শারীরিক কষ্ট বা অসুখ জটিল আকার ধারণ না করলে, কেউই সাধারণত লিভার নিয়ে ভাবেন না। অথচ চিকিৎসকদের মাথাব্যথার কারণ, এই মুহূর্তে ফ্যাটি লিভার। লিভার এমন একটি প্রত্যঙ্গ যা দূষিত পদার্থ দূর করা থেকে প্রোটিন সংশ্লেষ, রক্ত পরিশোধন, হজমে সহায়তা করা-সহ অজস্র জটিল কাজ করে। লিভারের কার্যকারিতা কমলে, তার প্রভাব সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উপরেই আসে। মদ্যপানে লিভারের ক্ষতি হয়। তবে শুধু অ্যালকোহল নয়, নরম পানীয় থেকে চিনি যুক্ত বাজারজাত শরবত, অতিরিক্ত পক্রিয়াজাত খাবার, ভাজাভুজি লিভারের স্বাস্থ্যের বারোটা বাজায়। আবার কিছু খাবার লিভারের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। জেনে নিন সেগুলি কী?
লিভারের ‘সুপারফুড’
ক্যালোরি কম, কিন্তু পুষ্টিগুণ বেশি। ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ভরপুর খাবারকেই ‘সুপারফুড’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে বা পুষ্টিবিদ্যায় ‘সুপারফুড’ বলে নির্দিষ্ট কিছু না থাকলেও, পুষ্টিকর খাবারকেই সুপারফুডের তকমা দেওয়া হয়। বেশ কিছু খাবার রয়েছে যা লিভার ভাল রাখতে সাহায্য করে।
সবুজ শাক এবং সব্জি: মেথি, পালং, পুঁইশাক-সহ টাটাকা শাক এবং সব্জিতে থাকে ফাইবার। এই ধরনের সব্জি অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ভরপুর। ফাইবার জাতীয় খাবার অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। ওজন বশে রাখতেও তা পরোক্ষভাবে সাহায্য করে যা ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমায়।
তৈলাক্ত মাছ: তৈলাক্ত মাছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে যা ট্রাইগ্লিসারয়েডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। লিভারের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। বিপাকীয় স্বাস্থ্য ভাল রাখে, যা লিভার ভাল রাখার জন্য জরুরি।
আখরোট: আখরোটে মেলে গ্লুটাথিয়ন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং আরজিনিন। যা লিভারের স্বাস্থ্য ভাল রাখে। শরীর থেকে ক্ষতিকর অ্যামোনিয়া ও বিষাক্ত বর্জ্য অপসারণে সহায়তা করে। লিভারের ভিতরের প্রদাহ ও চর্বির আধিক্য কমায়। প্রতিদিন সকালে ৪–৫টি ভেজানো বা শুকনো আখরোট খেতে পারেন। তার বেশি নয়।
বিট: বিটে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, ফাইবার এবং নাইট্রেট থাকে। পিত্তরস তৈরিতে সাহায্য করে। উৎসেচকের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস প্রতিরোধ করে লিভার সতেজ রাখে।
লেবু ও ভিটামিন সি যুক্ত ফল: আমলকি, পেয়ারা, লেবুর মতো ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। এগুলি লিভারকে বিষমুক্ত করতেও সাহায্য করে।