যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ দোষী সাব্যস্ত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন সংক্রান্ত ভিডিও ও ছবিসমৃদ্ধ নতুন একটি বিশাল নথি ভাণ্ডার উন্মুক্ত করেছে। জেফ্রি এপস্টেইনের বিচারকার্যের ব্যপারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য কংগ্রেসের একটি আইনি নির্দেশনার অংশ হিসেবে এই নথিগুলো উন্মুক্ত করা হলো। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আজকের প্রকাশনের মাধ্যমে একটি ব্যাপক নথি শনাক্তকরণ ও পর্যালোচনার কাজ সম্পন্ন হলো, যাতে জনগণের জন্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায় এবং আইন মেনে চলা যায়।” তিনি জানান, বিচার বিভাগ কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তিকে, যার মধ্যে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও আছেন, রক্ষা করার চেষ্টা করেনি।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আজকের এই নথি উন্মুক্তকরণের মাধ্যমে এপস্টেইন সংক্রান্ত সকল নথি শনাক্তকরণ ও পর্যালোচনার কাজ সম্পন্ন হলো। এর ফলে জনগণের কাছে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ সম্ভব হবে।” তিনি জানান, বিচার বিভাগ কোন প্রভাবশালী ব্যক্তিকেই, এমনকি ট্রাম্পকেও রক্ষা করার চেষ্টা করেনি।
উন্মুক্তকৃত নথির মধ্যে ৩০ লাখেরও বেশি পৃষ্ঠায় লিখিত নথি, সাথে ২ হাজার ভিডিও এবং ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি রয়েছে। এপস্টেইনের যৌন নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা এবং চলমান তদন্তের স্বার্থে সংবেদনশীল তথ্যগুলো এই নথিভাণ্ডারে অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি। ভিডিও ও ছবিতে গিসলেন ম্যাক্সওয়েল ছাড়া বাকি সব নারীর পরিচয়ই অস্পষ্ট (ব্লার) করে দেওয়া হয়েছে।
ডেমোক্র্যাটরা কিছু নথি প্রকাশ না করার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এপস্টেইন সংক্রান্ত এসব নথি উন্মুক্তকরণের পেছনের কারিগর, ডেমোক্র্যাট নেতা রো খানা উল্লেখ করেন, সম্ভাব্য ৬০ লাখেরও বেশি পৃষ্ঠার মধ্যে মাত্র ৩৫ লাখ পৃষ্ঠা পর্যালোচনার পর প্রকাশ করা হয়েছে। এদিকে সিনেটের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার দাবি করেছেন, ট্রাম্প-সংক্রান্ত সব নথি প্রকাশ করা হয়েছে কি না তা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।
পূর্বে উন্মুক্তকৃত নথি ভাণ্ডারে ট্রাম্পের নব্বইয়ের দশকে এপস্টেইনের ব্যক্তিগত জেট বিমানে ভ্রমণের ফ্লাইট লগ পাওয়া গেছে। একই নথি ভাণ্ডারে বিল গেটস, স্টিভ বেনন, উডি অ্যালেন, বিল ক্লিনটন ইত্যাদি ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সাথে এপস্টেইনের দেখা-সাক্ষাৎ ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের তথ্য পাওয়া গেছে। নতুন করে উন্মুক্তকৃত তথ্য ভাণ্ডারে ইলন মাস্ক, স্টিভ বেননসহ অনেক ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সাথে এপস্টেইনের ইমেইল আদান-প্রদান, টেক্সট মেসেজ, তদন্ত সংক্রান্ত নথি, এপস্টেইনের কারাবাস ও মৃত্যুর বিস্তারিত তথ্যও রয়েছে।
এপস্টাইন আগস্ট ২০১৯ সালে নিউ ইয়র্কের জেলে আত্মহত্যা করেন, এক মাস পর তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি নারী পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছিল। গিসলেন ম্যাক্সওয়েল বর্তমানে ২০ বছরের সাজা ভোগ করছেন, তবে প্রকাশিত নথিতে নাম থাকা অন্যান্য সকল ব্যক্তি, এমনকি প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও অপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।
নতুন উন্মুক্তকৃত নথি ভাণ্ডার এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট এর অন্তর্গত, যা নভেম্বর ২০২৫ এ সিনেটে উভয় দলের সমর্থনে পাস হয়েছিল। এই আইনের উদ্দেশ্য সব আইনি ও রাষ্ট্রীয় নথি সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্তকরণ নিশ্চিত করা।