নোয়াখালী প্রতিনিধি : নোয়াখালীর কবিরহাটে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পুলিশকে তথ্য দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীর ওপর হামলা, মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আরমান হোসেন পারভেজ।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার চাপরাশির হাট ইউনিয়নের উপদ্দি লামছি গ্রামের আমুর ব্যাপারী বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি। পারভেজ চাপরাশির হাট বণিক সমবায় সমিতির সদস্য ও চাপরাশির হাট ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি।
সংবাদ সম্মেলনে পারভেজ অভিযোগ করেন, উপদ্দি লামছি গ্রামের আরিফ, নজরুল ও সানিসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে চাপরাশির হাট ইউনিয়ন ও বাজার এলাকায় মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং চুরি-ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। তাদের কর্মকাণ্ডে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
তিনি বলেন, এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী সচেতনতামূলক সভা-সেমিনারে পুলিশ অপরাধীদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও বিট পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিদর্শককে (এসআই) অবহিত করেন।
পারভেজের দাবি, বিষয়টি জানতে পেরে গত ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় চাপরাশির হাট পশ্চিম বাজারে আরিফ, নজরুল ও সানিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁর ওপর হামলা চালান। এ সময় তাঁকে মারধর করে মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়।
ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় কবিরহাট থানা ও জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অভিযোগ করার কারণে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বসতে পারছেন না, এমনকি বাড়ির বাইরেও বের হতে ভয় পাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযোগের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান পারভেজ।
সংবাদ সম্মেলনে আরমান হোসেন পারভেজের বাবা বাহার উল্ল্যাহ, মা লাইলী বেগম শিল্পী, স্ত্রী সুইটি আক্তার সুবর্ণা’সহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।