শিরোনাম
◈ নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে উত্তাল তেল আবিব ◈ তিন মাসে বিএসএফের গুলিতে নিহত ৪ বাংলাদেশি ◈ ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে আগামী সংসদ অধিবেশনেই আইন পাস, থাকছে আরও যেসব সুবিধা ◈ শুধু কাঞ্চনজঙ্ঘা নয় পঞ্চগড় থেকে এবার দেখা গেল এভারেস্ট ও মাকালু, ক্যামেরায় বিরল দৃশ্য ধারণ (ভিডিও) ◈ ভারতীয় ভিসা জটিলতায় হাতছাড়া হচ্ছে গ্রিসের শ্রমবাজার, পিছিয়ে বাংলাদেশ ◈ সাতক্ষীরায় লংমার্চফেরত জামায়াত-শিবিরের বাস খাদে, নিহত ১, আহত অন্তত ২০ ◈ খিলক্ষেতের বাড়িতে ডিজে পার্টির ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির ◈ ছেলেপুলে পাঠাতে হয়, ঘটনা ঘটাতে হয়, তবে ৫০ লাখ ১ কোটি হয়ে যাবে, কমবে না: শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগী ◈ কনস্টেবলের স্ত্রীর সঙ্গে ‘শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগে এএসপি কাজী মিজানুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসর ◈ যুব উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

প্রকাশিত : ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৭:৫৩ সকাল
আপডেট : ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:২৫ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পারদ থেকে ২৩ ক্যারেটের সোনা তৈরির দাবি ভারতীয় বিজ্ঞানীর

প্রাচীন ভারতীয় ‘রসশাস্ত্র’ বা আলকেমির সূত্র মেনে পারদ থেকে সোনা তৈরির দাবি করেছেন ভারতের রাজস্থানের এক বিজ্ঞানী। তার দাবি, পরীক্ষাগারে পারদের উপরিভাগে ৯৯.০৪ শতাংশ বিশুদ্ধ সোনার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তবে এই দাবি ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

বিজ্ঞানী মহলের একাংশের মতে, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ যাচাই ছাড়া এই ফলাফলকে আবিষ্কার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সুযোগ নেই।

জানা গেছে, জয়পুরের কানোদিয়া কলেজের পদার্থবিজ্ঞান গবেষণাগারে ০.২৪০ গ্রাম পারদ ব্যবহার করে পরীক্ষাটি চালানো হয়। পরীক্ষার পর নমুনার উপরিভাগে ৯৯.০৪ শতাংশ সোনা, ০.৪৮ শতাংশ রুপা এবং ০.৪৮ শতাংশ তামার উপস্থিতি পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। ওই পরিমাণ বিশুদ্ধতা প্রায় ২৩.৭৭ ক্যারেট সোনার সমতুল্য।

গবেষক লাল বাহাদুরের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি পারদের বিশুদ্ধকরণ ও ধাতু রূপান্তর নিয়ে গবেষণা করছেন। প্রাচীন ভারতীয় রসশাস্ত্র এবং আচার্য নাগার্জুনের গবেষণা ও রচনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই তার এই পরীক্ষা। বিআইটিএস পিলানি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক এই গবেষক পোখরান-২ পারমাণবিক পরীক্ষার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। তার দাবি, পরীক্ষায় কোনো তেজস্ক্রিয়তার উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি।

Advertisement

তবে পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে। পারদের নমুনায় পাওয়া সোনা আগে থেকেই অশুদ্ধি হিসেবে উপস্থিত ছিল কি না, নাকি পরীক্ষার সময় বাইরের কোনো উৎস থেকে সোনা জমা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি যাচাই করতে নমুনার বিস্তারিত উপাদান বিশ্লেষণ, পুনরায় পরীক্ষা, এক্স-রে ফ্লুরোসেন্স এবং আইসোটোপ বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে।

এদিকে, এই গবেষণার ফলাফল এখনো কোনো পিয়ার-রিভিউড বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশিত হয়নি। ফলে দাবিটির পক্ষে স্বাধীন বৈজ্ঞানিক প্রমাণও সামনে আসেনি। জয়পুরের মালব্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমএনআইটি)-তে এ বিষয়ে আরও তদন্তের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

বৈজ্ঞানিকভাবে পারদ ও সোনা দুটি সম্পূর্ণ আলাদা মৌল। পারদের পরমাণুতে ৮০টি প্রোটন থাকলেও সোনার পরমাণুতে রয়েছে ৭৯টি প্রোটন। সাধারণ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় কোনো মৌলের প্রোটন সংখ্যা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তাই পারদকে সোনায় রূপান্তর করতে হলে পারমাণবিক স্তরের বিশেষ প্রক্রিয়া প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, প্রাচীন ভারতীয় রসশাস্ত্রের সূত্র ধরে পারদ থেকে সোনা তৈরির এই দাবি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে পরীক্ষার ফলাফল স্বাধীনভাবে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এটিকে প্রমাণিত বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।

সূত্র : আরটিভি 

  • সর্বশেষ