প্রকৃতির আশীর্বাদ হচ্ছে— ফল। তবে তা সবার জন্য এক নয়। আপনার যদি এ তিনটির কোনো একটি রোগও থেকে থাকে, তাহলে সেই ফলই 'উপকারী' ভেবে ইচ্ছামতো খাবেন না। কারণ সবসময় চিকিৎসক বা একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে আপনার শরীরের জন্য ঠিক যতটুকু ফল খাওয়া দরকার, ততটুকুই ফল খান।
কারণ ফল শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী হলেও নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক সমস্যায় কিছু ফল ক্ষতিকর বা 'বিষ'-এর মতো হয়ে উঠতে পারে। অতিরিক্ত পুষ্টিগুণ বা শর্করার উপস্থিতির কারণে ভুল ফল নির্বাচন রোগব্যাধি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
সুতরাং আপনার সুস্থতার জন্য ফল খাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে, একজনের জন্য যে ফলটি অমৃত, অন্যজনের কাছে সেটিই বিষের মতো কাজ করতে পারে।
বিশেষ করে আপনি যদি ডায়াবেটিস, কিডনি সমস্যা কিংবা আইবিএসে (পেটের রোগ) ভুগে থাকেন, তাহলে যে কোনো ফল আপনার জন্য ঝুকিঁপূর্ণ। তাই ফল খাওয়ার ব্যাপারে অনেক বেশি সচেতন হওয়া প্রয়োজন। এমনকি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাওয়া উচিত।
জেনে নিন কোন রোগে কোন ফল খাবেন—
ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ফলের সতর্কতা
অনেকের মনেই ভুল ধারণা থাকে যে, ফলের মিষ্টি যেহেতু প্রাকৃতিক, তাই এটি ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষতি করে না। এটি একদম ভুল ধারণা। ফলের মধ্যেও এক ধরনের শর্করা বা চিনি থাকে, যাকে বলা হয় ফ্রুক্টোজ। কিছু কিছু ফল খেলে রক্তে সুগারের মাত্রা খুব দ্রুত বেড়ে যায়।
যেমন— পাকা আম, কাঁঠাল, পাকা কলা, লিচু, আতা ফল, খেজুর এবং কিসমিসের মতো ফলগুলোতে শর্করার পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। এসব ফল 'গ্লাইসেমিক ইনডেক্স' অনেক বেশি। এগুলো খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রক্তে সুগারের ঝড় বয়ে যায়, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণকে কঠিন করে তোলে। তাই ডায়াবেটিস রোগীকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে দিনে অল্প পরিমাণে আপেল, পেয়ারা, নাশপাতি, জাম বা জামরুল খেতে পারেন।
কিডনি রোগীর জন্য ফল যেন 'নীরব ঘাতক'
কিডনি রোগীর ক্ষেত্রে ফল খাওয়ার নিয়ম সাধারণ মানুষের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। কিডনি যখন দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন শরীর থেকে বাড়তি খনিজ ও বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে বের হতে পারে না। এ ক্ষেত্রে কলা, ডাবের পানি, কমলালেবু, মালটা, আঙুর, আমড়া এবং শুকনো ফল সাবধানে খেতে হবে। সবচেয়ে মারাত্মক ফল হলো কামরাঙা। এ ফলগুলোতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে। সুস্থ কিডনি পটাশিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখে, কিন্তু অসুস্থ কিডনি তা পারে না। রক্তে পটাশিয়াম বেড়ে গেলে বুক ধড়ফড় করা থেকে শুরু করে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক পর্যন্ত হতে পারে। আর কামরাঙায় এক ধরনের বিষাক্ত উপাদান (টক্সিন) থাকে, যা কিডনি রোগীকে সরাসরি মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে। এ ছাড়া কিডনি রোগীর রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসকরা ফল খাওয়ার অনুমতি দেন।
আইবিএস বা পেটের রোগীর সমস্যা
আইবিএস হলো এমন একটি সমস্যা, যেখানে মানুষের পরিপাকতন্ত্র বা পেট অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। কিছু নির্দিষ্ট ফল খেলে এদের পেটে তীব্র গ্যাস, পেট ফাঁপা, মোচড় দিয়ে ব্যথা বা বারবার পাতলা মলত্যাগ শুরু হয়। এ ক্ষেত্রে আপেল, নাশপাতি, তরমুজ, চেরি, পিচ এবং যে কোনো অতিরিক্ত মিষ্টি ফল বা ফলের রস সমস্যা বাড়ায়।
এ ছাড়া এসব ফলে এমন কিছু শর্করা কিংবা সুগার অ্যালকোহল থাকে, যা আইবিএস রোগীর অন্ত্র সহজে হজম করতে পারে না। বিজ্ঞানের ভাষায় এগুলোকে বলা হয় হাই-ফডম্যাপ খাবার। এগুলো পেটে গিয়ে গাজন তৈরি করে, যার ফলে প্রচুর গ্যাস ও পেটের অস্বস্তি তৈরি হয়। আইবিএস রোগীরা পাকা পেঁপে, পাকা কলা, ডালিম কিংবা লেবুর রস খেতে পারেন। এগুলোকে 'লো-ফডম্যাপ' খাবার বলা হয়, যা পেটে সহজে গ্যাস তৈরি করে না।
সূত্র: যুগান্তর