শিরোনাম
◈ আসন্ন বাজেটে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে কর সুবিধা দেয়া হবে: অর্থ প্রতিমন্ত্রী  ◈ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ করতে হবে : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ◈ নাবিকদের ভিসা জটিলতা নিরসনে আইএমও’র সহযোগিতার আশ্বাস ◈ আগামী বছরের শুরুতে তৃতীয় টার্মিনালে যাত্রী পরিবহন শুরু হতে পারে: বিমানমন্ত্রী ◈ ভাইভা হলেও তদন্তের আগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ হবে না ◈ ভাষণে নয়, রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে দেশ স্বাধীন হয়েছে: গয়েশ্বর রায় ◈ একশ ভাগ সফলতা নিয়েই বাংলাদেশে ফিরছি: ডিবি প্রধান  ◈ বাংলাদেশ আইএমও’র মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু মেরিন স্কলারশিপ চালু করতে চায়: প্রধানমন্ত্রী ◈ ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক এমপি মনজুর হোসেন মারা গেছেন ◈ ঈদে সাধারণ মানুষের কাছে অতিরিক্ত ভাড়া  না নেওয়ার নির্দেশ ওবায়দুল কাদেরের 

প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল, ২০২৪, ০১:৩১ দুপুর
আপডেট : ২১ এপ্রিল, ২০২৪, ০৬:৪৮ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কক্সবাজারে সৈকতে বালি থেকে লোনাপানিতে ফিরছেন কাছিম ছানারা

হাবিবুর রহমান, কক্সবাজার: [২] সামুদ্রিক কাছিমের দেয়া ডিম থেকে জন্ম নেওয়া ৭৫০টি কাছিমের ছানা সাগরে ফিরেছে। গত শুক্রবার ও শনিবার কক্সবাজারের বিভিন্ন সাগর উপকূলে এসব কাছিমের ছানা অবমুক্ত করা হয়। এর মধ্যে রামু উপজলোর পেঁচার দ্বীপে ৩৫০টি, মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়া দ্বীপে ২৫০টি,  টেকনাফ উপজেলার মাদারবুনিয়ায় ১৫০টিসহ কাছিম ছানা সাগরে অবমুক্ত করা হয়। 

[৩] সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি মৌসুম নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত কক্সবাজার সমুদ্র উপকূল থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক ৩০ হাজারের মতো কাছিমের ডিম সংরক্ষণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ৫ হাজার কাছিমের ছানা সাগরে অবমুক্ত করা হয়েছে। এটা চলতি মৌসুমে কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে সংগ্রহ করা সর্বোচ্চ সংখ্যক সামুদ্রিক কাছিম ডিম। 

[৪] নেকমের ইকোলাইফ প্রকল্পের জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মী আবদুল লতিফ জানান, রামু উপকূলের পেঁচারদ্বীপ সমুদ্রসৈকতের ঝাউবিথীর বালুচরে রয়েছে সামুদ্রিক কাছিম সংরক্ষণ ও প্রজনন কেন্দ্র। যেখানে সংরক্ষণ দুটি পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হয়েছে কাছিমের ডিম। একদিন-দু’দিন করে ৬৫ দিন পর বালুচর থেকে বেরিয়ে আসছে কাছিম ছানা। পেঁচার দ্বীপ সৈকতের ৪ কিলোমিটার এলাকা থেকে কাছিমের ডিম সংগ্রহ করা হয়। চলতি মৌসুমে প্রায় ২৭শ’ কাছিমের ডিম সংগ্রহ করেছি। তারপর এগুলো কাছিম সংরক্ষণ ও প্রজনন কেন্দ্রে বালুচরে গর্ত করে রাখা হয়। এখন ৬০ দিন, ৭০ দিন বা ৮০ দিনে বালুচরের গর্ত থেকে ডিমগুলো ফুটে কাছিমের বাচ্চা বের হয়ে আসছে। এরই মধ্যে ৮শ’ ১৪টি কাছিমের বাচ্চা সাগরে অবমুক্ত করা হয়েছে। এই কাজ করতে খুবই আনন্দ লাগে।

[৫] নেকমের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু পরিবর্তন ম্যানেজার আব্দুল কাইয়ুম বলেন, কাছিম এখন হুমকির মুখে। একদিকে সাগরে ট্রলিং জাহাজের কারণে কাছিম মারা পড়ছে আর অন্যদিকে মা কাছিম যখন উপকূলে ডিম পাড়তে আসছে তখন জেলেদের জালে আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে। এছাড়াও কুকুরের কামড়েও কাছিমের মৃত্যু হচ্ছে। এক্ষেত্রে দিন দিন সামুদ্রিক কাছিম ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। 

[৬] নেকমের ইকোলাইফ প্রকল্পের ডিপিডি ড. শফিকুর রহমান বলেন, গত তিন বছরে ২৯ হাজার ৪৫০টি ডিম সংগ্রহ করে যা থেকে ৮৫% বাচ্চা ফুটিয়ে সাগরে অবমুক্ত করা হয়। এ ধরনের প্রদ্ধতিকে এক্স-সিট্যু সংরক্ষণ বলা হয়। এছাড়া গত তিন বছরে ১০টি সংস্থান বা ইন-সিট্যু পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করে বচ্চা সাগরে অবমুক্ত করা হয়। 

[৭] ইউএসএইড ও সামিট এর অর্থায়নে, পরিবেশ ও বন অধিদপ্তরের দিক নির্দেশনায় নেচার কনজারভেশন ম্যানেজমেন্ট (নেকম) কাছিম সংরক্ষণের এ কাজ প্রায় ২০ বছর যাবত করে আসছে। ‘সমুদ্রের ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার, আগাছা পরিষ্কার এবং মাছের পোনা খাদক জেলিফিশ খেয়ে সমুদ্রের জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য বজায় রাখতে অনন্য ভূমিকা রাখে এই কাছিম। কক্সবাজার সৈকতের মাত্র ৩৪টি স্পটে সামুদ্রিক কাছিম ডিম পাড়তে আসছে যা এক দর্শক আগেও ছিল ৫২টি অর্থাৎ হুমকির মুখে সামুদ্রিক কাছিমের ডিম পাড়ার স্থানসমূহ। তাই পরিবেশ বন্ধু কাছিম সংরক্ষণে সরকারি-বেসরকারিভাবে সকলকে এগিয়ে আসা প্রয়োজন বলে মনে করেন ড. শফিকুর রহমান’।

[৮] কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. সারওয়ার আলম বলেন, কাছিম প্রকৃতির সুইপার। সমুদ্রের আবর্জনাগুলো ভক্ষণ করে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা রাখে কচ্ছপ। কিন্তু আমাদের অসচেতনতায় নিজের আবাসস্থল হারাচ্ছে এ উপকারী প্রাণীটি। নিষিদ্ধ জালে মাছ শিকারকালে আটকা পড়ে মারা যায় কচ্ছপ। পর্যটন বিকাশের কারণে কক্সবাজারের সমুদ্র উপকূলে অতিরিক্ত আলোকায়নে কূলে ফিরে কুকুরের আক্রমণেও মরছে কচ্ছপ। 

[৯] তিনি আরও বলেন, কাছিমসহ সামুদ্রিক প্রাণী রক্ষায় সরকার নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। আশা করি, সামুদ্রিক কাছিমের জন্য উপকূলকে নিরাপদ করা হবে। 

[১০] প্রসঙ্গত, চলতি মৌসুমে কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে মা কাছিমের মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি। গেলো ৩ মাসে মৃত্যু হয়েছে ১০৩টি মা কাছিমের। এর জন্য ট্রলিং জাহাজ ও জেলেদেরকে দায়ী করা হলেও কাছিম রক্ষায় স্বদিচ্ছার অভাব দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিনিধি/একে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়