শিরোনাম
◈ ক্ষমা চেয়েও রক্ষা নেই ইনফান্তিনোর, ফিফা কাউন্সিলের কাঠগড়ায় সভাপতি ◈ বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৫ বছরের উন্নয়ন চুক্তি করছে বাংলাদেশ, ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত বৈঠক ◈ কুমিল্লায় যুবদল নেতাকে কাউসারকে কুপিয়ে হত্যা ◈ ব্যাংককে আইএমএফ- বিশ্বব্যাংকের সম্মেলন ঘিরে বিক্ষোভ, ঋণ বাতিল ও ধনীদের ওপর কর আরোপের দাবি ◈ ১৫ ঘণ্টা পর মুক্তি পেলেন কুমিল্লা সীমান্তে বিএসএফের হাতে আটক দুই পুলিশ সদস্য ◈ হিলারি ক্লিনটনের হাত থেকে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার পেলেন ড. ইউনূস, দাঁড়িয়ে সম্মান জানালেন ৪০০ অতিথি ◈ বিমানবন্দরে স্যুটকেসে শ্যাম্পু-ক্রিমের বোতলে মিলল ৯২টি জীবিত সাপ-টিকটিকি, মেক্সিকান নাগরিক আটক ◈ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আগ্রহ দেখাল নেদারল্যান্ডস, চীনের পর নতুন সম্ভাবনা বাংলাদেশের সামনে ◈ আমিরাতে সক্রিয় ছিল ইরানি ‘স্লিপার সেল’, নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের তথ্য প্রকাশ! ◈ 'ইরান কখনও যুদ্ধ চায় না, তবে যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দি‌তে প্রস্তুত'

প্রকাশিত : ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ০৩:৪৯ দুপুর
আপডেট : ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ০৩:৪৯ দুপুর

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

‘আমার কাছে দশভুজা আমার মা’, দুর্গার শক্তি খুঁজে পান নিজের জীবনেও: শ্রাবন্তী

মনিরুল ইসলাম  : বাঙালির কাছে মা দুর্গা শুধু অসুরদলনী দেবী নন, তিনি শক্তি, সাহস, মমতা ও ভরসার প্রতীক। কারও কাছে তিনি মহিষাসুরমর্দিনী, কারও কাছে ঘরের মেয়ে উমা। আর টালিউড অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের কাছে মা দুর্গা মানে তাঁর নিজের মা। জীবনের নানা প্রতিকূলতার মধ্যে যে শক্তি মানুষকে ঘুরে দাঁড়াতে শেখায়, সেই শক্তির মধ্যেই দেবী দুর্গাকে খুঁজে পান এই অভিনেত্রী।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার অনলাইনে প্রকাশিত এক লেখায় দুর্গাপুজো, নারীশক্তি এবং নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে এমনই অনুভূতির কথা জানিয়েছেন শ্রাবন্তী। তাঁর মতে, প্রত্যেক নারীর মধ্যেই দুর্গার শক্তি রয়েছে। পরিস্থিতির প্রয়োজনে কখনও মমতাময়ী, কখনও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠতে হয় নারীকেই।

নিজের মায়ের মধ্যেই দশভুজাকে খুঁজে পান শ্রাবন্তী

শ্রাবন্তীর জীবনে মায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বাবা সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকায় কাজের প্রয়োজনে প্রায়ই বাড়ির বাইরে থাকতে হতো। ফলে দুই মেয়েকে বড় করে তোলার দায়িত্ব অনেকটাই সামলেছেন তাঁর মা।

Advertisement

নিজের মায়ের সেই সংগ্রামের কথা স্মরণ করে শ্রাবন্তী বলেন, তাঁর মা যেন দশ হাত দিয়ে তাঁকে ও তাঁর দিদিকে সামলেছেন। একই সঙ্গে তাঁদের মধ্যে এই বিশ্বাসও গড়ে দিয়েছেন যে, প্রত্যেক নারীর মধ্যেই একজন দুর্গা বাস করেন।

অভিনেত্রীর কাছে এই অভিজ্ঞতা কেবল পারিবারিক স্মৃতি নয়; বরং নারীশক্তির এক বাস্তব উদাহরণ। তাঁর চোখে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পরিবারকে আগলে রাখা, সন্তানদের বড় করে তোলা এবং সব বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার মধ্যেও দুর্গার শক্তি প্রকাশ পায়।

দুর্গা মানেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস

শ্রাবন্তীর মতে, মা দুর্গার পরিচয় শুধু মহিষাসুর বধের পৌরাণিক কাহিনির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আধুনিক জীবনেও দেবীর শক্তি সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা, নিজের সম্মান রক্ষা করা এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার সাহসই তাঁর কাছে দুর্গার প্রকৃত শিক্ষা।

দশভুজার হাতে থাকা অস্ত্রগুলোও যেন সেই বার্তা দেয়—লড়াই করার শক্তি মানুষের নিজের মধ্যেই রয়েছে। জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে এই বিশ্বাস থেকেই অনুপ্রেরণা পান বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

তাঁর উপলব্ধি, জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে প্রত্যেক নারীকে দুর্গার মতো শক্তিশালী হয়ে উঠতে হয়। কখনও নিজের জন্য, কখনও পরিবারের জন্য, আবার কখনও বৃহত্তর সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য।

‘দেবী চৌধুরানী’ চরিত্রেও খুঁজে পেয়েছেন দুর্গার শক্তি

শ্রাবন্তীর অভিনয়জীবনেও নারীশক্তির এই ধারণা বিশেষভাবে প্রভাব ফেলেছে। ‘দেবী চৌধুরানী’ চরিত্রে অভিনয় করার অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন, এই চরিত্রের মধ্যেও মা দুর্গার অসীম সাহস ও লড়াকু মানসিকতা অনুভব করেছেন।

চরিত্রটি তাঁকে নতুন করে উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পিছিয়ে গেলে চলে না। পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, নিজের অবস্থানে দৃঢ় থাকার মানসিকতা থাকতে হয়।

শ্রাবন্তীর কাছে তাই ‘দেবী চৌধুরানী’ কেবল পর্দায় অভিনয় করা একটি চরিত্র নয়; বরং সাহস, প্রতিবাদ এবং আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। এই চরিত্রের মধ্য দিয়ে তিনি যেন দেবী দুর্গার শক্তিকেই অন্যভাবে উপলব্ধি করেছেন।

এক দিনের জন্য দুর্গা হলে কী করতেন শ্রাবন্তী?

এক দিনের জন্য সত্যিই যদি দশভুজা হয়ে ওঠার সুযোগ পেতেন, তাহলে সমাজের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান করতে চাইতেন শ্রাবন্তী।

বিশেষ করে নারী সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে পুরুষদের সমস্যার দিকেও নজর দিতেন বলে তাঁর বক্তব্য। শিশু নির্যাতন ও নির্মম অত্যাচারের মতো অপরাধ বন্ধ করার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নেতিবাচকতা দূর করতে চাইতেন এই অভিনেত্রী।

বাঙালির দুর্গাপুজো মানেই ঘরের মেয়ের ফিরে আসা

বাঙালির দুর্গাপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আবেগ, স্মৃতি ও শিকড়ের টান। কৈলাস থেকে বাপের বাড়িতে উমার আগমনকে ঘিরে যে আনন্দ তৈরি হয়, তা অন্য অনেক উৎসবের তুলনায় স্বতন্ত্র।

ঢাকের শব্দ, শিউলির গন্ধ, কাশফুল, নতুন পোশাক আর মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দ—সব মিলিয়ে দুর্গাপুজো বাঙালির জীবনে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। শ্রাবন্তীর মতে, দেবীকে নিজের ঘরের মেয়ে হিসেবে আপন করে নেওয়ার ক্ষমতাই বাঙালির দুর্গাপুজোকে অনন্য করে তুলেছে।

আবার বিসর্জনের সময় দেবীকে বিদায় জানানোর মধ্যে থাকে গভীর বিষাদ। অনেকেই আবেগ ধরে রাখতে পারেন না। কিন্তু এই বিদায়ের মধ্যেও রয়েছে অপেক্ষার প্রতিশ্রুতি—মা আবার ফিরবেন, ঘরের মেয়ে আবার বাপের বাড়িতে আসবেন।

প্রতিটি নারীর হৃদয়েই বেঁচে থাকেন দুর্গা

শ্রাবন্তীর উপলব্ধিতে, মা দুর্গা একই সঙ্গে দেবী, শক্তি এবং ঘরের মেয়ে। তিনি শুধু মণ্ডপের প্রতিমায় সীমাবদ্ধ নন; মানুষের বিশ্বাস, সাহস ও জীবনসংগ্রামের মধ্যেও তাঁর উপস্থিতি অনুভব করা যায়।

নারীর মমতা যেমন পরিবারকে আগলে রাখে, তেমনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিবাদ সমাজকে নতুন পথ দেখাতে পারে। আর এই দুইয়ের সমন্বয়েই ফুটে ওঠে দুর্গার প্রকৃত শক্তি।

বছর ঘুরে দেবীর আগমন যেমন আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে, তেমনি বিসর্জন শেখায় অপেক্ষা ও ফিরে পাওয়ার অর্থ। এই আনন্দ-বিষাদ, স্মৃতি ও প্রত্যাশার মধ্যেই বেঁচে থাকে বাঙালির দুর্গাপুজো।

শ্রাবন্তীর চোখে তাই দুর্গা কোনও দূরের দেবী নন। তিনি সেই মা, যিনি সন্তানকে আগলে রাখেন; সেই নারী, যিনি প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করেন; সেই শক্তি, যা মানুষকে বারবার ঘুরে দাঁড়াতে শেখায়। আর এভাবেই দেবী দুর্গা বেঁচে থাকেন প্রতিটি নারীর হৃদয়ে।

  • সর্বশেষ