শিরোনাম
◈ সমান সুযোগ ছাড়া ভারতকে বিদ্যুৎ করিডর দেবে না বাংলাদেশ ◈ নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে উত্তাল তেল আবিব ◈ তিন মাসে বিএসএফের গুলিতে নিহত ৪ বাংলাদেশি ◈ ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে আগামী সংসদ অধিবেশনেই আইন পাস, থাকছে আরও যেসব সুবিধা ◈ শুধু কাঞ্চনজঙ্ঘা নয় পঞ্চগড় থেকে এবার দেখা গেল এভারেস্ট ও মাকালু, ক্যামেরায় বিরল দৃশ্য ধারণ (ভিডিও) ◈ ভারতীয় ভিসা জটিলতায় হাতছাড়া হচ্ছে গ্রিসের শ্রমবাজার, পিছিয়ে বাংলাদেশ ◈ সাতক্ষীরায় লংমার্চফেরত জামায়াত-শিবিরের বাস খাদে, নিহত ১, আহত অন্তত ২০ ◈ খিলক্ষেতের বাড়িতে ডিজে পার্টির ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির ◈ ছেলেপুলে পাঠাতে হয়, ঘটনা ঘটাতে হয়, তবে ৫০ লাখ ১ কোটি হয়ে যাবে, কমবে না: শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগী ◈ কনস্টেবলের স্ত্রীর সঙ্গে ‘শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগে এএসপি কাজী মিজানুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসর

প্রকাশিত : ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:১০ সকাল
আপডেট : ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:১৪ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রাণ গেল ১ লাখ ২০ হাজার ডলফিনের

কৃষ্ণসাগরের উপকূলে ভেসে আসছে একের পর এক মৃত ডলফিন। কোনোটি জালে আটকে, কোনোটি আবার ক্ষতবিক্ষত ও কঙ্কালসার। সাগরের পানিতে যুদ্ধজাহাজের বিস্ফোরণ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত রাসায়নিক কেড়ে নিচ্ছে সামুদ্রিক প্রাণীদের স্বাভাবিক জীবন।

মানুষের পাশাপাশি যুদ্ধের এমন ভয়াবহ মূল্য দিতে হচ্ছে সামুদ্রিক প্রাণিজগতকেও। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগরে মারা গেছে ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি ডলফিন।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার অভিযান শুরুর পর থেকে কৃষ্ণসাগরের সামুদ্রিক পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের তুজলি লেগুনস জাতীয় উদ্যানের প্রধান গবেষক ইভান রুসেভ জানিয়েছেন, শুধু ২০২২ সালেই প্রায় ৫০ হাজার ডলফিন মারা যায়।

Advertisement

২০২৬ সাল নাগাদ এই সংখ্যা ১ লাখ ২০ হাজার ছাড়িয়েছে। অর্থাৎ কৃষ্ণসাগরের মোট সিটাসিয়ান বা তিমি-ডলফিনজাতীয় প্রাণীর প্রায় এক-চতুর্থাংশ মারা গেছে।

রুসেভের মতে, যুদ্ধের কারণে বোতলনোজ ডলফিন, শর্ট-বিকড ডলফিন ও হারবার পরপয়েজের মৃত্যুর হার আগের তুলনায় কয়েক শ গুণ বেড়েছে। যুদ্ধজাহাজের বিস্ফোরণ, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ও সামরিক সোনার ব্যবস্থার শব্দ তাদের শ্রবণশক্তির ক্ষতি করছে।

ডলফিন চলাফেরা, যোগাযোগ ও শিকার ধরার জন্য প্রতিধ্বনি শনাক্ত করার ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু, তীব্র শব্দে এ ক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তারা দিক হারাচ্ছে এবং খাবার খুঁজে পাচ্ছে না।

খাবারের অভাবে ডলফিন শরীরে জমে থাকা চর্বি থেকে শক্তি নিতে শুরু করে। তবে, সেই চর্বিতে আগে থেকেই বর্জ্যপানি, কৃষিজমির রাসায়নিক, ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা ও অ্যান্টিবায়োটিকের মতো দূষিত উপাদান জমা থাকে।

এসব উপাদান তাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল করে দেয়। ফলে, প্রাণঘাতী শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় অনেক ডলফিন।

এদিকে, যুদ্ধের পাশাপাশি ২০২৩ সালে ইউক্রেনের দিনিপ্রো নদীর ওপর কাখোভকা বাঁধ ধ্বংসের ঘটনাও কৃষ্ণসাগরের দূষণ বাড়িয়েছে। বাঁধ ভেঙে প্রায় ১৮ ঘনককিলোমিটার পানি সাগরের দিকে প্রবাহিত হয়।

ওই পানিতে ছিল কৃষিজমির সার, ভারী ধাতু ও যন্ত্রপাতির তেল। পাশাপাশি, যুদ্ধে ডুবে যাওয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত যুদ্ধজাহাজ ও ট্যাংকার থেকেও সাগরে ছড়িয়েছে তেল, জ্বালানি ও রাসায়নিক পদার্থ।

কৃষ্ণসাগরের খাদ্যচক্রের একেবারে ওপরের স্তরে রয়েছে ডলফিন। ফলে, সাগরের পানি ও মাছের শরীরে জমে থাকা দূষিত পদার্থ শেষ পর্যন্ত ডলফিনের শরীরেও পৌঁছাচ্ছে। একই সঙ্গে, মুলেট ও ব্লুফিশের মতো মাছের সংখ্যাও কমে গেছে।

অন্যদিকে, বুলগেরিয়া, রোমানিয়া ও তুরস্কের উপকূলেও ডলফিনের মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশকর্মীরা। তবে, অধিকাংশ মৃত ডলফিনের মরদেহ পচে যাওয়ায় মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে পরিযায়ী পাখিদের ওপরও। বিস্ফোরণের শব্দে ভয় পেয়ে ফ্লেমিঙ্গো পাখিরা বাসা ছেড়ে চলে যাচ্ছে। পরে, গাঙচিল এসে তাদের ডিম খেয়ে ফেলছে।

এছাড়া, খাবারের অভাবে অনেক পরিযায়ী পাখি শীতকালীন আবাসস্থল বা প্রজননস্থলে পৌঁছাতে পারছে না। এতে কয়েক বছর ধরে কিছু প্রজাতির পাখির সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যুদ্ধ শেষ হলেও কৃষ্ণসাগরের পরিবেশ দ্রুত স্বাভাবিক হবে না বলে মনে করছেন পরিবেশবিদেরা। রুসেভের ধারণা, কীটপতঙ্গ ও ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণীর সংখ্যা কয়েক বছরের মধ্যে স্বাভাবিক হতে পারে।

তবে, ডলফিনের সংখ্যা আগের অবস্থায় ফিরতে ৩০ থেকে ৫০ বছর সময় লাগতে পারে। ফলে যুদ্ধের ক্ষতি কাটিয়ে কৃষ্ণসাগরের সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র স্বাভাবিক হতে কয়েক দশক লেগে যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

সূত্র: আল-জাজিরা

  • সর্বশেষ