মোঃ জালাল উদ্দিন, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ এলাকায় শীতের প্রকোপ অনেকটাই কমে এলেও ব্যতিক্রম হিসেবে রয়ে গেছে মৌলভীবাজার জেলার হাওর ও পাহাড়বেষ্টিত চা শিল্পাঞ্চল শ্রীমঙ্গল। চলতি শীত মৌসুমে এখানকার তাপমাত্রা গত কয়েকদিন ধরেই ১০ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। ফলে কনকনে ঠাণ্ডায় শীতের তীব্রতায় কাঁপছে জনজীবন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ইং) সকাল ৬টায় শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরে সকাল ৯টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে শ্রীমঙ্গলের অন্যতম সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
এলাকাবাসী জানান, দিনের বেলায় সূর্যের দেখা মিললেও সন্ধ্যার পর থেকেই তাপমাত্রা দ্রুত কমে যায়। শুরু হয় হিমেল হাওয়ার দাপট। রাত ও ভোরের দিকে শীতের তীব্রতা এতটাই বেড়ে যায় যে প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ, চা শ্রমিক, শিশু ও বয়স্করা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের সিনিয়র পর্যবেক্ষক রাকিবুল হাসান জানান, এ সময় শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। তিনি বলেন, “শ্রীমঙ্গল পাহাড়, বনাঞ্চল ও হাওরবেষ্টিত এলাকা হওয়ায় প্রতিবছরই এখানে শীতের তীব্রতা তুলনামূলক বেশি অনুভূত হয়। ত্রিপুরা ও মেঘালয় অঞ্চল থেকে আসা হিমেল বাতাস সরাসরি এই এলাকায় প্রবেশ করায় শীত আরও বাড়ে।”
এদিকে তীব্র শীতের কারণে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শীতজনিত রোগীর সংখ্যাও বাড়তে শুরু করেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসনিম জানান, সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, হাঁপানি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ঝুঁকি বেশি।
পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিত শ্রীমঙ্গলে শীতের এই তীব্রতা পর্যটকদের মাঝেও আলাদা অনুভূতি তৈরি করেছে। ভোরের দিকে চা বাগান ও পাহাড়ি এলাকায় কুয়াশা আর ঠাণ্ডার মিশেলে প্রকৃতি হয়ে উঠছে মনোমুগ্ধকর, তবে পর্যটকদের শীতবস্ত্র ছাড়া চলাফেরা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শ্রীমঙ্গলে অতীতেও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড রয়েছে। ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি এখানে তাপমাত্রা নেমে এসেছিল মাত্র ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এছাড়া ১৯৬৬ সালের ২৯ জানুয়ারি ৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি, ২০০৩ সালের ২৩ জানুয়ারি ৫ ডিগ্রি এবং ২০০৭ সালের ১৭ জানুয়ারি ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, চলতি শীত মৌসুমে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। এজন্য শীতজনিত রোগ থেকে রক্ষা পেতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন ও শীতবস্ত্র ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।