শিরোনাম
◈ ওয়াশিংটন–তেহরান ১৪ দফা সমঝোতা স্মারক প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র ◈ ব্যাংকিং খাতে ফিরছে সুদিন! ◈ ভারতে পাচার ৬ বাংলাদেশি নারীকে ট্রাভেল পারমিটে ফেরত ◈ বাবা ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদ’, জন্ম ১৯৮১ সালে বলে ভাইরাল সেই জামায়াত এমপির বাবা এখনও জীবিত! ◈ ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে টার্গেট স্নাইপার-ড্রোন করে হামলার পরিকল্পনা, এফবিআইয়ের অভিযানে আটক ৫ ◈ বাংলাদেশি টাকার মান বেড়েছে ভারতীয় রুপির বিপরীতে ◈ সকালে সিলেটে প্রধানমন্ত্রীর বকুনি খেয়ে বিকেলে সংসদে হাজির হলেন এমপি ◈ ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ কৌশলগত বড় পরিবর্তন: ইন্দো-প্যাসিফিক নাম বাদ, নতুন করে ‘ইউএস প্যাসিফিক কমান্ড’ চালু করল পেন্টাগন ◈ হামের টিকাদানে গাফিলতির প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা, হজের খরচ কমানো ও তিস্তায় নতুন ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫০ রাত
আপডেট : ১৭ জুন, ২০২৬, ১১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ডাকাতির নাটকের আড়ালে ভয়ংকর সত্য: প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে খুন

ভারতের মধ্যপ্রদেশের ধার এলাকার এক মসলা ব্যবসায়ীকে খুনের ঘটনায় বেরিয়ে এসেছে এক সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক কাহিনি। শুরুতে ডাকাতির ঘটনা বলে মনে করা হলেও পুলিশের তদন্তে উন্মোচিত হয়েছে—নিহত ব্যক্তির স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিক মিলে এই হত্যাকাণ্ডের ছক কষেছিলেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ৭ এপ্রিল রাতে ২৮ বছর বয়সী পুরোহিত দেবকৃষ্ণকে তাঁর নিজ বাড়িতে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। দেবকৃষ্ণের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা (২৫) শুরুতে পুলিশকে জানিয়েছিলেন, অজ্ঞাতনামা ডাকাত দল বাড়িতে ঢুকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার মালপত্র লুট করেছে এবং বাধা দেওয়ায় তাঁর স্বামীকে খুন করা হয়েছে। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে তিনি দাবি করেন, ডাকাতেরা তাঁকে বেঁধে জিম্মি করে রেখেছিল।

ঘটনার তদন্ত শুরু হলে প্রিয়াঙ্কার সাজানো গল্প দ্রুত ভেঙে পড়তে শুরু করে। পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানান, এই দম্পতির দাম্পত্যজীবন দীর্ঘ সময় ধরে অশান্ত ছিল। দেবকৃষ্ণের বোন জ্যোতি অভিযোগ করেন, প্রিয়াঙ্কা প্রায়ই তাঁর ভাইকে গায়ের রং নিয়ে অপমান করতেন। তিনি বলতেন, ‘তুমি কালো...তুমি আমার যোগ্য নও...আমি আরও ভালো কাউকে পেতাম।’

পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসে, রাজগড়ের বাসিন্দা কমলেশ পুরোহিত (৩২) নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে প্রিয়াঙ্কার পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। তাঁরা দুজনে মিলে দেবকৃষ্ণকে পথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।

পুলিশ জানায়, প্রেমিক কমলেশ তাঁর সহযোগী সুরেন্দ্র ভাটির সঙ্গে দেবকৃষ্ণকে হত্যার জন্য এক লাখ টাকার চুক্তি করেন এবং অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। হত্যার রাতে পরিকল্পিতভাবে ঘরের দরজা খোলা রাখা হয়েছিল। সুরেন্দ্র ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত দেবকৃষ্ণকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করেন। ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে সাজাতে রুমের ভেতর তছনছ করা হয় এবং অলংকার চুরির নাটক সাজানো হয়।

তদন্তে প্রিয়াঙ্কার বক্তব্যে বারবার অসংগতি পাওয়ায় পুলিশের সন্দেহ গভীর হয়। তল্লাশি চালিয়ে ঘরের ভেতর থেকে সেই অলংকারগুলো উদ্ধার করা হয়, যা প্রিয়াঙ্কা চুরি হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন। এ ছাড়া মোবাইল ফোনের কল রেকর্ডের সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ডের সময় প্রিয়াঙ্কা ও কমলেশের মধ্যে যোগাযোগের অকাট্য প্রমাণ পায় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে প্রিয়াঙ্কা শেষ পর্যন্ত নিজের অপরাধ স্বীকার করেন।

এ ঘটনায় প্রিয়াঙ্কা ও কমলেশকে গ্রেপ্তার করা হলেও ভাড়াটে খুনি সুরেন্দ্র ভাটি এখনো পলাতক রয়েছেন। দেবকৃষ্ণের মা খেঞ্চি বাই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন। দেবকৃষ্ণের বোন জ্যোতি বলেন, ‘২০২০ সাল থেকে প্রিয়াঙ্কার ওপর আমার সন্দেহ ছিল। সে সব সময় ফোনে ব্যস্ত থাকত, কাজ এড়িয়ে চলত এবং ভাইকে গায়ের রং নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করত। আমার ভাই পরিবারের শান্তির জন্য সব মুখ বুজে সহ্য করেছে।’

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়