খালিজ টাইমস: সংযুক্ত আরব আমিরাতে অভূতপূর্ব পরিস্থিতিতে জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখার পেছনে নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জের কথা সামনে এসেছে। ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চলাকালীন দেশের অভ্যন্তরে সক্রিয় থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর তৎপরতা সত্ত্বেও শপিং মল, রেস্তোরাঁ ও সৈকতগুলো খোলা রেখে নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করেছিল আমিরাত সরকার। সম্প্রতি দুবাইয়ে আয়োজিত ‘ইউএই করেসপন্ডেন্টস মজলিস’-এ দেওয়া বক্তব্যে এসব স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছেন ফেডারেল ন্যাশনাল কাউন্সিলের (এফএনসি) প্রতিরক্ষা, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ড. আলি রশিদ আল নুয়াইমি।
ড. আলি রশিদ আল নুয়াইমি জানান, চলতি বছরের শুরুর দিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার বিষয়টি কেবল আকাশপথের প্রতিরক্ষাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আসল চ্যালেঞ্জ ছিল দেশের ভেতরে থাকা স্লিপার সেলগুলোর তৎপরতা রুখে দেওয়া।
এই গোপন নেটওয়ার্কগুলো ইরানি বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে ও হামলায় সহায়তা করছিল। সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর আশেপাশে এসব গোপন হুমকি চিহ্নিত করা এবং একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে যেন কোনো রকমের ভীতির সঞ্চার না হয় তা নিশ্চিত করা নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য এক অত্যন্ত জটিল পরীক্ষা ছিল।
উপসাগরীয় ও আরব বিশ্বের দেশগুলো এর আগেও ইরানের প্রতি অনুগত এবং হিজবুল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন স্লিপার সেলের আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা তৈরির প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ ইরান-সংলগ্ন এসব গুপ্তচরবৃত্তি ও নাশকতাকারী নেটওয়ার্ক উন্মোচন এবং তা নিষ্ক্রিয় করার কথা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে বাহরাইন কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে, যারা ইরানি অপারেশনের জন্য দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সংবেদনশীল তথ্য পাচার করছিল। কাতারও তাদের সামরিক ও জরুরি অবকাঠামোর ওপর তথ্য সংগ্রহকারী চক্রের সন্ধান পায়। সংযুক্ত আরব আমিরাতেও জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে, এমন ইরান-সংযুক্ত নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারের কথা প্রকাশ করা হয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যখন ইরানি হামলার আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে, তখন সংযুক্ত আরব আমিরাত জুড়ে বাসিন্দারা তাদের মোবাইল ফোনে বিশেষ জরুরি সতর্কবার্তা পান। এসব বার্তায় নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে, ঘরের ভেতরে অবস্থান করতে এবং জানালা বা খোলা জায়গা থেকে দূরে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
তবে হামলার তাৎক্ষণিক আশঙ্কা কেটে যাওয়ার পর পুনরায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক ঘোষণা করে আরও একটি বার্তা পাঠানো হয়। ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ক্রাইসিস অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এনসিইএমএ) জানায়, তাদের এই আগাম সতর্কতা ব্যবস্থাটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন ভৌগোলিক অবস্থানের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট এলাকার মানুষকে সতর্ক করে দ্রুত নিরাপদ রাখা যায়।