই বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে।’

তিনি আরও বলেন, ‘চুক্তিতে কী আছে সেটা আমাকে জানানো হয়নি। এ কারণে আমি কিছু জানি না। কিন্তু বন্দর ব্যবহারকারীদের শীর্ষ সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে এ সম্পর্কে আমার জানা উচিত ছিল। এখানে আমাদের লাভ-ক্ষতি কী সে সম্পর্কে আমরা একেবারেই অন্ধকারে।’

তবে এনসিটির চুক্তির বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম।

চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি প্রধান কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। গত অর্থবছরে এই টার্মিনালের মাধ্যমে প্রায় ১৩ লাখ ৮৫ হাজার একক কনটেইনার উঠানো-নামানো হয়েছে, যা বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪৪ শতাংশ।

২০০৭ সালে নির্মাণকাজ শেষ হওয়া প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ টার্মিনালটিতে একসঙ্গে চারটি সমুদ্রগামী ও একটি ছোট কনটেইনার জাহাজ ভিড়ানো যায়। বর্তমানে টার্মিনালটি পরিচালনা করছে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন 

  • সর্বশেষ