এআই প্রযুক্তি দিন দিন উন্নত হওয়ার পাশাপাশি মানুষের সাধারণ বোধ-বুদ্ধিকে লোপ পাইয়ে দিচ্ছে। যার কারণে রুচির বিকৃতিও ঘটছে বলে অভিমত দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মীর। সামাজিক মাধ্যমে চোখ রাখলেই তার কথা কতটা সত্যি, এর প্রমাণ মিলবে বলেও দাবি করেছেন মালয়ালাম সিনেমার নন্দিত এই তারকা। এআই নির্মিত ছবি সামাজিক মাধ্যমে চোখ রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছিল বলেই, ইনস্টাগ্রাম থেকে সরে এসেছিলেন এই অভিনেত্রী।
এই সময়সহ ভারতের একাধিক সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা গেছে, তারকারা যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের উপস্থিতি বাড়াতে, অনুরাগীর সংখ্যা বৃদ্ধি করতে এবং কাজের প্রচার করতে ব্যস্ত, তখন ঠিক উল্টো পথে হেঁটেছেন অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। ইনস্টাগ্রাম থেকে দূরে সরে গিয়ে জীবনকে আলাদাভাবে উপভোগ করা শুরু করেছেন।
কিন্তু কেন এই সিদ্ধান্ত? এ প্রশ্নে ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মীর সোজাসাপ্টা জবাব, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় তৈরি হওয়া এআই-নির্ভর কনটেন্ট এবং আমার ছবি নিয়ে অশালীন এডিটের প্রবণতায় আমি ভীষণ বিরক্ত। এই ধরনের ছবি ও এডিটের অস্তিত্ব এখনও রয়েছে। তাই সাময়িক বিরতি নয়, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখাই শ্রেয় মনে করেছি।’
অভিনেত্রী আরও জানিয়েছেন, প্রথমে ইনস্টাগ্রাম পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবেননি তিনি। কাজের প্রয়োজনে সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকা জরুরি বলে মনে করতেন। তাই প্রথম দিকে কিছুদিনের জন্য অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় রাখার কথাই ভেবেছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে উপলব্ধি করেন, এই প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় থাকার জন্য তাঁকে এমন একটি ব্যক্তিত্ব তুলে ধরতে হচ্ছে, যা সব সময় তাঁর প্রকৃত সত্তার সঙ্গে মেলে না।
ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মীর কথায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো ব্যক্তি কী পোস্ট করছেন, তার ভিত্তিতে তাঁকে নিয়ে একটা নির্দিষ্ট ধারণা তৈরি করে নেন অন্যরা। পরবর্তী সময়ে সেই ধারণার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার চাপও তৈরি হয়। অভিনেত্রীর মনে হয়েছিল, সোশ্যাল মিডিয়ায় টিকে থাকার জন্য তাঁকে যেন আলাদা একটি চরিত্রে অভিনয় করতে হচ্ছে। আর সেই চাপ থেকে মুক্তি পেতেই সরে আসার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
এদিকে কিছুদিন আগে এক জুয়েলারি প্রদর্শনীতে গিয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। কিন্তু সেই প্রদর্শনীতে তাঁর পরিহিত পোশাক নিয়ে যে নেটিজেনরা ট্রলে মেতে উঠবে, তা স্বপ্নেও ভাবেননি। যে কারণে ভারতীয়দের মানসিক ভাবনা ও সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এই তারকা।
বলেছিলেন, তারকারা কোথায় কী করবেন, কী পোশাক পরবেন, কী খাবেন, কার সঙ্গে মিশবেন– এসব বিষয় সাধারণ দর্শক নির্ধারণ করে দেবেন বলে মনে করেন না তিনি। তাই অভিনীত কাজের বাইরে অন্য কোনো বিষয় নিয়ে তাঁকে অহেতুক ট্রল করা হীন মানসিকতার পরিচয় তুলে ধরে। তাই সাধারণ বিষয় নিয়ে ট্রল বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।