শিরোনাম
◈ আমি গু.লি করিনি আমাকে গু.লি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এএসআই (ভিডিও) ◈ সংসদে ১২টি বিল পাস ◈ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ দিন অনলাইন, ৩ দিন অফলাইনে ক্লাস: শিক্ষামন্ত্রী ◈ যুদ্ধের প্রভাবে টিকে থাকার লড়াইয়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা! ◈ আবাসন খাতে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ চায় রিহ্যাব, এনবিআরের ‘না’ ◈ চাহিদা মেটাতে ১১ কার্গো এলএনজি আমদানি করছে সরকার ◈ গত দুদিনে দুবার দাম বাড়ার পর আজ আবার কমেছে স্বর্ণের দাম! ◈ এডহক ক‌মি‌টির সদস‌্যদের ম‌ধ্যে বণ্টন হলো বিসিবির স্ট্যান্ডিং কমিটি, কে পেলেন কোন দায়িত্ব ◈ বাংলা‌দেশ-ভারত সম্প‌র্কে অস্ব‌স্তির কারণ হ‌তে পা‌রে আওয়ামী লীগ! ◈ বিদেশি তারকাদের তুলোধোনা, আই‌পিএ‌লে দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সু‌নিল গাভাস্কার

প্রকাশিত : ০৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০১:১১ দুপুর
আপডেট : ০৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দেশী বি‌দেশী কোম্পা‌নিগু‌লোর সরকা‌রের কা‌ছে বিদ্যুত বি‌ক্রির বকেয়া ৫০ হাজার কোটি টাকা 

ডেস্ক রি‌পোর্ট : সরকারের কাছে দেশী-বিদেশী কোম্পানিগুলোর বিদ্যুৎ বিক্রির বকেয়া বিল ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। কোম্পানিভেদে বর্তমানে সর্বনিম্ন ছয় থেকে সর্বোচ্চ ১৪ মাস পর্যন্ত বিল বকেয়া পড়েছে।

বিশেষ করে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এ বকেয়া অর্থের কারণে বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েছে। একদিকে তারা জ্বালানি আমদানি করতে পারছে না, অন্যদিকে ব্যাংক ঋণের চাপও বেড়ে চলেছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকেই বকেয়া সমস্যা শুরু হয়, যা ক্রমেই জটিল হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কিছু অর্থ পরিশোধ করা হলেও গত বছরের জুলাই থেকে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ আবারো অনিয়মিত হয়ে পড়ে। বর্তমানে এ পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি বাড়তি ভর্তুকি চেয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

বিদ্যুৎ বিভাগ ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র মিলিয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বকেয়া বিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। মার্চের বিল জমা দেয়ার প্রক্রিয়া এখনো চলমান। সেটি যুক্ত হলে তা আরো বাড়বে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, বিপুল পরিমাণ এ বকেয়া আসন্ন গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে পিক সময়ে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিতে পারে, বাড়তে পারে লোডশেডিং।

দেশের বিদ্যুৎ খাতের বিল পরিমাণ যে পরিমাণ অর্থছাড় হচ্ছে তার বেশিরভাগ চলে যাচ্ছে আমদানি বিদ্যুতের অর্থ পরিশোধে। বিশেষ করে ভারতের আদানির বিদ্যুৎ ক্রয় ব্যয় ও দেশটি থেকে জিটুজি চুক্তির আওতায় বিদ্যুতের আমদানি ব্যয় মেটাতে বড় অর্থ চলে যাচ্ছে। সর্বশেষ বিল পরিশোধে আদানিকে ৩০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে বলে বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বেসরকারি অন্তত দুজন বিদ্যুৎখাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, বিদ্যুতের যে পরিমাণ অর্থ ছাড় হয়, বিশেষ করে অর্থ মন্ত্রণালয় ভর্তুকির যে অর্থ ছাড় করেত তা অগ্রাধিকারভিত্তিতে শুরুতে বেসরকারি বিদ্যুতের বিল পরিশোধে যায়। এরপর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, ফার্নেস অয়েল কেন্দ্রের বিল, পর্যায়ক্রেমে গাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর বিল পরিশোধের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়।

বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে আরো জানা গেছে, বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো মার্চের বিল জমা দেয়া শুরু করেছে। সেক্ষেত্রে আরো অন্তত সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা বিল জমা পড়বে। তবে যে হারে বিল পরিশোধ হচ্ছে তা দিয়ে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ যেমন হচ্ছে না, অন্যদিকে জ্বালানি আমদানি ও কোম্পানি পরিচালনার অর্থ জোগান দেয়া যাচ্ছে না।

দেশের বিদ্যুৎ খাতে আর্থিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এবং নতুন কেন্দ্র যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে। এ প্রেক্ষাপটে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০ মাসের জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। তাই এর সঙ্গে আরো প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা করে বাড়তি ভর্তুকি চাওয়া হয়েছে সরকারের কাছে। সম্প্রতি অর্থ বিভাগের কাছে পাঠানো এক প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নতুন উৎপাদন ইউনিটগুলোর বকেয়া বিল পরিশোধ এবং প্রাথমিক জ্বালানির ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের চাপ সামাল দিতেই মূলত জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত এ অর্থ প্রয়োজন।

শীর্ষ একটি বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিপিডিবির কাছে তাদের বিদ্যুৎ বিক্রি বাবদ গ্যাস ও ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রের বকেয়া দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা। এ বকেয়া মূলত বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকেই জমতে শুরু করে। বেশ কয়েকবার বিশেষ বন্ড ইস্যু করে বকেয়া কমিয়েও এনেছিল সরকার। কিন্তু গত বছরের জুলাই থেকে বিল পরিশোধ আবারো অনিয়মিত হয়ে পড়ে। ফলে কেন্দ্রগুলোর বকেয়া আবারো বাড়তে শুরু করে।

কোম্পানিটির দাবি, বিপিডিবি ভর্তুকি হিসেবে যে অর্থ পাচ্ছে, সেখান থেকে খুব সীমিত পরিমাণ বকেয়া পরিশোধ করা হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনা চালিয়ে যাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ধারাবাহিক রাখা নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা।

বেসরকারি বিদ্যুৎ খাতের আরেক কোম্পানি ইউনাইটেড গ্রুপ। বিপিডিবির কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি বাবদ কোম্পানিটির বকেয়া জমেছে ৩ হাজার কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, বিপুল পরিমাণ অর্থ বকেয়া থাকায় ঋণখেলাপির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সেই সঙ্গে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি আমদানিও করা যাচ্ছে না চাহিদা অনুযায়ী।

জানতে চাইলে ইউনাইটেড গ্রুপের হেড অব রেগুলেটরি শামীম মিয়া বলেন, ‘বিপিডিবির কাছ থেকে বকেয়া অর্থ না পাওয়ায় ব্যাংক নতুন করে এলসি দিচ্ছে না। প্রত্যেকটি কোম্পানির অ্যাসেটের ওপর ভিত্তি করে এলসি লিমিট রয়েছে। ঋণের দায় বেড়ে যাচ্ছে সেই সঙ্গে এলসি লিমিট কমে যাচ্ছে। মূলত ঋণ পরিশোধ হচ্ছে না। ফলে বিপিডিবির চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ দেব সে সুযোগও এখন কমে আসছে। কারণ জ্বালানি আমদানির জন্য ব্যাংক থেকে নতুন করে ঋণ নেব সেটারও সুযোগ আর নেই।’

দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন এখন গড়ে প্রায় ১৪ হাজার মেগাওয়াট। এর মধ্যে জ্বালানি তেল ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রের উৎপাদন প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। এসব কেন্দ্রের বকেয়া প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা, যা ৮-১০ মাসের সমপরিমাণ। বিপুল পরিমাণ এ বকেয়া নিয়ে বেসরকারি মালিকরা কেন্দ্র চালাতে পারছেন না।

নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিকরা তাদের বকেয়া বিলের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছেন। বিশেষ করে আসন্ন গ্রীষ্ম মৌসুমে জ্বালানি আমদানি নিশ্চিত করতে বকেয়ার অন্তত ৬০ শতাংশ পরিশোধের দাবি জানানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত সে অর্থ পরিশোধ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিপ্পা) সভাপতি ডেভিড হাসনাত জানান, বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বকেয়া পাওনার বিষয়টি বিদ্যুৎ বিভাগকে বারবার জানানো হয়েছে। বিশেষ করে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোয় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে বকেয়ার বড় অংশ দ্রুত পরিশোধের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। কিন্তু বিপিডিবি অর্থ পরিশোধ করতে পারেনি।

 তিনি বলেন, ‘সরকারের ভর্তুকির ওপর নির্ভর করে সীমিত পরিমাণ অর্থ মাসে মাসে পরিশোধ করা হচ্ছে, যা দিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে বেসরকারি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর হাতে যে পরিমাণ জ্বালানি মজুদ রয়েছে, তা দিয়ে বেশিদিন কেন্দ্রগুলো চালু রাখা সম্ভব নয়। তবে আমরা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছি। এখন যদি অর্থ ছাড় করে, তা দিয়ে জ্বালানি তেল আমদানি করতে মে মাসের মাঝামাঝি সময় লেগে যাবে। আমরা চেষ্টা করছি ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোয় অন্তত ১ হাজার মেগাওয়াট রেশনিং করেও যাতে মে নাগাদ বিদ্যুৎ দেয়া যায়।’

দেশে চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট হতে পারে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। এ চাহিদা পূরণে কয়লা, জ্বালানি তেল এবং আমদানি করা বিদ্যুতের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল বিপিডিবি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে জ্বালানি আমদানির ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় সরকারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সামগ্রিকভাবে বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক পরিস্থিতিকে আরো সংকটাপন্ন করে তুলেছে।

এদিকে বিদ্যুৎ খাতে বিপুল পরিমাণ বকেয়া বিল কীভাবে পরিশোধ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো সুস্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিপিডিবি কিংবা বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে পরিষ্কার অবস্থান জানা যায়নি।

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২৪ সালের মে মাসে বিদ্যুৎ খাতের বকেয়া বিল ৫৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। এ বিপুল বকেয়া পরিশোধে তখন ব্যাংকের অনুকূলে বিশেষ বন্ড ইস্যু করা হয়। তবে সে অর্থ দিয়েও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর সব বকেয়া পরিশোধ সম্ভব হয়নি।

বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া বিল বাড়ার পেছনে নিয়মিত বিল পরিশোধ না হওয়াকেই প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে বিপিডিবি, যার সূচনা হয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকেই। বিপিডিবি কর্মকর্তারা জানান, সরকার থেকে যে পরিমাণ ভর্তুকি পাওয়া যায়, মূলত তার ওপর নির্ভর করেই বকেয়া পরিশোধ করা হয়। ফলে ভর্তুকির অর্থ নিয়মিত ও পর্যাপ্ত না পেলে বকেয়ার পরিমাণ আরো দ্রুত বাড়তে থাকে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কিছুটা অগ্রগতি হয়, বকেয়া তিন মাসে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল। তবে গত বছরের জুলাইয়ের পর থেকে বিল পরিশোধ না হওয়ায় পরিস্থিতি পুনরায় অবনতির দিকে যায়।

এদিকে বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরামর্শে ভর্তুকি কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এর অংশ হিসেবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ৬২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া হলেও চলতি অর্থবছরে তা কমিয়ে ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, একদিকে ভর্তুকি কমে যাওয়া এবং অন্যদিকে জ্বালানি আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান ভর্তুকি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখা অসম্ভব। সে কারণেই বাড়তি ভর্তুকি চেয়ে অর্থ বিভাগকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, ‘বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ভর্তুকির অর্থের ওপর বিপিডিবির নির্ভর করতে হয়। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারির ভর্তুকি পেয়েছি। মার্চের বিষয়ে আমরা অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি। তবে বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে আদালতে বিপিডিবির মামলা (এলডি কেটে রাখা সংক্রান্ত) চলমান রয়েছে। আদালতের নির্দেশনার বিষয়টি অনুসরণের ব্যাপার রয়েছে, যেখানে অর্থের হিসাব-নিকাশের বিষয়টি জড়িত। তবে আমরা চেষ্টা করছি বিল পরিশোধ অব্যাহত রাখতে।

এদিকে বিদ্যুৎ খাতের বিল বকেয়ার প্রভাব এখন ব্যাংক খাতেও পড়তে শুরু করেছে। বেসরকারি বিদ্যুৎ উদ্যোক্তারা বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে কেন্দ্র নির্মাণ ও জ্বালানি আমদানি করলেও দীর্ঘ সময় ধরে সরকার বিল পরিশোধ না করায় চাপে পড়েছে অর্থায়নকারী ব্যাংকগুলো।

দেশের কয়েকটি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী ও কর্মকর্তারা জানান, শেখ হাসিনার শাসনামলেই বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর পাওনা অর্থ আটকে পড়তে শুরু করে। সে সময় নগদ অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে সরকার বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করে। এখন আবার পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। সরকারের কাছে কোম্পানিগুলোর বিদ্যুৎ বিক্রির বকেয়ার পরিমাণ প্রতিনিয়তই বাড়ছে। এতে ব্যাংকগুলোর ঋণের কিস্তি আদায়ও কঠিন হয়ে উঠছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অর্থের পাশাপাশি সরকারের কাছে রফতানি প্রণোদনাসহ অন্যান্য ভর্তুকি ও প্রণোদনার অর্থও আটকে গিয়েছিল। বর্তমান গভর্নর দায়িত্ব নেয়ার পর আমরা রফতানি ও রেমিট্যান্সের আটকে যাওয়া প্রণোদনার অর্থ ছাড়ের অনুরোধ করেছিলাম। 

সে সময় রফতানিকারকরাও গভর্নরের সঙ্গে দেখা করে প্রণোদনার অর্থ পরিশোধের অনুরোধ করেছিল। তার পরিপ্রেক্ষিতে ঈদুল ফিতরের আগে বেশকিছু অর্থ ছাড় হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ খাতের বকেয়া দিন দিন বাড়ছে। সে অর্থ পরিশোধে এখন পর্যন্ত সরকারের দিক থেকে কোনো আলোচনা হয়নি। সরকারের দিক থেকে অর্থ ছাড়ে বিলম্ব হলে ব্যাংক খাতের সংকট আরো বাড়বে।--- সূত্র: ব‌ণিকবার্তা

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়