শিরোনাম
◈ এলপিজির কৃত্রিম সংকট হলে ব্যবস্থা, ডিসিদের জ্বালানিমন্ত্রীর নির্দেশ ◈ নিউইয়র্ক সফরের সাফল্য আড়ালে ‘পরিকল্পিত ঘটনা’: অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিবের ◈ জাতিসংঘে জাইমা রহমানের নিয়োগে সরকারের ন্যূনতম সম্পৃক্ততা নেই: মাহদী আমিন ◈ ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়ল লিটারে প্রায় ১২ টাকা, রাত থেকেই কার্যকর ◈ প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী ◈ সীমান্তের দুই মুখ : এপার থেকে মানুষ পাচারের ফাঁদ, ওপার থেকে ঢুকছে মাদক ◈ সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা: অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গ্রেপ্তার ◈ চাকরি ও দক্ষ কর্মীর খোঁজ মিলবে এক জায়গায়, উদ্যোগ সরকারের ◈ মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে সমন্বয়ের ঘাটতি, তদন্তের নির্দেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ ৫০৭ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল আসা গ্রাহককে মন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ, জিএম বরখাস্ত

প্রকাশিত : ১৩ জুন, ২০২৬, ১১:০৩ দুপুর
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

বাংলাদেশে শিশুদের ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন বন্ধ কেন?

এল আর বাদল: ক্যাপসুল না থাকায় ১৪ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশে শিশুদের জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন।সর্বশেষ এই ক্যাম্পেইন হয়েছিল গত বছরের মার্চ মাসে। নিয়মানুযায়ী, বছরে দুইবার এই কর্মসূচি হওয়ার কথা। গত বছর মার্চের পর সেপ্টেম্বর এবং এই বছরের মার্চে দুটি ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও ক্যাপসুল সংকটে ওই সময়ের পরে আর তা করা হয়নি।

ইউনিসেফের কাছ থেকে ১০ই জুনের মধ্যে এক কোটির বেশি ভিটামিন - এ ক্যাপসুল পাওয়া যাবে বলে গত মাসে জানিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত। কিন্তু তা পাওয়া যায়নি। যদিও জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী ১০ই জুনের কথা অস্বীকার করেছেন। ---- বি‌বি‌সি বাংলা

এই ক্যাম্পেইন বন্ধ রয়েছে "এটা বলা যাবে না" বলেও দাবি করেন তিনি।

মি. আলী বলেন, এটা চেষ্টা-তদবির চলছে। কিন্তু ক্যাপসুল পাইতে একটু দেরি হইতেছে। এইজন্য একটু দেরি হইছে জিনিসটা। ক্যাপসুল প্রাপ্তি সাপেক্ষে শিশুদের ভিটামিন - এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর এই ক্যাম্পেইনের সম্ভাব্য সময় জুনের শেষ সপ্তাহে নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। আমাদের কাছে সংবাদ আসছে যে, ১৫ই জুনের মধ্যে ক্যাপসুলটা আমাদের দেশে আইসা পৌঁছাবে," বলেন মোহাম্মদ ইউনুস আলী।

advertisement

ক্যাপসুল বিদেশ থেকে ও বিমানে করে আসবে এবং ১৫ই জুন আসার কথা মাথায় রেখে জুনের শেষে কর্মসূচি শুরুর সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
২৭শে জুনের মধ্যে আমরা ইনশাআল্লাহ এটা করবো বলে মোটামুটি প্রস্তুতি নিচ্ছি," বলেন মোহাম্মদ ইউনুস আলী।

এদিকে, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এই ক্যাম্পেইন ব্যাহত হলে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, দৃষ্টি সক্ষমতা, পুষ্টির ওপর প্রভাব পড়তে পারে। 

জনস্বাস্থ্যবিদ ড. মুশতাক হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেন, "রাতকানা রোগটা কিন্তু নাই, নির্মূল হয়ে গেছে। ইপিআই টিকা দেওয়ার সাথে সাথে এটা দেওয়াতে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ছে। এখন এটা না দিলে এসব রোগ রাতকানা, অপুষ্টি, হাম সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

প্রতি বছর কত শিশুকে এই কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়?

এই কর্মসূচির আওতায় ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের ভিটামিন - এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়।
এদের মধ্যে ছয় মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রংয়ের ভিটামিন - এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। এছাড়া, এক বছর বা ১২ মাস বয়স থেকে পাঁচ বছর বা ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের খাওয়ানো হয় লাল রংয়ের ক্যাপসুল।

বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে দুই কোটি ৫৫ লাখ শিশুকে এই ক্যাম্পেইনের আওতায় ভিটামিন - এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। মি. আলী জানান, "আমরা দুই কোটি ৬০ লাখের (ভিটামিন- এ ক্যাপসুল) টার্গেট রাখি। ইউনিসেফের কাছে এই দুই কোটি ৬০ লাখই চাওয়া হয়েছে।

ভিটামিন-এ নেই কেন, সংকট কোথায়?

ইউনিসেফের কাছ থেকে এবারই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ এই ভিটামিন ক্যাপসুলটি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটির সাথে বাংলাদেশের একটি চুক্তি হওয়ার কথা জানিয়ে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, "মন্ত্রণালয় থেকে এবারই ইউনিসেফ থেকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কারণ হচ্ছে, এক রাউন্ডের ক্যাপসুল যদি ওনাদের কাছ থেকে কেনা হয়, আরেক রাউন্ডের ক্যাপসুল ওনারা আমাদের ফ্রি অব কষ্ট (বিনামূল্যে) দেবে। এই জন্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে যে তাহলে আমরা ইউনিসেফ থেকেই নেব।  এর আগে অপারেশনাল প্ল্যানের মাধ্যমে টেন্ডার করে এই ভিটামিন-এ ক্যাপসুল কেনা হতো বলেও তিনি জানান।

২০২৪ সালের জুনে স্বাস্থ্য খাতের সর্বশেষ অপারেশনাল প্ল্যান বা ওপি শেষ হয়। এরপরেও টেন্ডার বা দরপত্রের মাধ্যমে এই ক্যাপসুল কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু পরে সেটি বাতিল হয়ে যায়।

. আলী জানান, "আগে টেন্ডার হয়েছিল, কোনো কারণে মন্ত্রণালয় ওই টেন্ডারের সাথে দ্বিমত পোষণ করায় উনারা পরে ইউনিসেফ ফ্রি ফাইন্যান্সিং পদ্ধতিতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ভিটামিন এ ক্যাপসুলের উপকারিতা কী?

শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সঠিক বিকাশে সহায়ক ভূমিকার জন্য ভিটামিন- এ ক্যাপসুল খাওয়ানো জরুরি বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকরা।

ভিটামিন-এ ক্যাপসুল শিশুর দেহে যেসব ভূমিকা রাখে তা হলো:

১. শিশুদের দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে সহায়তা করে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে।

২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং এতে শিশু বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকে।

৩. শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি এবং সঠিক ওজন বজায় রাখতে সহায়তা করে।

৪. ডায়রিয়া ও হামসহ অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়।

৫. শিশুর ত্বক সুরক্ষা নিশ্চিত করে।

৬. রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়তা করে।

ভিটামিন-এ খাওয়ানোর পাশাপাশি কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ানোর প্রতিও গুরুত্বারোপ করেছেন জনস্বাস্থ্যবিদ মি. হোসেন।

ড. মুশতাক হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেন, "ভিটামিন-এ এর সাথে আরেকটাও ছিল, সেটা হচ্ছে কৃমিনাশক খাওয়ানো। বাচ্চাদের পুষ্টি কৃমি খেয়ে ফেললে এটাও অপুষ্টির একটা কারণ হতে পারে। তাই ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইনের পাশাপাশি কৃমিনাশক ওষুধও খাওয়াতে হবে।

  • সর্বশেষ