শিরোনাম
◈ হাসিনা কলকাঠি নাড়ছেন, গুপ্তরা বাতাস দিচ্ছে: রিজভী ◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে

প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:২৬ বিকাল
আপডেট : ২১ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পারমাণবিক শক্তিতে বড় মাইলফলক ছুঁলো ভারত

ভারতের পারমাণবিক শক্তি কর্মসূচিতে এই সপ্তাহে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। তামিলনাড়ুর কালপাক্কামে অবস্থিত সম্পূর্ণ ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিয়্যাক্টর প্রথমবারের মতো ‘ক্রিটিক্যালিটি’ অর্জন করেছে, যা একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়ার সূচনা। 

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এই সাফল্যকে ভারতের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির একটি ‘নির্ণায়ক পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই উন্নয়ন ভারতের দীর্ঘমেয়াদী তিন স্তরের কৌশলের দ্বিতীয় ধাপকে আরও এগিয়ে নিয়ে গেল এবং দেশটিকে তার বিশাল থোরিয়াম ভাণ্ডার ব্যবহারের আরও কাছাকাছি পৌঁছে দিল। 

advertisement

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থাও এই অগ্রগতির প্রশংসা করে জানিয়েছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির পাশাপাশি কার্বনমুক্ত এবং নির্ভরযোগ্য শক্তির উৎস হিসেবে পারমাণবিক শক্তির গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।

বিশ্বের মোট থোরিয়াম মজুদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভারতের হাতে রয়েছে, যা দেশটিকে একটি কৌশলগত সুবিধা প্রদান করে। ওয়ার্ল্ড নিউক্লিয়ার অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ভারত বর্তমানে ৮ লক্ষ ৪৬ হাজার টন থোরিয়াম মজুদ নিয়ে বিশ্বের শীর্ষে অবস্থান করছে। তালিকায় ভারতের পরেই রয়েছে ব্রাজিল (৬ লক্ষ ৩২ হাজার টন) এবং অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র (প্রতিটি ৫ লক্ষ ৯৫ হাজার টন)। ভারতের মূল লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে এই থোরিয়ামকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

advertisement

বর্তমানে ভারতের পারমাণবিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মূলত ইউরেনিয়াম-ভিত্তিক রিয়্যাক্টরের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে দেশে মোট সাতটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু রয়েছে। এর মধ্যে তামিলনাড়ুর কুদানকুলাম ২,০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা নিয়ে বৃহত্তম কেন্দ্রের স্থান দখল করে আছে। এছাড়া গুজরাটের কাকরাপাড় (১,৮৪০ মেগাওয়াট), রাজস্থানের রাওয়াতভাটা (১,৭৮০ মেগাওয়াট) এবং মহারাষ্ট্রের তারাপুর (১,৪০০ মেগাওয়াট) কেন্দ্রগুলো দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কর্ণাটকের কাইগা (৮৮০ মেগাওয়াট), কালপাক্কাম ও নারোরা (উভয়ই ৪৪০ মেগাওয়াট) কেন্দ্রগুলো ইউরেনিয়াম জ্বালানি ব্যবহার করে বর্তমানে প্রায় ৮.৮ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সরবরাহ করছে।

পরিসংখ্যান বলছে, গত দুই দশকে ভারতের পারমাণবিক শক্তি সরবরাহে ব্যাপক প্রবৃদ্ধি ঘটেছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে পারমাণবিক শক্তির সরবরাহ ছিল মাত্র ৪.৪৯ এমটিওই, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২.৪৯ এমটিওই-তে। 

advertisement

কালপাক্কামের এই সাম্প্রতিক সাফল্য এবং ক্রমবর্ধমান শক্তির চাহিদা নির্দেশ করে যে ভারতের বর্তমান পারমাণবিক শক্তি ইউরেনিয়াম নির্ভর হলেও, দীর্ঘমেয়াদী পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ভবিষ্যতের চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে থোরিয়ামের মধ্যেই। কালপাক্কামের এই অগ্রগতি ভারতকে সেই লক্ষ্য অর্জনে এক ধাপ এগিয়ে দিল।

সূত্র: এনডিটিভি।

  • সর্বশেষ