স্পোর্টস ডেস্ক : আগামী ১৭ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া সাদা বলের সিরিজে ভিন্ন দুই মেরুর পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড। আইপিএল ও পিএসএলের ডামাডোলে মূল তারকাদের ছাড়াই তারুণ্যনির্ভর দল নিয়ে বাংলাদেশে আসছে কিউইরা।
অন্যদিকে, ২০২৭ বিশ্বকাপের সরাসরি খেলার ভাবনায় ওয়ানডে সিরিজে কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথে হাঁটছে না বাংলাদেশ। অভিজ্ঞ ও থিতু একটি দল নিয়েই কিউইদের মোকাবিলা করতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। -- ডেইলি ক্রিকেট
তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের এই সিরিজ খেলতে সফরকারী নিউজিল্যান্ড দল আগামী ১৩ এপ্রিল ঢাকায় পৌঁছাবে।
আইপিএল ও পিএসএলসহ বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে ব্যস্ততার কারণে কিউইরা তাদের প্রথম সারির একাধিক খেলোয়াড়কে এই সফরে পাচ্ছে না। ফলে উপমহাদেশের বিরূপ কন্ডিশনে নিজেদের বেঞ্চের শক্তি ঝালিয়ে নিতে তরুণ ও উদীয়মান ক্রিকেটারদের ওপরই ভরসা রাখছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড।
বিপরীত চিত্র বাংলাদেশ শিবিরে। ওয়ানডে সুপার লিগ না থাকলেও র্যাঙ্কিং ও বিশ্বকাপের সমীকরণ বিবেচনায় প্রতিটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
তাই ওয়ানডেতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সম্প্রতি পাকিস্তান সিরিজে খেলা মূল দলটির ওপরই আস্থা রাখছে নতুন নির্বাচক প্যানেল। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বে একটি থিতু ও গোছানো দল নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে টাইগাররা।
জাতীয় দলের স্বার্থে বর্তমানে পিএসএলে খেলা বাংলাদেশি ক্রিকেটারদেরও দ্রুত ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, নাহিদ রানা, লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন এবং দুই ব্যাটার তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমনকে ১২ এপ্রিলের মধ্যে জাতীয় দলে যোগ দিতে বলা হয়েছে।
নির্বাচক প্যানেলের একজন সদস্য ইংরেজি দৈনিক ডেইলি সানকে জানান, “তাদের ১২ এপ্রিলের মধ্যে দেশে ফিরতে হবে। মুস্তাফিজ ওয়ানডে সিরিজ খেলে আবারও পিএসএলে ফিরবেন, তবে বাকিদের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষ করে ফ্র্যাঞ্চাইজি দলে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
মুস্তাফিজের বিষয়টি নিয়ে বিসিবির বিশেষ পরিকল্পনা লক্ষ্য করা গেছে। ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের অন্যতম ভরসা মুস্তাফিজ।
তবে সামনে বড় কোনো টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট না থাকায়, টি-টোয়েন্টি সিরিজে তাকে বিশ্রাম দিয়ে অন্য পেসারদের দেখে নিতে চায় বোর্ড। এতে করে মুস্তাফিজ যেমন তার ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন, তেমনি বাংলাদেশও তাদের ব্যাক-আপ বোলারদের পরখ করতে পারবে।
বিসিবির অন্য একজন নির্বাচক বলেন, “আপাতত আমাদের বড় কোনো টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট নেই। তাই মুস্তাফিজকে আমরা পিএসএলে ফেরার অনুমতি দিচ্ছি। তার অনুপস্থিতিতে টি-টোয়েন্টিতে কিছু নতুন মুখ দেখার সুযোগ তৈরি হবে।
নিউজিল্যান্ডের তারুণ্য বনাম বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে ঘরের মাঠে এই সিরিজটি বেশ উপভোগ্য হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে কিউইদের বেঞ্চের শক্তি পরীক্ষা, অন্যদিকে ২০২৭ বিশ্বকাপের পথে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর মিশন; দুই দলের ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্য এই লড়াইকে এক নতুন মাত্রা দেবে।