যুক্তরাষ্ট্রে আংশিক সরকার শাটডাউন এড়াতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থিত একটি ব্যয় বিল সিনেটে পাস হয়েছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত ভোটে বিলটি ৭১–২৯ ভোটে অনুমোদন পায়। বিলটি এখন প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস) বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়েছে, তবে হাউস সদস্যরা সোমবার পর্যন্ত অধিবেশনে ফিরছেন না। ফলে সপ্তাহান্তে স্বল্প সময়ের জন্য সরকারের কিছু অংশ আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
এই বিলের মাধ্যমে আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত সরকারের বেশিরভাগ কার্যক্রমের অর্থায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অর্থায়নের ক্ষেত্রে সাময়িক সম্প্রসারণ রাখা হয়েছে, যার ফলে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান নিয়ে নতুন বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়ে কংগ্রেসের হাতে দুই সপ্তাহ সময় থাকবে।
বিলটি পাসের প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সিনেট ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে একটি বিরল সমঝোতায় পৌঁছান। মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল এজেন্টদের হাতে দুই বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর ঘটনার পর দেশজুড়ে উত্তেজনার মধ্যেই এই সমঝোতা হয়। ভোটের পর সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার বলেন, ‘দেশ একটি ভাঙনের প্রান্তে পৌঁছেছে। আমেরিকান জনগণ কংগ্রেসের কাছ থেকে বাস্তব পরিবর্তন প্রত্যাশা করছে।’
ট্রাম্প শাটডাউন এড়াতে আগ্রহী ছিলেন এবং নিজের ঘন ঘন সমালোচক শুমারের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। পরে তিনি উভয় দলের সদস্যদের ‘প্রয়োজনীয় দ্বিদলীয় হ্যাঁ ভোট’ দেওয়ার আহ্বান জানান।
ডেমোক্র্যাটরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ফেডারেল ব্যয় বিলের পক্ষে তারা তখনই সমর্থন দেবেন, যদি অভিবাসন অভিযান পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোর ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে— এজেন্টদের পরিচয় প্রকাশ, অতিরিক্ত ওয়ারেন্ট বাধ্যতামূলক করা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে ঘটনার তদন্তে যুক্ত করার সুযোগ।
হাউস স্পিকার মাইক জনসন জানান, সোমবার সন্ধ্যায় বিলটি ভোটে তোলা হতে পারে। তবে রিপাবলিকানদের ডানপন্থি অংশ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির অর্থায়নে সীমাবদ্ধতার বিরোধিতা করায় বিলটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। এতে জনসনকে ডেমোক্র্যাটদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যাদেরও নিজস্ব আপত্তি রয়েছে।
হাউস ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস বলেন, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিলের যেকোনো পরিবর্তন হতে হবে ‘অর্থবহ ও রূপান্তরমূলক’। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন না এলে রিপাবলিকানদের আবারও শাটডাউনের মুখোমুখি হতে হবে।’
এদিকে সিনেটের রিপাবলিকান নেতা জন থুন বলেন, দুই পক্ষ সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনায় বসবে, তবে এত অল্প সময়ের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানো ‘খুবই কঠিন’ হবে।
এ পরিস্থিতিতে অভিবাসন অভিযান ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটির অর্থায়ন নিয়ে আগামী দুই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে টানাপোড়েন আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।