শিরোনাম
◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে ◈ আফগান লিগে নাম লেখালেন তাসকিন

প্রকাশিত : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১১:৩৯ দুপুর
আপডেট : ০৮ জুলাই, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নারীদের লেখা বই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রম থেকে সরানোর নির্দেশ তালেবানের, যৌন হয়রানি নিয়েও পড়ানো নিষেধ

আন্তর্জা‌তিক ডেস্ক : আফগানিস্তানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচি থেকে নারীদের লেখা বই সরিয়ে দিয়েছে তালেবান সরকার। মানবাধিকার ও যৌন হয়রানি বিষয়ক পাঠদানের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

'শরিয়াবিরোধী ও তালেবান নীতির পরিপন্থী' বলে চিহ্নিত করা ওই তালিকার মোট বইয়ের সংখ্যা ৬৮০টি। এর মধ্যে নারীদের লেখা প্রায় ১৪০টি বই নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে 'সেফটি ইন দ্য কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি' মতো শিরোনামের বইও।

advertisement

এছাড়াও আরও ১৮টি বিষয় আর পড়ানো যাবে না বলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তালেবানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এসব বিষয় 'শরিয়াহ ও কাঠামোর নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক'। --- বি‌বি‌সি বাংলা

চার বছর আগে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে একের পর এক জারি করা বিধিনিষেধের নতুন সংযোজন এটি। সম্প্রতি তালেবানের সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশে দেশটির অন্তত ১০টি প্রদেশে ফাইবার-অপটিক ইন্টারনেট নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, অনৈতিক কর্মকাণ্ড রোধের জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

advertisement

এই বিধিনিষেধ আফগান জীবনের নানা ক্ষেত্রে প্রভাব ফেললেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নারীরা। ষষ্ঠ শ্রেণির পর থেকে তাদের শিক্ষাগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, আর ২০২৪ সালের শেষ দিকে ধাত্রীবিদ্যা কোর্স বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পেশাগত প্রশিক্ষণের শেষ সুযোগটিও হারিয়েছে তারা।

এবার সরাসরি নারীবিষয়ক পাঠ্যও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষিদ্ধ ১৮টি বিষয়ের মধ্যে ছয়টিই নারীদের নিয়ে–– যেমন জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, দ্য রোল অব উইমেন ইন কমিউনিকেশন এবং উইমেন'স সোসিওলজি।

advertisement

তালেবান সরকার বলছে, আফগান সংস্কৃতি ও শরিয়ার ব্যাখ্যা অনুযায়ী তারা নারী অধিকারকে সম্মান করে।

শিক্ষায় এক শূন্যতা

বইগুলো পর্যালোচনার দায়িত্বে থাকা কমিটির এক সদস্য বিবিসি আফগানকে নিশ্চিত করেছেন যে, নারীদের লেখা সব বই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, "নারীদের লেখা কোনো বই পড়ানো যাবে না।"

তালেবান ক্ষমতায় ফেরার আগে বিচার মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপমন্ত্রী এবং নিষিদ্ধ তালিকায় থাকা লেখকদের একজন জাকিয়া আদেলি এমন সিদ্ধান্তে বিস্মিত হননি।
গত চার বছরে তালেবান যা করে আসছে, তাতে পাঠ্যসূচিতে পরিবর্তন আনা অস্বাভাবিক কিছু নয়", বলেন তিনি।

তালেবানের নারীবিদ্বেষী মানসিকতা ও নীতির কারণে যখন নারীদের পড়াশোনারই অধিকার নেই, তখন তাদের মতামত, চিন্তাভাবনা ও লেখালেখিও দমন করা স্বাভাবিক।"

বিবিসি আফগানের হাতে আসা নতুন এই নির্দেশিকা আগস্টের শেষ দিকে জারি হয়।

তালেবান সরকারের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-শিক্ষা পরিচালক জিয়াউর রহমান আরিউবি আফগানিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পাঠানো এক চিঠিতে জানান, "ধর্মীয় আলেম ও বিশেষজ্ঞদের" একটি কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নারীদের বইয়ের পাশাপাশি ইরানি লেখক ও প্রকাশকদের বইও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বই পর্যালোচনা কমিটির এক সদস্য বিবিসিকে বলেন, এর উদ্দেশ্য হলো আফগান পাঠ্যসূচিতে 'ইরানি বিষয়ের অনুপ্রবেশ ঠেকানো'।

আফগানিস্তানের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো ৫০ পৃষ্ঠার তালিকায় ৬৭৯টি বইয়ের নাম রয়েছে। এর মধ্যে ৩১০টি বই হয় ইরানি লেখকদের লেখা, নয়তো ইরানে প্রকাশিত।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক বলেন, তার ধারণা এই শূন্যতা পূরণ করা কার্যত অসম্ভব হবে।

"ইরানি লেখক ও অনুবাদকদের বই আফগানিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বৈশ্বিক একাডেমিক জগতের সঙ্গে প্রধান সংযোগ হিসেবে কাজ করত। সেগুলো বাদ দেওয়া উচ্চশিক্ষায় এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে", বলেন তিনি।

কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক বিবিসিকে জানান, তালেবান সরকারের চাপানো শর্তাবলি মাথায় রেখে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তারা নিজেরাই পাঠ্যপুস্তকের অধ্যায় তৈরি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

তবে মূল প্রশ্ন হলো, আদৌ তা বৈশ্বিক মানদণ্ডে তৈরি করা সম্ভব হবে কি না। বিবিসি এ বিষয়ে তালেবান সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্তব্য জানার চেষ্টা করেছে।

  • সর্বশেষ